25-Sep-2017
Home Media
UPCOMING NEWS
NEWSLETTER


LATEST PUBLICATION
Urban Poverty Published At : 20-10-2016 Hossain Zillur Rahman


DOWNLOADS


SOCIAL NETWORK
Share Follow Us

View RSS Feed



Newspaper


Events



ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ থেকে ৩ শতাংশ। অর্থনীতিতে এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা জরুরি। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটাতে ‘সেইফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্স (স্রোতা)’ নামে একটি নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এ জোটের হয়ে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ব্র্যাক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমারজেন্সি মেডিসিন। এছাড়া ব্যক্তি হিসেবে এ জোটের সঙ্গে আছেন গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান। জোটের দাফতরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক। সংবাদ সম্মেলনে জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এ সময় অন্যদের মধ্যে ব্র্যাকের স্ট্র্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের চেয়ারপারসন ইলিয়াস কাঞ্চন, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শ্রোতাকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে হোসেন জিল্লুর রহমান আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা একটি ফলপ্রসূ কার্যকারিতা আনতে চাই। আর এই কার্যকারিতা আনতে হলে সবার ধারাবাহিক সহযোগিতা দরকার। এজন্যই জোটবদ্ধ হওয়া।


সাইদ রিপন: সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সচেতনতা আনা ও এর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটাতে ‘সেইফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট এলায়েন্স’ (স্রোতা) নামে একটি নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ৬টি সংগঠনের এই জোট ভবিষ্যতে একটি জাতীয় তথ্য ভান্ডার তৈরিতে কাজ করবে। একটি কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জোট কাজ করবে বলে জানালেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। গতকাল শনিবার সকালে ব্র্যাকের সহযোগিতায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ রুপরেখা তুলে ধরেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক-এর স্ট্র্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের চেয়ারপারসন ইলিয়াস কাঞ্চন, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমানসহ নাগরিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৪ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বাৎসরিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১-৩ শতাংশ। অর্থনীতিতে এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা জরুরি। এই অবস্থায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এই প্ল্যাটফর্মে সরকারি কোনো প্রতিনিধি নেই-এই প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি আগেই বলছি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে এক সঙ্গে কাজ করা। কারণ সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি শুধু সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়ও জড়িত। এজন্য এখানে চাইলে সবাইকে আনা যাবে না। সম্পাদনা: সৈয়দ নূর-ই-আলম


যায় যায় দিন রিপোর্ট সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে 'সেভ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্স: স্রোতা'। সড়ক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ জোট গঠন করা হয়েছে। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে 'স্রোতা'র আত্মপ্রকাশের কথা জানানো হয়। ছয়টি সংগঠনের সমন্বিত অংশগ্রহণ থাকবে স্রোতায়। সংগঠনগুলো হলো নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমারজেন্সি মেডিসিন। এ ছাড়া ব্যক্তি হিসেবে এ জোটে আছেন গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান। জোটের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক।+ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিপিআরসির সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, সৈয়দ আবুল মকসুদ, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও শ্রমিক নেতা মোখলেসুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনা মহামারি আকার ধারণ করেছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে এ জোট। প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন দেয়া হবে এ জোটের পক্ষ থেকে। স্রোতা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কোনো সংগঠন এ জোটে যুক্ত হতে চাইলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান হোসেন জিল্লুর রহমান।


বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখন নতুন মহামারী। সড়ক-মহাসড়কে যেসব দুর্ঘটনা ঘটে তা প্রথমত এক ধরনের মানবিক বিপর্যয় কিংবা নতুন কোনো মহামারী। দ্বিতীয়ত যাত্রী দুর্ভোগের নতুন মাত্রা। তৃতীয়ত অর্থনৈতিক বিকাশে সড়ক পরিবহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় মাথায় নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উদ্যোগ নিতে হবে। সেটি মাথায় নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে ‘সেভ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্স—স্রোতা’। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে স্রোতার আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব বলেন তিনি। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার—পিপিআরসির সভাপতি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সড়ক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ জোট গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতের মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা; যা জিডিপির ১-৩ শতাংশ। অর্থনীতিতে এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা জরুরি। এ অবস্থায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনা এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে এ জোট। গত ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে অনেকে অনেক তথ্য দিয়েছেন। যেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের মতো ছিল না; যার কারণে এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমাদের এই নতুন সংগঠনের উদ্দেশ্য থাকবে তথ্যের যা ঘাটতি আছে তা পূরণ করা। অর্থাৎ জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা; যাতে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা যায়। এটা এক ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়ক এবং পরিবহন দুটি বিষয়ই মাথায় রাখা হয়েছে। আর গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান স্রোতার গঠন নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে কর্মপরিকল্পনা চলছিল। এতে সম্মিলিত দৃষ্টিকোণ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এ সংগঠন গড়ার ক্ষেত্রে আমরা কোনো ধরনের ডুপ্লিকেট করছি না এবং আমাদের মধ্যে কোনো ডুপ্লিকেশন নেই। তিনি বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনা, আইনি ও অবকাঠামোগত ঘাটতি এবং দক্ষ চালকের অভাবে দুর্ঘটনা ঘটে। আর এসব দূর করতে স্রোতা জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়া, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত, বিষয়ভিত্তিক পলিসি ডায়ালগ ও গণপরিবহনের কল্যাণে নীতি প্রণয়ন এবং জেলা প্রেরণা সফরের মধ্য দিয়ে চার ধরনের কাজ করবে বলে জানান ড. জিল্লুর। ব্র্যাক, নিরাপদ সড়ক চাই—নিসচা, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার—পিপিআরসি, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমারজেন্সি মেডিসিন— এ ছয়টি সংগঠনের সমন্বিত অংশগ্রহণে স্রোতা যাত্রা করেছে। এ ছাড়া ব্যক্তি হিসেবে এই জোটে আছেন গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান। আর জোটের দাফতরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক। জোটের আত্মপ্রকাশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির সিনিয়র পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাইয়ের চেয়ারপারসন ইলিয়াস কাঞ্চন, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান।


নিজস্ব প্রতিবেদক: সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সচেতনতা সৃষ্টি ও এর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটাতে সেইফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্স (শ্রোতা) নামে একটি নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ৬টি সংগঠনের এই জোট ভবিষ্যতে একটি জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরিতে কাজ করবে। একটি কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জোট কাজ করবে। গতকাল ব্র্যাকের সহযোগিতায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ভবিষ্যত্ রূপরেখা তুলে ধরেন অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের চেয়ারপারসন ইলিয়াস কাঞ্চন, লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমানসহ নাগরিক ও সুশীল সমাজের নেতারা। জোটে অন্তর্ভুক্ত ৬টি সংগঠন হল-নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও সোসাইটি ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিন। এ ছাড়া সৈয়দ আবুল মকসুদ ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান এ জোটের সঙ্গে কাজ করবেন। জোটের সব পর্যায়ের দাফতরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক। সংবাদ সম্মেলনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর চার হাজার মানুষ মারা যায়। দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ থেকে ৩ শতাংশ। অর্থনীতিতে এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা জরুরি। এই অবস্থায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের চেয়ারপারসন ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি আগেই বলেছি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করা উচিত। কারণ সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি শুধু সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়ও জড়িত।


