25-Sep-2017
Home Media Interviews
UPCOMING NEWS
NEWSLETTER


LATEST PUBLICATION
Urban Poverty Published At : 20-10-2016 Hossain Zillur Rahman


DOWNLOADS


SOCIAL NETWORK
Share Follow Us

View RSS Feed



Newspaper


Interviews



অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দারিদ্র্য, সুশাসন, স্থানীয় সরকার, মানসম্মত শিক্ষা, টেকসই উন্নয়ন, নগরায়ণ ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নের কাজ করছেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপিআরসির প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে এর নির্বাহী চেয়ারম্যান। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের পরামর্শক, বাংলাদেশ ব্যাংক বোর্ডের সদস্য ও সার্ক পভার্টি কমিশনের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালে হোসেন জিল্লুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে তৈরি করা প্রথম দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রের খসড়ার প্রধান প্রণেতা ছিলেন। বাংলাদেশের নগরায়ণ, নগর ও গ্রামীণ দারিদ্র্য, দারিদ্র্য নির্ণয়ের সূচক, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এমএম মুসা দি আরবান স্পেক্ট্রাম: মেট্রোপলিটন টু মফস্বল নামে আপনারা (পিপিআরসি) একটি বড় কাজ করেছেন। এর পেছনে কোন বিষয়টি কাজ করেছে? এর পেছনে দুটো বড় কারণ আছে। এক. আসলে নগরায়ণের প্রকৃতিটা এখনো বাংলাদেশে সেভাবে বড় করে অনুধাবন করা হয়নি, বিশেষ করে নীতিনির্ধারক মহলে। আমরা গ্রাম না শহর এভাবে একটি বিভাজন টেনে আসছি। গবেষণা করতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি, এই যে শহর কিংবা নগরায়ণ বলছি; তাতেও বিভিন্ন স্তর রয়েছে। গ্রাম-শহরের বিভাজনটা আর বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। এটিকে আমরা বলছি গ্রাম-শহর কন্টিনিউয়াম। মানে হলো, গ্রামের মধ্যেও এখন নাগরিক ফ্যাশন। গ্রামের খাবার থেকে শুরু করে পোশাকের চাহিদায় নাগরিক চাহিদার ছাপ পড়েছে। তার পর আছে পৌরসভা। সেটি আবার অর্ধেক নগর, অর্ধেক গ্রাম। এর পর আছে আরেকটু বড় উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্র এবং জেলা পর্যায়ে ছোট শহর। তার পর জেলা পর্যায়ের বড় শহর। তার পর চট্টগ্রাম। সবশেষে ঢাকা। দেখা যাচ্ছে, গ্রাম-শহর বিভাজন আর নেই। নগরায়ণের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন নগর বাস্তবতা দাঁড়াচ্ছে, যেখানে ঢাকা হচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যাকে আমরা বলছি মেট্রোপলিটন। উল্লিখিত কাজের পেছনে নগরায়ণ কী ধরনের হচ্ছে, তার বাস্তবতাটা জোরালোভাবে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে আলোচ্য গবেষণায়। এটি শুধু নীতিনির্ধারকদের জন্য নয়, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক সবার জন্য। বাংলাদেশে অত্যন্ত দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। কিন্তু নগরায়ণের আসল চিত্র মানুষের জানা নেই। এবং নগর নিয়ে যেসব গবেষণা হয়েছে, তাতে এ বিষয়গুলো অতটা উঠে আসেনি। আবার নগর অর্থনীতির ধারণাগুলোও গবেষণায় আসেনি। নগর নিয়ে পরিকল্পনাবিদরা (প্ল্যানার) ও ভূগোলবিদরা কিছু কাজ করেছেন। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা তেমন কাজ করেননি। সেখানেও আমরা গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করেছি। যেমন ঢাকার আয় কেমন। সেটি সাতক্ষীরার আয়ের মতো কিনা। এক্ষেত্রে বিভাজন আছে কিনা। এগুলো জানার একটি বিষয় ছিল। কাজেই নগরায়ণের ধরনটা কোন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে এখানে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন ছিল। কারণ ঢাকার চিন্তাটা সাতক্ষীরায় প্রয়োগ করলে হবে না। অথবা সাতক্ষীরার বিষয়টি ঢাকায় করতে চাইলে ভুল হবে। এজন্য যে, দুটি একেবারেই ভিন্ন ধরনের বাস্তবতা। আমরা এটি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করেছি। এটি শুধু বলার বিষয় নয়, গবেষণারও বিষয়। এ কারণে আমরা গবেষণা করতে উদ্যোগী হয়েছি। সেজন্য আমরা চারটি স্তর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিটি করপোরেশনগুলো ও পৌরসভাগুলো বেছে নিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা কাজটা করেছি পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সঙ্গে পার্টনারশিপে। এক্ষেত্রে বিবিএসকে প্রভাবিত করতে চেয়েছি। কারণ এখনো বিবিএস তথ্যগুলো উপস্থাপন করছে রুরাল- আরবান ডিভাইডের পরিপ্রেক্ষিতে। তাদের বোঝাতে চেয়েছি, আসলে আরবান স্পেক্ট্রাম তাদেরও সার্ভের বিষয় হওয়া দরকার। দুই. নগরের