ঢাকা: সরকারি হিসাব মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে চার হাজার মানুষ মারা যায়। দুর্ঘটনাজনিত কারণে প্রতিবছর ক্ষয়ক্ষতি হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকার। যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ থেকে ৩ শতাংশ। শনিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গঠিত সংগঠনগুলোর নতুন জোট ‘শ্রোতা’র আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শ্রোতার আহ্বায়ক কমিটির প্রধান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান নতুন এ জোটের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেন। ‘শ্রোতা’ জোটে রয়েছে হোসেন জিল্লুরের পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এবং সোসাইটি ফর ইমারজেন্সি মেডিসিন সহ ৬টি সংগঠন। ব্যক্তিপর্যায়ে জোটভুক্ত রয়েছেন কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ ও বাংলাদেশ সড়ক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোকলেছুর রহমান। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে ‘শ্রোতা’র আত্মপ্রকাশ। এ জোটের আত্মপ্রকাশকে গুরুত্ববহ ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশেষ সংস্থা গড়ার জন্য আন্দোলন করে আসছি দীর্ঘদিন। সরকার কানে নিচ্ছে না। তাই সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে এই জোট গড়া হয়েছে। নিসচা চেয়ারম্যান জানান, ২৩ বছরের আন্দোলনের ফলে বেশ কিছু কাজ করেছে সরকার এবং সড়ক দুর্ঘটনা পাঁচ বছর আগের চেয়ে এখন কমেছে।


টিবিটি জাতীয়: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা আনা ও এর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটাতে ‘সেইফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট এলায়েন্স’ (শ্রোতা) নামে একটি নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। ৬টি সংগঠনের এই জোট ভবিষ্যতে একটি জাতীয় তথ্য ভান্ডার তৈরিতে কাজ করবে। একটি কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জোট কাজ করবে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান আজ শনিবার সকালে ব্র্যাকের সহযোগিতায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। ব্র্যাকের স্ট্র্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির উর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের চেয়ারপার্সন ইলিয়াস কাঞ্চন, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমানসহ নাগরিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। জোটে অন্তর্ভুক্ত ৬টি সংগঠন হচ্ছে: নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিন। এছাড়া গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান এ জোটের সঙ্গে কাজ করবেন। জোটের সকল পর্যায়ের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক। সংবাদ সম্মেলনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বাৎসরিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ থেকে ৩ শতাংশ। অর্থনীতিতে এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা জরুরি। এই অবস্থায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।শ্রোতাকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে এর ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা একটি ফলপ্রসূ কার্যকারিতা আনতে চাই। আর এই কার্যকারিতা আনতে হলে সবার ধারাবাহিক সহযোগিতা দরকার। এজন্য আমাদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ।ব্র্যাকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা বলা হয়।– বাসস


স্টাফ রিপোর্টার : সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে ‘সেফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্স: 'স্রোতা'। সড়ক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ জোট গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে 'স্রোতা'র আত্মপ্রকাশের কথা জানানো হয়। ৬টি সংগঠনের সমন্বিত অংশগ্রহণ থাকবে 'স্রোতা'য়। সংগঠনগুলো হলো নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমারজেন্সি মেডিসিন। এ ছাড়া ব্যক্তি হিসেবে এ জোটে আছেন গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান। জোটের দাফতরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিপিআরসির সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, সৈয়দ আবুল মকসুদ, যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও শ্রমিক নেতা মোখলেসুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনা মহামারি আকার ধারণ করেছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে এ জোট। প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন দেয়া হবে এ জোটের পক্ষ থেকে। 'স্রোতা' সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কোনো সংগঠন এ জোটে যুক্ত হতে চাইলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান হোসেন জিল্লুর রহমান।


Six non-government organisations yesterday created a platform, Safe Roads and Transports Alliance (SROTA), to build a national database on road accidents. The launch was announced at a news conference at Jatiya Press Club in the capital. The six organisations are Nirapad Sarak Chai, Brac, Power and Participation Research Centre (PPRC), Bangladesh Bus-Truck Owners' Association, Bangladesh Jatri Kalyan Samity, and Bangladesh Society for Emergency Medicine. Around 4,000 people are killed in road accidents in the country every year, causing an estimated economic loss of Tk 5,000 crore, said Dr Hossain Zillur Rahman, founder-chairman of PPRC, citing official data. The economic loss constitutes nearly one to three percent of the Gross Domestic Product (GDP), said Hossain, a former caretaker government adviser. Syed Abul Moksud, columnist, and Mokhlesur Rahman, organising secretary of Bangladesh Sarak Paribahan Sramik Federation, will give support to the alliance, while Brac would provide the secretarial space for it. The alliance would work to help reduce recurrence of road accidents, said Dr Hossain, replying to a question. Road accidents are a major roadblock to the country's economic development, said Asif Saleh, of strategy, communications and empowerment programme of Brac. Ilias Kanchan, chairperson of Nirapad Sarak Chai, was present among others.


Former caretaker government adviser Dr Hossain Zillur Rahman on Saturday called upon all to work together to get rid of road accidents, subsequent loss of lives saying some 4,000 people die every year in Bangladesh due to road accidents. He said Bangladesh also suffers an economic loss of nearly Tk 5 billion annually for road crashes. The renowned economist was addressing a press conference at the National Press Club in Dhaka where a new platform, ‘Safe Roads and Transport Alliance (Srota)’, was launched to create awareness among all to reduce road accidents and help improve overall road management. Brac’s senior director of strategy, communications and empowerment programme Asif Saleh, chairperson of Nirapod Sorok Chai Ilias Kanchan, prominent writer and researcher Syed Abul Maksud, general secretary of Bangladesh Passenger Welfare Association Mozammel Haque Chowdhury, organising secretary of Bangladesh Road Transport Workers Federation Mukhlesur Rahman, and civil society leaders were also present, according to a press release.


Former caretaker government adviser Dr Hossain Zillur Rahman on Saturday called upon all to work together to get rid of road accidents, subsequent loss of lives saying some 4,000 people die every year in Bangladesh due to road accidents He said Bangladesh also suffers an economic loss of nearly Tk 5 billion annually for road crashes. The renowned economist was addressing a press conference at the Jatiya Press Club where a new platform, ‘Safe Roads and Transport Alliance (Srota)’, was launched to create awareness to help improve overall road management. Brac’s senior director of strategy, communications and empowerment programme Asif Saleh, chairperson of Nirapod Sorok Chai Ilias Kanchan, prominent writer and researcher Syed Abul Maksud, organising secretary of Bangladesh Road Transport Workers. Federation Mukhlesur Rahman, and civil society leaders were, among others, present, said a press release. Nirapod Sorok Chai, Brac, Power and Participation Research Centre (PPRC), Bangladesh Bus-Truck Owners Association, Bangladesh Passenger Welfare Association and Bangladesh Society for Emergency Medicine are the six organizations working on behalf of the alliance. Researcher and writer Syed AbulMaksud, organising secretary of Bangladesh Road Transport Workers Federation Mukhlesur Rahman, will work with the alliance. Brac will be handling all the official responsibilities for the alliance.


A Civic Alliance of Concerned Institutions and Individuals.


4,000 lose lives every yr in Bangladesh Road Accidents: Zillur. DHAKA : Former caretaker government adviser Dr Hossain Zillur Rahman on Saturday called upon all to work together to get rid of road accidents, subsequent loss of lives saying some 4,000 people die every year in Bangladesh due to road accidents, reports UNB. He said Bangladesh also suffers an economic loss of nearly Tk 5 billion annually for road crashes. The renowned economist was addressing a press conference at the Jatiya Press Club where a new platform, ‘Safe Roads and Transport Alliance (Srota)’, was launched to create awareness among all to reduce road accidents and help improve overall road management. Brac’s senior director of strategy, communications and empowerment programme Asif Saleh, chairperson of Nirapod Sorok Chai Ilias Kanchan, prominent writer and researcher Syed Abul Maksud, general secretary of Bangladesh Passenger Welfare Association Mozammel Haque Chowdhury, organising secretary of Bangladesh Road Transport Workers Federation Mukhlesur Rahman, and civil society leaders were, among others, present, said a press release. Nirapod Sorok Chai, Brac, Power and Participation Research Centre (PPRC), Bangladesh Bus-Truck Owners Association, Bangladesh Passenger Welfare Association and Bangladesh Society for Emergency Medicine are the six organizations working on behalf of the alliance. Researcher and writer Syed AbulMaksud, organising secretary of Bangladesh Road Transport Workers Federation Mukhlesur Rahman, will work with the alliance. Brac will be handling all the official responsibilities for the alliance. Mentioning ‘Srota’ as a unified platform, Hossain Zillur said, “We would like to bring a rewarding change to check road accidents.We need to take a coordinated initiative.”


A civic alliance of concerned institutions and individuals has been formed on Saturday as part of an integrated and effective effort to cut off the number of road accidents across the country. The newly formed alliance named 'Safe Roads and Transport Alliance (SROTA)' was formally declared by Executive Chairman of Power and Participation Research Center (PPRC) Dr Hossain Zillur Rahman at a press conference at National Press Club in the city at 11:30am. Organizations associated with the alliance are: Nirapad Sarak Chai, BRAC, PPRC, BBTOA, Bangladesh Passenger Welfare Association (BPWA) and Bangladesh Society for Emergency Medicine. Besides researcher and writer Syed Abul Maksud and Organizing Secretary of BSPSF Mokhlesur Rahman have expressed solidarity with the step and declared to work with the alliance. BRAC will conduct the official works of the alliance, while the alliance will work to create awareness for reducing road accidents and to improve the overall management process in this regard, said speakers at the press conference. "In addition to create wide-ranging mass-awareness, no alternative of working together to reduce road accidents that claim around 4,000 lives and injured scores of others every year in the country," the speakers also claimed at the launching program of SROTA. The press conference was attended by film star and chairperson of Nirapad Sarak Chai Ilias Kanchan, senior manager of Strategy, Communi-cation and Empowerment program under BRAC Asif Saleh, Syed Abul Maksud, BPWA General Secretary Mozammel Haque Chow-dhury and Mukhlesur Rahman, among others.


সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য গঠন করা হয়েছে ‘সেইফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্স: শ্রোতা’। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন ও কয়েকজন ব্যক্তির যৌথ উদ্যোগে এ জোট গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘শ্রোতা’র আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর উদ্যোক্তারা বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি ‘মহামারিতে’ রূপ নিয়েছে। এককভাবে আন্দোলন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা কঠিন। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সমস্যার সমাধান দ্রুত ঘটানো সম্ভব। এ জন্যই শ্রোতার আত্মপ্রকাশ। প্রতিবছর শ্রোতার পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া নানা ধরনের সভা, সংলাপ ও চালক প্রশিক্ষণসহ সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। ছয়টি সংগঠনের সমন্বিত অংশগ্রহণ থাকবে শ্রোতায়। সংগঠনগুলো হলো নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমারজেন্সি মেডিসিন। এ ছাড়া ব্যক্তি হিসেবে এ জোটে আছেন লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান। জোটের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক। আর জোটের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে হোসেন জিল্লুর রহমান, ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার, সোসাইটি ফর ইমারজেন্সি মেডিসিনের সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও বাংলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর ৪ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বাৎসরিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা। যা জিডিপির ১ থেকে ৩ শতাংশ। এ অবস্থায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানিকে মহামারি উল্লেখ করে বলেন, এত দিন তিনি একা বলেছেন, সে জন্য গুরুত্ব দেয়নি সরকার। এখন সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তুললে গুরুত্ব বাড়বে। ব্র্যাকের আসিফ সালেহ বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত বা আহতদের ৭২ শতাংশই কর্মক্ষম ব্যক্তি। ফলে এর প্রভাব নিজের, পরিবারের ও দেশের ওপর পড়ছে। তিনি জানান, এই জোটে আরও নতুন কোনো সংগঠন যুক্ত হতে চাইলে পারবে। হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর ঠিকমতো চিকিৎসা দেওয়া গেলে প্রাণহানির পরিমাণ অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব। আলোচনায় আরও অংশ নেন পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ফারুক তালুকদার, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও শ্রমিক ফেডারেশনের মোখলেছুর রহমান। এই বক্তারা একে অপরের প্রতি দোষারোপ না করে সবাই মিলে দুর্ঘটনা রোধে কাজ করার আহ্বান জানান।


সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সচেতনতা সৃষ্টি ও এর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গতকাল শনিবার ‘সেইফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট এলায়েন্স (শ্রোতা) নামের একটি নতুন জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। ছয়টি সংগঠনের এই জোট সড়ক দুর্ঘটনাসংক্রান্ত একটি জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরিতে কাজ করবে। সংগঠনগুলো হচ্ছে—নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিন। এ ছাড়াও গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান জোটের সঙ্গে কাজ করবেন। জোটের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর চার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১.৩ শতাংশ।


সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘সেইফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট এলায়েন্স’ (শ্রোতা) নামের একটি নতুন জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। ৬টি সংগঠন ও দু’জন ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত এ জোট দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় ও দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কাছে তথ্য-উপাত্ত ও সুপারিশ তুলে ধরবে। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ জোটের ঘোষণা দেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। জোটের অন্তর্ভুক্ত ছয়টি সংগঠন হল : নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, পিপিআরসি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিন। এ ছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ের দু’জন সদস্য হলেন : গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান। জোটের দাফতরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক। সংবাদ সম্মেলনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন বছরের পর বছর কাজ করছে। আমরা মনে করেছি, এসব সংগঠন একত্র হওয়া দরকার। নিরাপদ সড়ক গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করা দরকার। সে লক্ষ্যে এ জোট গঠন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বাৎসরিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১-৩ শতাংশ। অর্থনীতিতে এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা জরুরি। এ অবস্থায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। আগামী এক বছর পর অর্থাৎ ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ওয়াচ-২০১৭ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। ওই প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকারের উপায় চিহ্নিত করা থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক।


সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যভাণ্ডার তৈরিতে কাজ করবে ‘সেইফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্স’ (শ্রোতা)। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সচেতনতা বৃদ্ধি ও এর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটাতে সম্প্রতি নতুন এ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ছয়টি সংগঠনের এ জোট ভবিষ্যতে একটি জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরিতে কাজ করবে। গতকাল ব্র্যাকের সহযোগিতায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের চেয়ারপারসন ইলিয়াস কাঞ্চন, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমানসহ নাগরিক ও সুশীল সমাজের নেতারা। জোটে অন্তর্ভুক্ত ছয়টি সংগঠন হচ্ছে— নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিন। এছাড়া গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান এ জোটের সঙ্গে কাজ করবেন। জোটের সব পর্যায়ের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক।


সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে নতুন জোট গঠন করা হয়েছে। নতুন এ জোটের নাম ‘সেভ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্স: স্রোতা’। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ জোটের আত্মপ্রকাশের কথা জানানো হয়। এই জোটের সঙ্গে রয়েছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমারজেন্সি মেডিসিন। এ ছাড়া ব্যক্তি হিসেবে এ জোটে রয়েছেন গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান। জোটের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিপিআরসির সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, সৈয়দ আবুল মকসুদ, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও শ্রমিক নেতা মোখলেসুর রহমান।


সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা আনা ও এর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটাতে ‘সেইফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট এলায়েন্স’ (শ্রোতা) নামে একটি নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। ছয়টি সংগঠনের এই জোট ভবিষ্যতে একটি জাতীয় তথ্য ভাণ্ডার তৈরিতে কাজ করবে। একটি কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জোট কাজ করবে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান আজ শনিবার সকালে ব্র্যাকের সহযোগিতায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। ব্র্যাকের স্ট্র্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির উর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের চেয়ারপারসন ইলিয়াস কাঞ্চন, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমানসহ নাগরিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। জোটে অন্তর্ভুক্ত ছয়টি সংগঠন হচ্ছে: নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিন। এছাড়া গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান এ জোটের সাথে কাজ করবেন। জোটের সব পর্যায়ের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক। সংবাদ সম্মেলনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় চার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বাৎসরিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ থেকে ৩ শতাংশ। অর্থনীতিতে এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা জরুরি। এই অবস্থায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। শ্রোতাকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা একটি ফলপ্রসূ কার্যকারিতা আনতে চাই। আর এই কার্যকারিতা আনতে হলে সবার ধারাবাহিক সহযোগিতা দরকার। এজন্য আমাদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ। ব্র্যাকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা বলা হয়।


Former caretaker government adviser Dr Hossain Zillur Rahman on Saturday called upon all to work together to get rid of road accidents, subsequent loss of lives saying some 4,000 people die every year in Bangladesh due to road accidents. He said Bangladesh also suffers an economic loss of nearly Tk 5 billion annually for road crashes. The renowned economist was addressing a press conference at the Jatiya Press Club where a new platform, ‘Safe Roads and Transport Alliance (SROTA)’, was launched to create awareness among all to reduce road accidents and help improve overall road management. Brac’s senior director of strategy, communications and empowerment programme Asif Saleh, chairperson of Nirapod Sorok Chai Ilias Kanchan, prominent writer and researcher Syed Abul Maksud, general secretary of Bangladesh Passenger Welfare Association Mozammel Haque Chowdhury, organising secretary of Bangladesh Road Transport Workers Federation Mukhlesur Rahman, and civil society leaders were, among others, present, said a press release. Nirapod Sorok Chai, BRAC, Power and Participation Research Centre (PPRC), Bangladesh Bus-Truck Owners Association, Bangladesh Passenger Welfare Association and Bangladesh Society for Emergency Medicine are the six organizations working on behalf of the alliance. Researcher and writer Syed AbulMaksud, organising secretary of Bangladesh Road Transport Workers Federation Mukhlesur Rahman, will work with the alliance. BRAC will be handling all the official responsibilities for the alliance. Mentioning ‘Srota’ as a unified platform, Hossain Zillur said, “We would like to bring a rewarding change to check road accidents. We need to take a coordinated initiative.”


Former caretaker government adviser Dr Hossain Zillur Rahman on Saturday called upon all to work together to get rid of road accidents, subsequent loss of lives saying some 4,000 people die every year in Bangladesh due to road accidents. He said Bangladesh also suffers an economic loss of nearly Tk 5 billion annually for road crashes. The renowned economist was addressing a press conference at the Jatiya Press Club where a new platform, ‘Safe Roads and Transport Alliance (Srota)’, was launched to create awareness among all to reduce road accidents and help improve overall road management. Brac’s senior director of strategy, communications and empowerment programme Asif Saleh, chairperson of Nirapod Sorok Chai Ilias Kanchan, prominent writer and researcher Syed Abul Maksud, general secretary of Bangladesh Passenger Welfare Association Mozammel Haque Chowdhury, organising secretary of Bangladesh Road Transport Workers Federation Mukhlesur Rahman, and civil society leaders were, among others, present, said a press release. Nirapod Sorok Chai, Brac, Power and Participation Research Centre (PPRC), Bangladesh Bus-Truck Owners Association, Bangladesh Passenger Welfare Association and Bangladesh Society for Emergency Medicine are the six organizations working on behalf of the alliance. Researcher and writer Syed AbulMaksud, organising secretary of Bangladesh Road Transport Workers Federation Mukhlesur Rahman, will work with the alliance. Brac will be handling all the official responsibilities for the alliance. Mentioning ‘Srota’ as a unified platform, Hossain Zillur said, “We would like to bring a rewarding change to check road accidents. We need to take a coordinated initiative.”


সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা আনা ও এর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটাতে ‘সেইফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট এলায়েন্স’ নামে একটি নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। ৬টি সংগঠনের এই জোট ভবিষ্যতে একটি জাতীয় তথ্য ভাণ্ডার তৈরিতে কাজ করবে। একটি কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জোট কাজ করবে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান শনিবার সকালে ব্র্যাকের সহযোগিতায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। ব্র্যাকের স্ট্র্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের চেয়ারপার্সন ইলিয়াস কাঞ্চন, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমানসহ নাগরিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। জোটে অন্তর্ভুক্ত ৬টি সংগঠন হচ্ছে- নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিন। এছাড়া গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান এ জোটের সঙ্গে কাজ করবেন। জোটের সকল পর্যায়ের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক। সংবাদ সম্মেলনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বাৎসরিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ থেকে ৩ শতাংশ। অর্থনীতিতে এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা জরুরি। এই অবস্থায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। শ্রোতাকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা একটি ফলপ্রসূ কার্যকারিতা আনতে চাই। আর এই কার্যকারিতা আনতে হলে সবার ধারাবাহিক সহযোগিতা দরকার। এজন্য আমাদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ।


সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সচেতনতা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটাতে কাজ করবে 'সেইফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্স' (শ্রোতা) নামে নতুন একটি জোট গঠন করা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও কয়েকটি সংগঠনের এ জোট গঠন করেন। এই জোট একটি কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জোট ভবিষ্যতে জাতীয় তথ্য ভান্ডার তৈরিতে কাজ করবে। শনিবার সকালে ব্র্যাকের সহযোগিতায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজি,কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির উর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বাৎসরিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১-৩ শতাংশ। অর্থনীতিতে এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা জরুরি। এই অবস্থায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি ) সড়ক নিরাপত্তা বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত আছে বলে আমরা কাজ করি এটা ঠিক না। কারণ এর আগে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ প্রায় দুই যুগ ধরে কাজ করছে,ব্র্যাকও অনেক বছর ধরে কাজ করছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতি প্রায় সাত বছর কাজ করছে। এখন একটাই লক্ষ্য সমগ্র নাগরিক শক্তিকে একত্র করে কাজে লাগানো।' এই প্ল্যাটফর্মে সরকারি কোন প্রতিনিধি নেই সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, 'আমি আগেই বলছি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে এক সঙ্গে কাজ করা। কারণ সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি শুধু সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে না। অন্য মন্ত্রণালয়ও জড়িত। এজন্য এখানে চাইলে সবাইকে আনা যাবে না।' আসিফ সালেহ বলেন, 'সড়ক দুর্ঘটনা এখন অর্থনৈতিক উন্নতির পথে বড় একটি বাঁধা। কারণ গ্রাম থেকে যারা শহরে আসেন তারাই এখন সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হন। এ পরিস্থিতিতে আমরা সবাই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নিয়ে কাজ করতে চাই। তাই সবার লক্ষ্য সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধানে নিয়ে আসা।' জোটের অর্ন্তভুক্ত ছয়টি সংগঠন হলো: নিরাপদ সড়ক চাই,ব্র্যাক,পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি),বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন,বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইমারজেন্সি মেডিসিন। এ ছাড়া ব্যক্তি হিসেবে এ জোটে আছেন গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ,বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান। জোটের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক।