বাস্তবতাটা বোঝার জন্য আমরা পরিবার পর্যায়ে যে ফোকাস দিয়েছি, সেটি বহুমাত্রিক। বিবিএস যে আদমশুমারি করে, সেখানে কিছু সামাজিক তথ্য পাওয়া যায়। আবার দারিদ্র্য নিয়ে হায়েস (ঐওঊঝ) যা করে, সেখান থেকে কিছু অর্থনৈতিক তথ্য পাওয়া যায়। তার মানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক তথ্য ভিন্ন ভিন্ন জরিপ থেকে আসে। কিন্তু তা একই পরিবারের ইন্টিগ্রেটেড তথ্য নয়। সামাজিক তথ্য আসছে এক পরিবার থেকে আর অর্থনৈতিক তথ্য আসছে আরেক পরিবার থেকে। ওই পরিবারের সামাজিক বা অর্থনৈতিক তথ্য যুক্ত (লিংক) করার আসলে কোনো সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে আলোচ্য গবেষণায় আমরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো একই প্রশ্নমালার অধীনে এনে দেখার চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি, যারা নগরে বসবাস করছেন তাদের একটি বহুমাত্রিক প্রশ্নমালার মাধ্যমে সার্বিক অবস্থা তুলে ধরার। এটি একটি সামগ্রিক (হলিস্টিক) অ্যাপ্রোচ। তিন. সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতি দারিদ্র্য কিছুটা কমেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় এটি কমেছে এবং সেটি প্রত্যাশিত। যদিও বাংলাদেশের ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ এখনো অতি দরিদ্র। কাজেই এখনো দারিদ্র্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। লক্ষণীয়, আসলে গ্রামীণ দারিদ্র্য কমছে। তবে দরিদ্র লোকজন এখন শহরে অবস্থান নিচ্ছে। এটি সত্য, নগরায়ণ দারিদ্র্য বিমোচনে একটি ভালো ভূমিকা পালন করে। তাই দেখা যায়, নগর দারিদ্র্যের হার গ্রামীণ দারিদ্র্যের তুলনায় কম। এখন প্রশ্ন করা যাক, মোট দরিদ্রের মধ্যে কতজন গ্রামে আর কতজন শহরে আছে? ১৯৯১-৯২ সালের এক জরিপে দেখা যায়, মোট দরিদ্রের মাত্র ১০ শতাংশ শহরে বাস করে। বাকি ৯০ শতাংশ গ্রামে বাস করে। কিন্তু ২০১০ সালের জরিপ বলছে, শহরে ৮০ শতাংশ দরিদ্রের বাস। তার মানে দারিদ্র্যের স্থানান্তর হচ্ছে। গ্রামে ছিল, এখন শহরমুখী হচ্ছে দরিদ্ররা। মজার বিষয়, শহরে বস্তিবাসীর বৃদ্ধির হার আরবান গ্রোথের চেয়ে বেশি। আরবান গ্রোথ ৩ শতাংশ হলে বস্তিবাসীর গ্রোথ তার চেয়ে ১-২ শতাংশ বেশি। তার মানে দারিদ্র্যের যে স্থানান্তরের সমস্যা, সেটি একটি বড় ধরনের ইস্যু। এবং তা নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরা জরুরি। এ ধরনের গবেষণা কি চালিয়ে যাবেন? হ্যাঁ, চালিয়ে যাব। ঢাকা নিয়ে ২০১২ সালেও একটি গবেষণা করেছি। আবার চলতি বছর (২০১৬) করেছি উল্লিখিত গবেষণা। ঢাকা নিয়ে ২০১২ এবং ২০১৬ সালে দুটো গবেষণাই করেছি আমরা। তিন বা পাঁচ বছরের মাথায় এসব জায়গায় আবার দৃষ্টি দেব, গবেষণা করব। দেখব যে, এই তিন বা পাঁচ বছরে ঢাকা কিংবা মফস্বলে কী পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনায় কি ভুল আছে? ভুল নয়, ঘাটতি আছে। নগর দারিদ্র্য নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই আমাদের নেই। মূলত পরিকল্পনা আছে গ্রামীণ দারিদ্র্য নিয়ে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো গ্রামকেন্দ্রিক। প্রাথমিক উপবৃত্তি গ্রামেই দেয়া হয়, ভিজিএফ দেয়া হয় গ্রামে। শহরে আছে শুধু ওএমএস। অনেক প্রোগাম গ্রামে আছে। শহরে নেই। শহরের প্রোগ্রাম যেমন স্যানিটেশন। এর সমাধান গ্রামে একভাবে সম্ভব। কারণ সেখানে স্থানের সীমাবদ্ধতা (স্পেস কনস্ট্রেইন্ট) নেই। নগরে কিন্তু তার সমাধান ভিন্নভাবে করতে হবে। কাজেই চিন্তার মধ্যে একটি হলো ঘাটতি। আরেকটি হলো ভুল। ঢাকার সমস্যা দিয়ে মফস্বল শহরগুলোর সমস্যা সমাধান করা যাবে না। ঢাকায় নগর দারিদ্র্য বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, নগর ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। একটি সেগমেন্টের সঙ্গে আরেকটি সেগমেন্টের কোনো মিল নেই। এটিই নগর দারিদ্র্য বাড়ার কারণ। যেমন এখানে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ভালো হলে অনেক স্যাটেলাইট শহর গড়ে উঠত। আমাদের নীতি-চিন্তার মধ্যে একটি বড় ধরনের ভ্রান্ত ধারণা আছে বস্তিগুলো অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে, নগর দরিদ্ররা শুধু বসবাস করে না, তারা কাজও করে। তাদের অন্যতম চাহিদা হলো, তাদের কাজের জায়গা আর বসবাসের জায়গা কাছাকাছি থাকতে হবে অথবা সহজে পৌঁছানো যায় এমন অবস্থায় থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের এখানে ভালো গণপরিবহন ব্যবস্থা নেই। যেমন কড়াইল বস্তি। গুলশান-বনানী এলাকার চালকের কাজ, আয়ার কাজসহ সব ছোট ছোট কাজের জন্য লোক ওখান থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন যদি বলা হয়, ওখান থেকে