Conference



সম্পাদকীয় আয়বৈষম্যে প্রকট হচ্ছে নগর দারিদ্র্য নগরের জনসংখ্যা বাড়ছে খুবই দ্রুতগতিতে। এর ধারাবাহিকতায় বাড়ছে নগর দারিদ্র্যের সংখ্যা। এক্ষেত্রে কেবল আয় দারিদ্র্যকেই বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। কিন্তু আয়ের বাইরেও দারিদ্র্যের অনেক নির্ধারক রয়েছে। সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে ওই জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণ প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান থেকে শুরু করে শিক্ষা, চিকিত্সা, যোগাযোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিদ্যমান নগরের বৈষম্যও কমিয়ে আনা দরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সঙ্গে অংশীদারিত্বে ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও পৌরসভায় দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালায় পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। গবেষণায় দেখা যায়, রাজধানীবাসীর মধ্যে মাত্র ৬ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যক্তি উপার্জন করছে মোট আয়ের ৪০ দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে মাসিক ৭ হাজার ২৫৬ টাকা উপার্জনের মাধ্যমে ১০ দশমিক ১ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে একেবারে নিম্নবিত্ত শ্রেণীতে। একই অবস্থা চট্টগ্রামেরও। বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে নগর জনসংখ্যা প্রায় ২৮-৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আবার গ্রামাঞ্চলেও নগরের একটা আবেশ চলে এসেছে। দেশের মানুষের মধ্যে নগরমুখী প্রবণতা বেড়ে উঠছে নানা কারণে। মূলত আর্থিক সচ্ছলতার জন্যই তারা এখানে আসছে। এ কারণে মানুষের চাপে নগরে সুযোগ-সুবিধা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে নগর দারিদ্র্য নতুন সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। নগর দারিদ্র্য কমাতে কার্যকর ভূমিকা না থাকায় অন্যান্য বৈষম্যও কমছে না। দারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামকেন্দ্রিক কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও নগরে দারিদ্র্য হ্রাসে সে ধরনের লক্ষণীয় পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না। এক্ষেত্রে শহরে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি আছে ঝুঁকিও। গত কয়েক বছরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়া, জীবনযাত্রার মান বেড়ে যাওয়া এবং নীতিগতভাবে শহরের উন্নয়নে উদাসীনতার কারণে এখানকার মানুষের ঝুঁকি বেড়েছে। এর ফল হলো, শহরে অসচ্ছল পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি। নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ও সামাজিক বিভিন্ন সূচকে এগিয়েছে। কিন্তু সমাজের অপেক্ষাকৃত দরিদ্র মানুষ এর সুবিধা কতটুকু পেয়েছে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। দারিদ্র্য বিমোচনে শহরকেন্দ্রিক কর্মসূচি বা পদক্ষেপ যে মোটেই নেয়া হয়নি, তা নয়। কিন্তু তাতে সুফল মেলেনি। এ অবস্থায় শহরমুখিতার কারণগুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাধারণভাবে বলা যায়, গ্রামের মানুষের শহরমুখিতার অন্যতম কারণ কর্মসংস্থানের অভাব। গ্রামের মানুষ সাধারণত মনে করে, শহরে এসে অন্তত রিকশা চালিয়ে বা অন্য কোনো কায়িক শ্রমের মাধ্যমে আয় করা যাবে। কিন্তু এ ধরনের কাজও অনেক ক্ষেত্রে জোটানো যায় না। ফলে নগর দারিদ্র্য বাড়ে। নগর দারিদ্র্য কমাতে হলে গ্রামীণ মানুষের নগরমুখিতাও রোধ করা দরকার। কর্মসংস্থানসহ সুযোগ-সুবিধার বিস্তৃতি ঘটাতে হবে গ্রামেও। প্রয়োজন মফস্বলের পুনর্জাগরণ। এটা ঠিক যে, কিছু সুবিধা বিদ্যমান থাকায় নগরে আসা মানুষের নগরেই স্থায়ীভাবে বাসের প্রবণতা থাকে। নগরে জনস্ফীতির প্রধান কারণও গ্রামীণ মানুষের নগরমুখিতা। এ জনস্ফীতি রোধ করতে না পারলে নগর-শহরগুলো মানুষের বসবাস উপযোগী থাকবে কিনা সন্দেহ। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের দেশে সুষ্ঠু নগরনীতি নেই। কোনো সরকারই এ পর্যন্ত দারিদ্র্যবান্ধব নগর উন্নয়ননীতি প্রণয়ন করতে পারেনি। নগর দারিদ্র্য দূরীকরণে দরকার ভাসমান মানুষের জন্য আলাদা কর্মসূচি। যেসব প্রতিষ্ঠান নগরের দরিদ্র মানুষ নিয়ে কাজ করছে, তারা ঠিকমতো উপকারভোগী চিহ্নিত করতে পারছে না। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নগর দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে না। এতে নগর সম্প্রসারণ হচ্ছে এক ধরনের দারিদ্র্যবান্ধব রূপ নিয়ে, যা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘বসবাসের অযোগ্য’ নগরীর তকমা মিলেছে বহুবার। তবু একটুখানি ঠাঁইয়ের আশায় ঢাকাতেই ভিড় বাড়িয়ে চলেছে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। গত ৪০ বছরে ১০ গুণ মানুষ রাজধানীর বাসিন্দা হয়েছে। ১৯৭৪ সালে ঢাকায় যেখানে লোকসংখ্যা ছিল ১৭ লাখ, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ। বর্ধিত এ জনগোষ্ঠীকে নাগরিক সুবিধা দিতে এবং পরিকল্পিত ঢাকা গড়তে আগামী ২০ বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন। ডলারের বর্তমান বিনিময় মূল্য (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা) অনুযায়ী এর পরিমাণ ৭ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে ‘নগর দারিদ্র্য : গবেষণা ও সমাধান’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষ দিনে এ তথ্য জানানো হয়। পাওয়ার এ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে দেশ-বিদেশের শতাধিক নগর বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শেষ দিনে পাঁচ অধিবেশনে নগর দারিদ্র্য এবং সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সহযোগিতা করেছে বিশ্বব্যাংক এবং ইউএনডিপি। শেষ অধিবেশনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইয়ং ওয়াং। এতে বলা হয়, অপরিকল্পিত এ ঢাকাকে পরিকল্পিতভাবে গড়তে ২০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। এর জন্য ১০ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। বিপুল এ অর্থের সংস্থানের জন্য বিদেশী ঋণের সংস্থান করতে হবে। পাশাপাশি অর্থায়নের নিশ্চয়তায় নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ প্রয়োজন পরিবহন খাতে। এ খাতের জন্য সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন। এর বাইরে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করতে বড় অঙ্কের অর্থ দরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পিপিআরসির নির্বাহী পরিচালক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এর আগে নগর দারিদ্র্য নিয়ে বিশদভাবে কোন গবেষণা কিংবা পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে নগর দারিদ্র্য প্রকট হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের ঢাকা গরিবদের নিয়ে গড়ে তোলা হবে না তাদের বাদ দেয়া হবে তা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। ঢাকার কোন পরিকল্পনাতেই দরিদ্রদের আবাসন বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। নগর দারিদ্র্য নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সম্মেলনের সুপারিশগুলো শীঘ্রই সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সেক্টর ম্যানেজার মিং জাং বলেন, রাজনীতিকদের মানুষের চাহিদা সঠিকভাবে নিরূপণ করে নীতি গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের নগর দারিদ্র্য দূরীকরণে সব দিক বিবেচনা করে নীতিমালা তৈরি করে কাজ করা প্রয়োজন। যেখানে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং পরিবেশের মতো প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এ অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা, বিবিএসের ভারপ্রাপ্ত সচিব বিকাশ কুমার দাশ, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদনান মোরশেদ, ইউএনডিপির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর নিক বারেস ফোর্ড ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি মাইক রবসন। সমাপনী দিনে মোট পাঁচ অধিবেশনে নগর দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং নীতি সমস্যা। এ অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী এবং অর্থনীতিবিদ ড. সাজ্জাদ জহির। একটি অধিবেশনে নগর দরিদ্রদের জন্য উপযোগী আবাসন বিষয়ে আলোচনা হয়। নগর দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায় শীর্ষক দ্বিতীয় অধিবেশনে দুটি কেস স্টাডি তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সামাজিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ আন্তা ও’ ডনেল, ইউএনডিপির নগর কর্মসূচী বিশেষজ্ঞ আশেকুর রহমান। তৃতীয় অধিবেশনে নগর দারিদ্র্য দূরীকরণে সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ উগো জেনটিলিনি প্যানেল। চতুর্থ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালেক। এতে নগর স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা হয়।


অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দেশে নগর দারিদ্র্য হ্রাসের হার অত্যন্ত মন্থর। ফলে এক ধরনের দারিদ্রবান্ধব নগরায়ণ হচ্ছে,যা মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একে মোকাবিলা করতে হলে সরকার এবং বেসরকারি উভয় পর্যায়ে আরো কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁও এলজিইডি ভবনে ‘নগর দারিদ্র্য : চ্যালেঞ্জ এবং প্রেক্ষিত পদক্ষেপ’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এমন অভিমত তুলে ধরেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুারো (বিবিএস) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বিবিএসের মহাপরিচালক আব্দুল ওয়াজেদ, পিপিআরসির সিনিয়র ফেলো লিয়াকত আলী চৌধুরী প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। এতে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নগর বিষয়ক সেক্টর ব্যবস্থাপক মিং জাং, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ডেভলপমেন্ট ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডেভিড হলমি, পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান পৃথক তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে নগর দারিদ্রের ওপর পিপিআরসি ও বিবিএস যৌথভাবে গবেষণা পরিচালিত ‘বাংলাদেশ : দ্যা আরবান স্প্যাকট্রাম, মেট্রোপলিটন টু মফস্বল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল ভিডিও বার্তায় বলেন,সরকার নগর দারিদ্র নিরসনে গ্রামাঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান তৈরি, অবকাঠামো নির্মাণসহ আয়বর্ধক কর্মকা- বৃদ্ধি করেছে। এতে শহরে আসার প্রতিযোগিতা কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন,নগর দারিদ্র্য নিরসনে সরকার অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। নগরের সাথে গ্রামীণ এলাকার সংযোগ বৃদ্ধিসহ নাগরিক সুবিধা সেখানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নগর দারিদ্র হ্রাসে স্বল্প আয়ের নগরবাসীর জন্য পৃথক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, দারিদ্র নিরসনে গ্রামভিত্তিক শক্ত পদক্ষেপ নিতে দেখা গেলেও নগর দারিদ্র নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহনের অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে জোর করে গ্রামে পাঠানো সম্ভব নয়। অকৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হলে শহরে অভিবাসী দরিদ্র জনগোষ্ঠী এমনিতেই গ্রামে ফিরে যাবে। অনুষ্ঠানে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে নগর দারিদ্র দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে না। এতে নগর সম্প্রসারণ হচ্ছে, এক ধরনের দারিদ্রবান্ধব রূপ নিয়ে, যা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন, নগর দারিদ্রের গতি-প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে নগর দারিদ্রের ব্যাপ্তি নির্ধারণ এবং এর সমাধানের উপায় বের করতে হবে। কেননা গুলশান থেকে সাতক্ষীরার একটি পৌরসভা সবই নগর, তবে এর মধ্যে ব্যবধান অনেক। এর সমস্যা আলাদাভাবে চিহ্নিত করে, সেভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। আয় বৈষম্য নগর দারিদ্র্যের বড় কারণ উল্লেখ করে জিল্লুর বলেন, ঢাকা শহরের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী এই নগরীর মোট আয়ের ৪০ শতাংশ ভোগ করে থাকে। আবার ৩৪ শতাংশ মানুষ মোট আয়ের মাত্র ২০ শতাংশ ভোগ করে। টেকসই উন্নয়ন অর্জন এবং মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে হলে এই আয় বৈষম্য কমাতে হবে। পিপিআরসি ও বিবিএসের গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগরীতে দারিদ্রের সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ, যাদের পরিবার প্রতি গড় আয় ১০ হাজার টাকা। তবে কেবলমাত্র আয় বিবেচনায় দারিদ্র নির্ণয় করা যাবে না। বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিদ্যুৎসেবা পরিস্থিতির উন্নয়ন দারিদ্র নিরসনের বড় হাতিয়ার।


Housing estates and mass transport systems can solve much of the residential and traffic congestion in the capital, an urban planner and architect said yesterday. Such measures can also ensure community living and lower violence and crimes, said Adnan Morshed, associate professor at the Catholic University of America's architecture and planning department. “Plots are killing the cities,” he said referring to the Rajdhani Unnayan Kartripakkho's projects of making plots and selling those to individuals. Such a method of housing is a rural concept and is not ideal for urban settings, where a lot of people live together, Morshed said at the concluding panel of the two-day international conference on urban poverty. “As the individuals build houses on plots, a lot of space between the plots is wasted. If you build housing estates, that space together can make an open space like park.” Such open space can be used for community engagement, he said at the programme organised by the Power and Participation Research Centre and the Bangladesh Bureau of Statistics at the city's LGED Auditorium. Experts from home and abroad discussed urban poverty, housing, water, sanitation, education and health. The urban poor, around eight million in Bangladesh, are often deprived of such facilities. The researchers said urban poverty is rising and the quality of life of the urban poor is worse than those of the rural poor, as they can get help from the community in times of economic and social shocks. Urban governance came up as a major issue at the conference, where experts said transport and housing of the poor in cities like Dhaka and Chittagong are riddled with corruption linked to powerful quarters. As a result, it is difficult to address the problems, they said, adding that things will take a turn for the worse unless the urban issues are not urgently looked at seriously. Morshed, who researches on urban designs of cities around the world, said in plot systems some individuals can build palace-like buildings, while the others can have a poor and shabby lodging. “This creates isolation -- the poor feel deprived. Thus, a harmonious and community living is not ensured,” he said, citing examples of US cities like Bogotá that have major housing estates. When a mixed economic group of people live together, there is empathy for each other, a situation that helps lower crimes and enhance social cohesion and justice, he said. Some 30 percent of the population in Dhaka live in slums that often lack basic amenities. Referring to the mostly privatised and misgoverned transport system of Dhaka, Morshed said much of the solution to the city's traffic congestion lies in introducing mass public transport. Traffic congestion in the capital eats up about Tk 20,000 crore a year, according to the Revised Strategic Transport Plan of 2016. Traffic congestion, pollution and road accidents are some of the major urban problems in Bangladesh, said UNICEF Country Representative Edouard Beigbeder, while calling for ensuring accountability of the city administrators. Often, the urban poor remain deprived of education and health services that need to be addressed on an urgent basis, he added. Ming Zhang, the World Bank's sector manager (urban) for South Asia, suggested formulating a national strategy on urban poverty and involving city corporations and relevant ministries in addressing the issues of concern. PPRC Executive Director Hossain Zillur Rahman said they would vigorously work in cooperation with the government and other stakeholders to bring down urban poverty and help build sustainable cities. The WB South Asia Region's Chief Economist Martin Rama, WB Senior Economist Hyoung Wang and BRAC Senior Director Asif Saleh also spoke.