টঙ্গীতে তাদের সুন্দর আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তাহলে কালকেই আবার চলে আসবে তারা ওই এলাকায়। কারণ টঙ্গী থেকে ঢাকায় আসার ভালো ট্রান্সপোর্ট নেই। এ সুবিধা থাকলে তারা ঢাকায় বসবাস করতে চাইত না। এখানে নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রাখতে হবে, নগর দারিদ্র্যের সমস্যার সমাধান করতে হলে কাজ আর আবাসন হয় পাশাপাশি থাকতে হবে অথবা সহজেই পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো মেট্রোপলিটন সিটির জন্য একভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। আবার পৌরসভা ও মফস্বলগুলোর জন্য আলাদাভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। মফস্বল নিয়ে চিন্তার ঘাটতি আসলে ব্যাপক। ওখানে ভুল নয়, ঘাটতিটাই প্রধান। বহু বছর আগে এলজিইডি গ্রোথ সেন্টার স্ট্র্যাটেজি নামে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছিল। সেটি করা হয়েছিল মূলত অবকাঠামো দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এটি কোনো কাজেই দেয়নি। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে না করে অন্যখানে অবকাঠামো তৈরি করে দেয়া হয়েছে। সেটি চাহিদা চালিত ছিল না। ফলে সেটি হয়তো আর ব্যবহার হয়নি। এখন মফস্বল নিয়ে আমাদের খুব জোরালো পরিকল্পনা নিতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আসলে আমরা গ্রামীণ দারিদ্র্য কমাতে পেরেছি এক ধরনের টার্গেটেড প্রোগ্রাম দিয়ে। তবে নগর দারিদ্র্য মোকাবেলা করার ক্ষেত্রেও অবশ্যই টার্গেটেড প্রোগ্রামের ভূমিকা আছে। কিন্তু সেটি সীমিত। নগর দারিদ্র্য বাড়ার অন্যতম কারণ, নগরগুলো দরিদ্রবান্ধব নয়। আমাদের নগরনীতি ব্যাপকভাবে অভিজাতদের কথা মাথায় রেখে প্রণীত হয়। তাদের প্রয়োজনে নগর অবকাঠামোগুলো তৈরি হচ্ছে। এখানে ইতি টানা দরকার এবং এটি চূড়ান্ত অর্থে আত্মঘাতী। কারণ বিএমডব্লিউ নিয়ে যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থেকে তারাই ভোগান্তির শিকার হয়। এখন তারা পারলে উড়ে যাবে। আসলে এটি কোনো সমাধান নয়। গবেষণায় কেন নগর দারিদ্র্যকে গুরুত্ব দিলেন বেশি? নগর দারিদ্র্যের বিষয়টি সামনে আনার বড় কারণ, তাদের দৃশ্যমানতার অভাব। তাদের বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তথ্যে নেই। নীতিতেও নেই। নগরে যেসব প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, সবই অভিজাতকেন্দ্রিক। কাজেই নগর দারিদ্র্যের বিষয়টি দৃশ্যমান করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আরেকটি ইস্যু হলো, নাগরিক অধিকার। রাষ্ট্রীয় সংস্থার সামনে নগর দরিদ্ররা এক ধরনের বিপন্নতার জগতে বসবাস করে। প্রতিদিন খুন, জখম এটি বলছি না। তবে এক ধরনের অনিরাপত্তাবোধ সবসময় তাদের মধ্যে কাজ করে। হঠাত্ করে পুলিশ বলল, এখান থেকে সরে পড়ো। অথবা কিছু একটির মধ্যে পড়ে গেল। পুরো আলোচনার মধ্যে নাগরিক অধিকারের দিক থেকে কিছু বিষয় এনেছি। সেটি আবার টার্গেটেড প্রোগ্রামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত হবে না। এটি সার্বিক নগরায়ণের দিক থেকে দেখতে হবে। শুধু দরিদ্রদের নাগরিক অধিকার নয়, নগর বাসিন্দা সবার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। লক্ষণীয়, নগর অর্থনীতির বড় ক্ষেত্র হচ্ছে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে অনেকেই অবৈধ বলে ফেলে। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি সম্পূর্ণ বৈধ অর্থনীতি। কিন্তু অনানুষ্ঠানিকতাকে দোষ হিসেবে ধরা হয়। সব দেশেই এভাবে এগিয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় আমলাতান্ত্রিক চিন্তার মধ্যে অটোম্যাটিকলি ফেভার করা হয় এলিট, ফরমাল স্ট্রাকচারকে। ফলে তারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা অনেক কিছু পায়। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে অবৈধ চিন্তার করার যে নীতিপ্রবণতা, সেটিও দরিদ্রদের অনিশ্চয়তা তৈরির অন্যতম কারণ। এ বিষয়টি আমাদের ভিন্নভাবে দেখতে হবে। গ্রামীণ দারিদ্র্য কমার ক্ষেত্রে মাইক্রো ক্রেডিট বা সরকারি অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরে এটিকে কীভাবে দেখেন? এখানে অর্থায়ন কীভাবে হবে, সেটি নিয়ে চিন্তা একেবারেই হয়নি। এখানে করের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। ভালো সেবা পেলে মানুষ কর দিতে অবশ্যই আগ্রহী হয়। দেশে সেবা না দিয়ে কর নেয়ার একটি প্রবণতা আছে। এটি রোধ করতে হবে। আয়ে কেমন তফাত দেখলেন? আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা। মফস্বলে গড় আয় ঢাকার অর্ধেকেরও কম। ঢাকা, চট্টগ্রাম, মফস্বল এবং গ্রামভেদে আয়ের চারটি স্তর