THE staggering income inequalities between the people living in the capital and in outlying areas, as a study report presented at an international conference in Dhaka on Saturday showed, are, indeed, alarming. The survey conducted by the Bangladesh Bureau of Statistics and a local non-governmental research organisation on 5,600 households of Dhaka, Chittagong and eight other cities and 14 municipalities found, as New Age reported on Sunday, that while the average income of the people living in municipality areas was 45 per cent lower than that of the people in the capital, people living in the Chittagong city earned on an average 30 per cent less than those in the capital. It indicates how economic resources, in particular, are concentrated in the hands of a section of people living in Dhaka. It is important to note that only 5.4 per cent of the households that earn above Tk 1 lakh every month have about 40 per cent of the total income of the Dhaka population. The income gap between those living in and outside the capital is alarming as income is directly linked to access to basic rights such as education and health and basic amenities such as water, electricity and sanitation, all of which are crucial, as far as leading a decent life with human dignity is concerned. On top of all this, high income inequalities are also regarded as a bane for a country’s stability, political and social in particular. One has, in fact, little reasons for surprise at the situation at hand as, because of flawed policies pursued by successive governments ever since independence, the public administration is highly centralised. Moreover, the capital has been prioritised over all other areas in the period even when it came to government activities related to trade, commerce and development. What is more regrettable is that discussing the matter so far several times in these columns, like many experts, we have repeatedly suggested that there should be an immediate decentralisation of the public administration while all public policies should be framed and implemented in an inclusive manner to make a difference, but all this fell on deaf ears. It is pertinent to mention that, because of the flawed government policies, millions of people mostly poor, from across the country, have already migrated to the capital while thousands more continue to do so every year, posing an increased threat to the city’s liveability. One can refer in this connection to the findings of the study that while the entire urban population of the country was barely 2.64 million 55 years ago, some 15 million people currently live only in the capital. Besides, 70 per cent of the capital’s population migrated from villages. The government is expected to rise to the occasion and take effective steps to address the situation. Conscious people and different rights organisations also need to mount pressure on the government to overhaul its socio-economic policies.


A two-day international conference on urban poverty concluded in the capital on Sunday with call for more research on urbanisation with special focus on urban poverty, proper planning for urbanisation, design, decentralisation, removing visibility barrier of the poor, and forming a platform to address the urban poverty issues. Speakers at the concluding session opined that the more Bangladesh is getting better off, the more persistent is becoming its stunting, malnutrition, poor hygiene condition, and water and sanitation. They called for establishing an accountability mechanism for the city corporations, municipalities and various other agencies and ministries, engaged in the urbanisation process, along with empowerment of the local government institutions. The conference was jointly organised by Power and Participation Research Centre (PPRC) and Bangladesh Bureau of Statistics (BBS) with the support of World Bank (WB). Chaired by PPRC executive chairman Hossain Zillur Rahman, three presentations - 'Urbanisation and Poverty Reduction: Impacts and Trade-Offs', 'Spatial Traps of Urban Poverty: Can Urban Design Help Alleviate Urban Poverty?' and 'Dhaka Mega City: Challenges and Responses' - were made in the last session. In his keynote presentation 'Dhaka Mega City: Challenges and Responses' WB senior economist Hyoung Wang said a well-functioning city has more scope and capacity to address various forms of deprivations and broader dimension of urban poverty in the city. Referring to the ongoing study on Dhaka, he said its urban built-up area has increased rapidly - 50 sq-km at the time of independence from Britain (equivalent to the area of Dhaka South City Corporation before expansion) to 150 sq-km at the time of independence from Pakistan (equivalent to the area of Dhaka South and North CCs), and 1,500 sq-km at present (two Dhaka CCs, Narayanganj CC, Gazipur CC, Tongi and Savar). Its overall infrastructure requirement over the next 20 years is about $100 billion, $45 billion for transportation infrastructure alone. Housing condition in Dhaka is far worse than national average, as 55 per cent of housing units in Dhaka are katcha or jhupri (shanties), compared to 34 per cent for the overall urban areas nationally. Mike Robson, country representative of Food and Agriculture Organisation (FAO), said there are a number of issues in terms of safety and quality of foods. He focused on diverting FAO's attention from food security and nutrition from rural perspective to urban as well as development of non-farm sector in rural areas. The speakers also opined that property-related taxes and charges are not sufficient to finance day-to-day operation. Study shows two Dhaka city corporations collected a total of Tk 4.12 billion in FY 2014-15, which amounts to about $8 per resident. Only 270,000 properties are on the tax roll for the cities with a combined population of about 10 million, which is unchanged for the last 25 years. Tax collection is only about 60 per cent. Ming Zhang, sector manager, Urban, South Asia Region of WB, said there should be a big research agenda, advocacy and national strategy to address urban poverty.


Speaking at a conference yesterday on urban health called “Urban Proverty” Dr Zafarullah Chowdhury the founder of Gonosasthya Kendra asked why the doctor from Faridpur was not fired for malpractice. A newborn girl on Thursday was about to be buried in Faridpur because she was declared dead by a doctor but she showed signs of life by crying out at the graveyard. She was flown to Dhaka on Saturday and admitted to Square Hospital. A pulse is the key indicator of life, the doctor could have used a stethoscope to figure out if the infant was alive, this is basic training in the medical profession which he failed to practice, Dr Zafarullah said at the event held at LGED, Agargaon. He also asked what was the use of having establishments like Faridpur Medical College Hospital if people seeking medical treatment must travel to Dhaka. Zafarullah spoke of other medical malpractices such as the recent incidents at DMCH where victims of road accident were killed after being treated by a cleaner with fatal injections. He said the on-duty doctors and nurses should be held responsible for letting that happen. For the betterment of Bangladesh’s health sector the DMCH should be made into a 700 bed hospital so that there is enough space for more people to be treated at a time.