দেখি। ঢাকার আয় সবচেয়ে বেশি। মফস্বলের অন্তত দ্বিগুণ। মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে চট্টগ্রামের আয়। এটি হয়তো মফস্বলের গড় আয়ের চেয়ে একটু বেশি, অত বেশি নয়। যেমন ঢাকার গড় আয় ৩৬ হাজার। এটি ২০১২ সালের হিসাব। আবার বৈষম্য সব জায়গায় আছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ঢাকায়। দেখা গেছে, উচ্চবিত্তের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ লোক ঢাকার প্রায় ৪৫ শতাংশ আয় ভোগ করে। নিম্নবিত্তের ৪০ শতাংশ লোক হয়তো আয় ভোগ করে ১৮ শতাংশ। মানে বৈষম্যের বিষয়টিও এখানে অনেক বেশি। এটি মূলত আয়ের দিক থেকে বৈষম্য। আবার বৈষম্যের অন্যান্য ধরনও আমরা দেখতে পাই। দারিদ্র্য নির্ণয়ের সূচকগুলো যুগোপযোগী আছে কি? দারিদ্র্য নির্ণয়ের সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। দারিদ্র্য নির্ণয়ের সূচকগুলো যুগোপযোগী নেই। আসলে দারিদ্র্যের সূচকগুলো এখন নতুন করে চিন্তা করতে হবে। উদাহরণ দেয়া যাক। যেমন স্যানিটেশন। আমাদের একটি সূচক হলো, স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন আছে কিনা। এ সূচকে আমাদের অনেক অগ্রগতি ঘটেছে। তবে ঢাকায় এ বিষয় একটু ভিন্নতর। দেখা যায়, ঢাকায় বিশেষ করে বস্তি এলাকায় কয়েকটি পরিবারকে একটি ল্যাট্রিন শেয়ার করতে হয়। এমনকি ১০টি পরিবারও শেয়ার করছে একটি ল্যাট্রিন। স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা প্রশ্ন করা হলে উত্তর পাওয়া যাবে হ্যাঁ। কিন্তু পরের ধাপে উত্তর পাওয়া যাবে, না। আরেকটি বিষয়, আবাসন/গৃহায়ণ। আবাসনের ক্ষেত্রে পাকা না ঝুপড়ি ধরনটা নিয়ে এখন পর্যন্ত সূচকটা ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু নগর বাস্তবতায় জিজ্ঞাসা করতে হবে, মাথাপিছু স্পেস। একজন কতটুকু আয়তনে বাস করছে। সেখানে দেখা যাবে যে, অনেক অপ্রশস্ত জায়গায় মানুষ বাস করছে। কাজেই সূচকগুলো বদলাচ্ছে। এর ধরনগুলো পাল্টাচ্ছে নিয়ত। বাস্তবতাটা এগিয়ে গেছে, সূচকগুলো রয়ে গেছে পেছনে। এটিকে আমরা বলছি, আউটডেটেড আরবান স্ট্যাটিসটিকস। আমরা বিবিএসের সঙ্গে পার্টনারশিপ করছি। এতে উভয় পক্ষই লাভবান হচ্ছি। তারা আমাদের নমুনা নির্বাচনে সহায়তা করছে, আমরা প্রশ্নমালা আরো হালনাগাদকরণে সহায়তা করছি। ধারণাগুলো পরস্ফুিট করছি। যেমন স্পেক্ট্রামের ধারণা নিয়ে এসেছি। কাজেই এ ধরনের পার্টনারশিপ একটি বিশ্বাসযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য সহায়ক এবং কার্যকর নীতি প্রণয়ন করতে হলে এ তথ্যভাণ্ডার অত্যন্ত জরুরি। আশা করছি, এ জায়গায় পিপিআরসি এবং বিবিএসের পার্টনারশিপটা ভূমিকা রাখবে। সুযোগ-সুবিধা ভোগের ক্ষেত্রে কি অবস্থা? সেবার সূচকগুলোয় ঢাকার চেয়ে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে মফস্বল। জ্বালানি বিশেষ করে গ্যাসের সংযোগ নেই মফস্বলে। পিছিয়ে আছে বিদ্যুতে। বিদ্যুত্ সংযোগ আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে বলে, হ্যাঁ আছে। কয় ঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকে না? এর উত্তর যা এসেছে, তার তালিকা অনেক দীর্ঘ এবং হতাশাজনক। ঢাকায়ও এটি বড় ইস্যু। জ্বালানি, বিদ্যুত্, পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রতিটি সেবার সুযোগে সার্বিকভাবে মফস্বল অনেক পিছিয়ে। কিন্তু ঢাকায় ধনী-গরিব নির্বিশেষে জ্বালানির ক্ষেত্রে গ্যাস পায়, যা মফস্বলের চেয়ে ভালো বলা যায়। মফস্বলের আরেকটি ইস্যু কর্মসংস্থান। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে তথ্য ঘাটতি অনেক বেশি। আমাদের পরবর্তী গবেষণাকাজ হবে নগর অর্থনীতি নিয়ে। আমরা নগরের সেবামূলক অবস্থা কী, আয়ের একটি সাধারণ চিত্র তৈরি করেছি। তবে জোরালো তথ্যভাণ্ডার একেবারেই অনুপস্থিত। এমনকি অর্থনৈতিক শুমারিও। এগুলো সামগ্রিকভাবে আছে। কিন্তু সেখান থেকে নগর অংশ আলাদা করার যে গবেষণাকাজ, সেটি হয়নি। এটি আমরা বিবিএসকে প্রস্তাব করেছি। এখানেই বিবিএসের সঙ্গে আমাদের পরবর্তী পার্টনারশিপ হবে। তখন বাংলাদেশের নগর অর্থনীতির একটি চিত্রও ভালোভাবে তুলে আনতে পারব। নগরে যে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে, তা কীভাবে কমানো যায়? এ প্রশ্নের দু্ই ধরনের ব্যঞ্জনা আছে। ঢাকা শহরে নগর দারিদ্র্যের হার কত? আরেকটি হলো, মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঢাকা শহরে কতজন বাস করে? শেষোক্তটির নিরিখে বিবেচনা করলে দেখা যাবে, নিঃসন্দেহে নগর দারিদ্র্য বাড়ছে। এটি কীভাবে মোকাবেলা করব? গ্রামে যেভাবে মোকাবেলা করেছি, এখানে সেভাবে হবে না। নগরে তার সমাধান করতে হলে মফস্বল শহরে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। কীভাবে সেখানে কর্মসংস্থান করা যায়, তা চিন্তা করতে হবে। ঢাকার মতো বড় শহরগুলোয় মৌলিক সেবার অভিগম্যতা নিশ্চিত খুব গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামে পরিবহন অত গুরুত্বপূর্ণ নয়। শহরে এটি একদম লাইফলাইন। কারণ কাজে যেতে হবে। কীভাবে যাব এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় সবাইকে। কাজেই নগর দারিদ্র্যের জন্য শুধু টার্গেটেড অ্যাপ্রোচ হলে হবে না, দরিদ্রবান্ধব নগরায়ণের চিন্তা করতে হবে। শুধু দরিদ্রবান্ধবও বলব না সাধারণবান্ধব পরিকল্পনা নিতে হবে। আমাদের বিভাজনে কয়েকটি ক্যাটাগরি রেখেছি। একটি হলো দরিদ্র। আরেকটি নিম্নমধ্যবিত্ত। ঢাকার মতো বড় শহরে দরিদ্রের সঙ্গে নিম্নমধ্যবিত্ত যোগ করলে তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়। নানা ঝুঁকির মধ্যেই এ নিম্নমধ্যবিত্তদের জীবনযাপন। নগরায়ণ গ্রামীণ দরিদ্রদের এক ধরনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ করে দিচ্ছে। কিন্তু আবার অনেক ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। উন্নতি বটে, তবে এতে জীবন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ দিক থেকে যে, হঠাত্ উচ্ছেদ। আবার স্বাস্থ্য-শিক্ষার সুযোগগুলো অত সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। উচ্ছেদ হলে কর্মসংস্থানটাও উচ্ছেদ হয়ে যায়। লক্ষণীয়, আবাসনজনিত গমনাগমের এক ভয়াবহ প্রবণতা রয়েছে। কত শতাংশ ঘর বদলিয়েছে এ তথ্যগুলো আমাদের কাছে আছে। এটি একটি বাস্তবতা। এর কারণগুলোর মধ্যে কতগুলো সামাজিক বিষয়ও আছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বাড়িওয়ালার দুর্ব্যবহার। এমনিতেই আবাসনকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা আছে, তার ওপর রয়েছে ভাড়াজনিত অনিরাপত্তা। এটিও বড় ধরনের ইস্যু। গ্রামে ওনার অকুপেশন। থাকছে নিজেরা। মফস্বলেও ওনার হাউজিং আছে এখনো। মেগাসিটিগুলোয় যতই যাওয়া হবে, ততই ভাড়াজনিত অনিশ্চয়তা বাড়বে। এটি কমানোর জন্য শুধু টার্গেটেড প্রোগ্রাম নিলে হবে না, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। দেখা যাবে, আজকে একটি বস্তি উচ্ছেদ করলে কালকে আরেকটি গড়ে উঠবে। এটি নগরের ভূমির অব্যবস্থাপনারই ফল। নগর ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। এই সূত্র ধরে সমাধানের উপায় হিসেবে বলা হয়, সক্ষমতা বা সামর্থ্য বাড়ানো। আমাদের অনেক পৌরসভা আছে ১০০ বছরের পুরনো। তখন ছিল গুটিকয়েক মানুষ। এখন লক্ষ-কোটি মানুষ। ঢাকায় মানুষ কোটিরও বেশি হয়ে গেছে। শহরে একটি অংশ আরেকটি অংশের ওপর নির্ভরতা এত বেশি যে, একটিতে সমস্যা হলে অন্য অংশেও এর প্রভাব পড়ে। শহরগুলো হলো সমন্বিত বাস্তবতা (ইন্টিগ্রেটেড রিয়েলিটি)। উত্তরায় রাস্তা বন্ধ হলে এর প্রভাব শাহবাগেও পড়ে। শহরের সমন্বিত প্রকৃতি মাথায় রেখে স্থানীয় সরকারগুলো গড়ে ওঠেনি। যারা নীতি নির্ধারণ করে বা অ্যাডভোকেসিও করে, তারা কিন্তু শহরের সমন্বিত প্রকৃতি বোঝেননি। শহরগুলো সামলানোর জন্য ভিন্ন ধরনের সক্ষমতা-দক্ষতা দরকার। বিশেষ করে সমন্বিত প্রকৃতিটা বোঝা দরকার। নগর দারিদ্র্য বাড়ার অন্যতম কারণ হলো, এখানে বিশৃঙ্খলভাবে উন্নতির ধারণাগুলো আসছে। আরেকটি বিষয়, আমাদের শহরগুলোর জন্য বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। এখানে সেটি হয়নি। বরং আমরা উল্টো পথে হাঁটছি। আমি মনে করি, মফস্বলগুলো ঢাকার মতো বিশৃঙ্খল নগরায়ণের ধারায় পড়ার আগে এখানে একটি মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। আগে থেকে বিবেচনায় থাকতে হবে শহর কতখানি বাড়বে। এমন তো না যে, বিরামহীনভাবে বাড়বে। এক্ষেত্রে আগাম পরিকল্পনা নিতে হবে। আগাম পরিকল্পনার সুফলগুলো বিশ্বের অন্য দেশগুলো পাচ্ছে। অচিরেই মফস্বল নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা নেয়া দরকার। কিন্তু সেখানে তথ্যের ঘাটতি, চিন্তার ঘাটতি ব্যাপক। এসবের জন্যই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের মাধ্যমে আমরা (পিপিআরসি) একটি ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করেছি। শ্রুতিলিখন: হুমায়ুন কবির আলোকচিত্রী: রিচার্ড রোজারিও


সাক্ষাৎকার - হোসেন জিল্লুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়াবে শিক্ষিত বেকার। বুধবার তার নিজ কার্যালয় পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারে (পিপিআরসি) একান্ত সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, একই সঙ্গে গণতন্ত্র আর সুশাসনকে ছুটি দিলে চলবে না। সুষম উন্নয়ন চাইলে সুশাসনের বিকল্প নেই। দীর্ঘ এই সাক্ষাত্কারে তিনি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, বাজেট বাস্তবায়ন, উন্নয়ন, রাজনৈতিক পরিবেশসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক মানিক মুনতাসির। বাংলাদেশ প্রতিদিন : বিদায়ী বছরে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন ছিল। আর নতুন বছরের অর্থনীতি কেমন যাবে বলে আপনি মনে করেন? হোসেন জিল্লুর রহমান : বিদায়ী ২০১৫ বছরের পুরোটা সময় দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল ছিল। ফলে সরকার কোনো ধরনের চাপে পড়েনি। এ জন্য সরকারের মধ্যে বছর জুড়েই স্বস্তি ছিল। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় মানুষের জীবন ধারণের ব্যয় বেড়েছে অনেক গুণ। সে হারে মানুষের আয় বাড়েনি। শুধু তা-ই নয়, আয়ের চেয়ে ব্যয়ের গতি অনেক দ্রুত হারে বেড়েছে। ফলে সরকার স্বস্তিতে থাকলেও সাধারণ মানুষ সারা বছরই অস্বস্তিতে ভুগেছে। আসছে বছরও এর কোনো পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। আর নতুন বছরে অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। বা. প্র. : দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির বিষয়ে কিছু বলুন। হোসেন জিল্লুর : বিনিয়োগ পরিস্থিতি সারা বছরই ছিল স্থবির। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার বলছে পাবলিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। বলা হচ্ছে, পাবলিক খাতের বিনিয়োগ এখন মোট জিডিপির প্রায় ২৯ শতাংশ। কিন্তু সে অনুপাতে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার বাড়ছে না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। এটি অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যখন ১০০ টাকার প্রকল্প এক হাজার টাকার প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। খোদ পরিকল্পনা কমিশনও এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অযৌক্তিক প্রকল্পব্যয় কমিয়ে আনতে হবে। কেননা এর মাধ্যমে বৈধভাবে দুর্নীতি হচ্ছে। এটি বন্ধ করতে হবে। বা. প্র. : অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন এবং দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন। হোসেন জিল্লুর : সুষম উন্নয়ন চাইলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমান সরকার তো গণতন্ত্র ও সুশাসনকে একই সঙ্গে ছুটি দিয়েছে। এভাবে চললে কিন্তু অদূরভবিষ্যতে বাংলাদেশ বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে। গণতন্ত্র ও সুশাসনকে একই সঙ্গে ছুটি দিলে চলবে না। অনেক দেশই গণতন্ত্রকে ছুটি দিয়ে উন্নতি করেছে, করছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তারা সুশাসন আঁকড়ে ধরে কাজ করেছে, যেটি আমাদের দেশে হচ্ছে না। বলা হচ্ছে দেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর সুফল পেতে হলে এবং উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। বা. প্র. : সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি মূল্যায়ন করবেন কীভাবে? হোসেন জিল্লুর : বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল্যায়ন করতে হলে তা কমপক্ষে তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, যারা অর্থনীতির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বা আছেন তারা কতটা স্বস্তিতে ছিলেন। আরেকটি হচ্ছে, জনমানুষ কতটা স্বস্তির মধ্যে ছিল সে বিষয়। তিন নম্বর হচ্ছে, যেটি বলতে পারি, বাংলাদেশের যে মধ্যমেয়াদি আকাঙ্ক্ষা রয়েছে সেগুলো অর্জনে আমরা কত দূর এগিয়েছি। বিদায়ী বছরটা সরকার এক ধরনের স্বস্তিতে ছিল। কেননা এ সময় বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। এ ছাড়া আমাদের কৃষি খাতের বাম্পার উত্পাদন অব্যাহত ছিল এবং এখনো আছে। এ জন্য অর্থনীতিতে ওই ধরনের কোনো নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি হয়নি। অনেক দেশেই অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশে এর কোনো প্রভাব সেভাবে পড়েনি। বিদায়ী বছর অনেকগুলো বড় প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে সরকার। এটি একটি ভালো দিক। তবে এর চেয়েও বেশি, এর প্রচারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বা. প্র. : নিম্ন মধ্যম আয়ের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? হোসেন জিল্লুর : দেখুন, বর্তমানে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে। এখন শুধু পেটেভাতে খেয়ে-পরে বাঁচবে, মানুষ এমনটা আর ভাবছে না। মানুষের চাহিদার ধরন পাল্টে গেছে। এটি প্রমাণ করে যে আমরা উন্নতি করছি। কিন্তু সেসব চাহিদা পূরণ করতে না পারায় অস্বস্তি বাড়ছে। এর মাধ্যমে ধনী-গরিবের বৈষম্যটাও আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। মধ্যবিত্তদের মধ্যেই এখন আবার শ্রেণিবিন্যাস তৈরি হচ্ছে। মানুষের আয়ের গতিটা অক্ষুণ্ন রয়েছে। কিন্তু মানুষের আকাঙ্ক্ষা আর ব্যয় অনেক গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের অবস্থা খুবই খারাপ। তারা ধান-চালের দাম পাচ্ছেন না। সরকারও কিন্তু এ ক্ষেত্রে কার্যকর বা ব্যতিক্রমী কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের আয় খুব একটা বাড়েনি। আয়ের চেয়ে ব্যয়ের গতি বাড়ছে দ্রুত। শুধু গ্রামে নয়, শহরের মানুষের ব্যয় আরও বেশি বেড়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, খাদ্য, বাড়িভাড়াসহ অন্য সবগুলো খাতেই ব্যয় বাড়ছে হু হু করে। এখন বস্তির ছেলে-মেয়েরাও কোচিং সেন্টারে ভর্তি হচ্ছে। এটিও একটি উন্নতির লক্ষণ। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে নিম্ন মধ্যম আয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে এটি ভালো খবর। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, সুশাসন, মানব উন্নয়ন, সুশাসনসহ অন্য সূচকগুলোতে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। এসব নিশ্চিত করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কতটা সফলতা আসবে সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বা. প্র. : অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে সরকারের নেওয়া কৌশলগুলো কতটা সময়োপযোগী বলে আপনার মনে হয়। জিল্লুর রহমান : এখানে মধ্য মেয়াদে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের জন্য সরকারের কৌশলগত ব্যাপার কতটা কার্যকর সেটি দেখতে হবে। বাংলাদেশের মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করাটা বেশ কঠিন। বাংলাদেশ এক দশক ধরে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এটি একদিকে অর্জন। অন্যদিকে আমরা এখান থেকে আর ওপরেও উঠতে পারছি না। এর জন্য সব বড় বাধা হচ্ছে বিনিয়োগে স্থবিরতা। কেননা প্রায় এক দশক ধরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ওঠানামা করছে। আর সরকারি-বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ২৯ শতাংশ। এটিকে ৩৪ শতাংশে নিতে হবে। বিনিয়োগের কার্যকারিতা দেখাতে হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। সেটি হচ্ছে না। বা. প্র. : বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ভবিষ্যতে সবচেয়ে সমস্যা কী বলে আপনি মনে করেন? হোসেন জিল্লুর : বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘ মেয়াদে তিনটি বড় সমস্যা প্রতীয়মান হচ্ছে। এর একটি বিনিয়োগে স্থবিরতা। আরেকটি ২০১৬ সালের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হচ্ছে শিক্ষিত বেকার। অন্যটি হচ্ছে, অবাসযোগ্য শহর। বাংলাদেশের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠী না-খেয়ে থাকবে, এটি আজকের অর্থনৈতিক সংকটের চেহারা নয়। কারণ ওই জায়গায় আমরা অনেক শক্ত অবস্থানে চলে এসেছি। আজ সংকটটা অন্য রকম। যেমন এমএ পাস করে পিয়নের চাকরি করছে। এর মানে কী। আমরা শিক্ষার মূল্যায়ন করছি না। আবার কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে পারছি না। এতে প্রতিবছর যে ২০ লাখ শিক্ষিত যুবক-যুবতী শ্রম ও কর্মবাজারে ঢুকছে, এর একটা অংশ পাঁচ বা সাত লাখ বাইরে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাত। সেটিও কিন্তু সংকুচিত হচ্ছে। এই যে আন্দামান হয়ে যারা বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, তাদের বেশির ভাগই কিন্তু শিক্ষিত। এদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতও রয়েছে। তারা দেশে কাজ পাচ্ছে না। ফলে বিদেশে গিয়ে নিম্নমানের কাজ করতেও প্রস্তুত। শুধু তা-ই নয়, জীবন বাজি রেখে তারা কাজের সন্ধানে বিদেশে যাচ্ছিল। তাদের বেশির ভাগই কিন্তু কাজ পাচ্ছে না। এখানে একটি বিষয় খুব উদ্বেগজনক, ভারত বিশ্বের যে দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স আয় করে থাকে, এর মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে চতুর্থ। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে তারা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আয় করে থাকে, যা বাংলাদেশ ভারত থেকে আয় করতে পারে না। ভারতের লোকজন কোথায় কোথায় গিয়ে কাজ করছে। আয় করছে। আবার সেটি দেশে পাঠাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের অর্থকড়ি কর্মসংস্থানের একটা বড় অংশ বাংলাদেশিরা পাচ্ছে না। এটি ভারতসহ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এর মানে আমরা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারছি না। আবার শিক্ষিত মানুষ উত্পাদন করছি। বা. প্র. : আমাদের সামগ্রিক শিক্ষা খাতের অবস্থা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? হোসেন জিল্লুর : আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষায় ভয়ঙ্কর রকমের ফাঁকি রয়েছে। শুধু সার্টিফিকেট-নির্ভর একটি ব্যবস্থা আমরা চালু করতে পেরেছি। এটিই কিন্তু একসময় আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। এই সার্টিফিকেট-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার অবধারিত পরিণতি হচ্ছে এমএ পাস পিয়ন। শিক্ষায় সুশাসনের ঘাটতিটা ভয়ঙ্কর জায়গায় চলে গেছে। এ অবস্থানের উন্নয়নে বড় ধরনের চিন্তাভাবনা করছে না সরকার। যেমন পদ্মা সেতু, টানেল, মেট্রোরেলের মতো অনেক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষা খাতের মান উন্নয়নে বড় কোনো বরাদ্দ বা বড় কোনো প্রকল্প লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। শিক্ষা খাতটা টেক্সট বই বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। বা. প্র. : ভবিষ্যতে মধ্যমেয়াদি অর্থনীতির উত্তরণের সম্ভাবনায় বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে বলে আপনি মনে করেন? হোসেন জিল্লুর : ভবিষ্যতে অর্থনীতির বড় সংকট হিসেবে দেখা দেবে শিক্ষিত বেকার। এখানে সবচেয়ে সব বিষয় হচ্ছে কর্মসংস্থান। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। কেননা এখানে দক্ষতার অভাব। কর্মসংস্থানের ঘাটতি রয়েছে। এখানেই বাংলাদেশের আগামী দিনের অর্থনীতির মূল চ্যালেঞ্জ। এটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে আরও মনোযোগী হতে হবে। নিম্ন মধ্যম আয় থেকে মধ্যম আয়ের দেশে যেতে হলে শুধু অর্থনীতি নয়, পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সূচক, মানব উন্নয়নসহ অন্য সূচকগুলোতে ভালো করতে হবে। বা. প্র. : আপনি অবাসযোগ্য নগরায়ণের কথা বলছিলেন। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করুন। হোসেন জিল্লুর : বাংলাদেশে নগরায়ণ হচ্ছে দ্রুতগতিতে। কিন্তু সেটি অবাসযোগ্য। কেননা কোনো ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই উঁচু উঁচু ভবন হচ্ছে। এখানে দেখুন, ঢাকা শহর গত ৩০ বছরে অনেকটা বেড়েছে। আর চট্টগ্রাম কিন্তু ১৫ বছরে এর চেয়েও বেশি বেড়েছে। এতে কোনো পরিকল্পনার বালাই নেই। সবই অপরিকল্পিত। যে যে পারছে ভবন তৈরি করছে। রাস্তাঘাট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পরিবেশ, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, মাঠ-ঘাট, এসব বিষয় আমলে নেওয়া হয় না। ঢাকার সব সমস্যাই এখন চট্টগ্রামেও চলে গেছে। এমনকি জেলা শহরেও ঢাকার মতো সমস্যাগুলো চোখে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার স্বল্পমেয়াদি অনেকগুলো কাজ করতে পেরেছে। কিন্তু মধ্য মেয়াদে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। বাংলাদেশ কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি একটি বিশাল শক্তি। কিন্তু সেটি আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। যারা দেশ পরিচালনায় আসছেন, আবার যারা পরিচালনায় আসতে চান, তাদের এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। নিত্যনতুন চিন্তাভাবনা করতে হবে। পেশাজীবীদেরও এ বিষয় নিয়ে অনেক কিছু করণীয় রয়েছে। সবাইকে এ বিষয়গুলো উপলদ্ধি করতে হবে। বা. প্র. : দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু বলুন। হোসেন জিল্লুর : দেখুন, এখানে রাজনৈতিক পরিবেশ খুব একটা সহনীয় থাকে না। বছরের বেশির ভাগ সময়ই উত্তপ্ত থাকে। এর কারণ হচ্ছে সহনশীলতা নেই। রাজনীতিতে সুশাসন ও জবাবদিহি নেই। যেমন দেখুন বিরোধী দল (বিএনপি) প্রচণ্ড রকম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। মোটামুটি সব ক্ষেত্রেই সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি। সব জায়গাতে সরকারের জোরালো অবস্থান। কিন্তু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আস্থার সংকট কাটাতে পারছে না। কারণ শেষ বিচারে অনিশ্চয়তার সংকটটা দূর করতে পারছে না। তারা তা পারত, যদি গণতন্ত্র ও সুশাসনকে সুসংহত করতে পারত। অথবা গণতন্ত্রকে ছুটি দিয়ে যদি সুশাসন নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু সেটি তো হচ্ছে না। একই সঙ্গে দুটোকেই ছুটি দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো কাজ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে হবেও না। বা. প্র. : আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। হোসেন জিল্লুর : বাংলাদেশ প্রতিদিনকেও ধন্যবাদ।