পিপিআরসির দু’দিনের কর্মশালা শেষ পরিকল্পিত ঢাকা গড়তে আগামী ২০ বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন। কেননা, ৪০ বছরে ১০ গুণ মানুষ ঢাকাবাসী হয়েছেন। ১৯৭৪ সালে ঢাকায় যেখানে লোক সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ। বর্ধিত এ জনগোষ্ঠীকে নাগরিক সুবিধা দিতেই এ অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে দু’দিনব্যাপী কর্মশালার শেষ দিনে এসব তথ্য জানানো হয়। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় নগর দারিদ্র্য এবং এর সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সহযোগিতা করেছে বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। কর্মশালার শেষ অধিবেশনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইয়ং ওয়াং। এতে বলা হয়, ঢাকাকে পরিকল্পিতভাবে গড়তে ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। এজন্য ১০ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন পড়বে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ প্রয়োজন পরিবহন খাতে। এ খাতের জন্য সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন। এর বাইরে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করতে বড় অংকের অর্থ প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সেক্টর ম্যানেজার মিং জাং বলেন, রাজনীতিকদের মানুষের চাহিদা সঠিকভাবে নিরূপণ করে নীতি গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের নগর দারিদ্র্য বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা তৈরি করে কাজ করা প্রয়োজন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এর আগে নগর দারিদ্র্য নিয়ে কোনো গবেষণা কিংবা পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে নগর দারিদ্র্য প্রকট হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের ঢাকা দরিদ্রদের নিয়ে গড়ে তোলা হবে, নাকি তাদেরকে বাদ দেয়া হবে তা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) কুড়িল বস্তিবাসীদের জন্য কোনো কিছু নেই। এজন্য নগর দারিদ্র্য নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, তথ্য ঘাটতি এবং সমন্বয়হীনতার কারণে নগর দারিদ্র্যবিমোচনের শত ভাগ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদনান মোরশেদ, ইউএনডিপির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর নিক বারেস ফোর্ড ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি মাইক রবসন প্রমুখ। এছাড়া দিনব্যাপী মোট পাঁচটি অধিবেশনে নগর দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং নীতি সমস্যা। এ অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী এবং অর্থনীতিবিদ ড. সাজ্জাদ জহির। নগর দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায় শীর্ষক দ্বিতীয় অধিবেশনে দুটি কেস স্টাডি তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সামাজিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ডনেল, ইউএনডিপির নগর কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ আশেকুর রহমান। তৃতীয় অধিবেশনে নগর দারিদ্র্য দূরীকরণে সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ উগো জেনটিলিনি প্যানেল। চতুর্থ অধিবেশনে নগর স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালেক।


সম্পাদকীয় ডেস্ক একটি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি তখনই অর্থবহ হয় যখন শ্রেণী-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষ সমভাবে এর উপকার ভোগ করতে পারে অথবা অন্তত মৌলিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বৈষম্যের শিকার কেউ হবে না। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু সেই এগিয়ে যাওয়াটা নগরকেন্দ্রিক এবং এ কারণে জীবিকার সন্ধানে পঙ্গপালের মতো মানুষ শহরপানে ছুটে আসতে বাধ্য হচ্ছে। এতেও তাদের জীবনমানের খুব একটা পরিবর্তন যে হচ্ছে তা নয়। নগরকেন্দ্রিক আয় এবং জীবনভোগের বৈষম্য কম নয়। বরং দিন দিন এর মাত্রা প্রকট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের চিত্র ভয়াবহ। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখ সহযোগী একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, নগরবাসীর মোট আয়ের সিংহভাগই উপার্জন করছে অল্পসংখ্যক মানুষ। রাজধানীবাসীর মধ্যে মাত্র ৬ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যক্তি উপার্জন করছে মোট আয়ের ৪০ দশমিক ১৩ শতাংশ। এদের মাসিক গড় আয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭২৭ টাকা। অন্যদিকে মাসিক ৭ হাজার ২৫৬ টাকা উপার্জনের মাধ্যমে ১০ দশমিক ১ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে একেবারে নিম্নবিত্ত শ্রেণীতে। মোট আয়ে তাদের অংশীদারিত্ব একেবারেই সামান্য, মাত্র ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সঙ্গে অংশীদারিত্বে ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও পৌরসভায় দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালায় পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। এরই ভিত্তিতে প্রকাশ হয়েছে ‘দি আরবান স্পেকট্রাম: মেট্রোপলিটন টু মফস্বল’ শীর্ষক একটি গবেষণা গ্রন্থ। এতে নগর দারিদ্র্যের পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে আয়সহ নানাবিধ ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র। শুধু আয়ে নয়, সড়ক ব্যবস্থাপনায়ও মহানগরী দুটিতে বৈষম্যের চিত্র প্রকট । তুলনামূলক কম যাত্রী বহনে সক্ষম হলেও প্রতিদিনই ট্রাফিক সমস্যায় জর্জরিত ঢাকার সড়কগুলোর ৩০-৩৭ শতাংশ দখল করে থাকে প্রাইভেট কার। এর সঙ্গে জিপগুলোকে যোগ করা হলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০-৪৪ শতাংশে। অথচ নগরীর মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিন্মবিত্তদের চলাচলের মাধ্যম গণপরিবহন কাঠামোর অবস্থা দুর্দশাগ্রস্ত। গণপরিবহন ব্যবস্থার সিংহভাগই বেসরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় যাত্রীসাধারণের চাহিদার সেখানে কোনো মূল্য নেই। দিন যত যাচ্ছে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল বাড়ছে প্রতিদিনই এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সর্বত্র। তবে সবচেয়ে চাপের মুখে পড়ছে গৃহায়ন ও আবাসন খাত। কারণ জীবিকার একটা ব্যবস্থা করা গেলেও বসবাসের জন্য সুবিধাজনক, নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করা সহজ কাজ নয়। কিন্তু জীবিকার খাতিরে নগর ত্যাগ করাও বিপজ্জনক। মূলত জীবিকাকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তার কারণেই ভাসমান ও অনিরাপদ বসবাসের মাত্রা বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে সামাজিক নানা অপরাধের মাত্রাও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা নিরাপত্তা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাপ বাড়ছে শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতেও। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল অবদি উন্নয়নের ধারা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী বদ্ধপরিকর। তিনি বারবারই এ ব্যাপারে তাঁর অবস্থান এবং চিন্তাধারা স্পষ্ট করেছেন। ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর ওপর থেকে অত্যধিক জনসংখ্যার চাপ কমাতে হলে দেশব্যাপী কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিকল্পও নেই। পুরো বিষয়টি নির্ভর করে দায়িত্বশীল মহলের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ এবং আন্তরিক ইচ্ছার ওপর। দারিদ্র্য বিমোচনে যথাযথ কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত তৎপর হবে এমনটিই আমরা প্রত্যাশা করি।


পিপিআরসির কর্মশালায় তথ্য প্রতিদিনই রাজধানীতে ভিড়ছে মানুষ। গত ৪০ বছরে ১০ গুণ মানুষ ঢাকাবাসী হয়েছে। ১৯৭৪ সালে ঢাকায় লোকসংখ্যা ছিল ১৭ লাখ, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৭০ লাখে। বর্ধিত এ জনগোষ্ঠীকে নাগরিক সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিত ঢাকা গড়তে আগামী ২০ বছরে পায় ৮ লাখ কোটি টাকার দরকার। গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে দু'দিনব্যাপী কর্মশালার শেষ দিনে এ তথ্য জানানো হয়। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচটি অধিবেশনে নগর দারিদ্র্য এবং সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। শেষ অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইয়ং ওয়াং। এতে বলা হয়, অপরিকল্পিত এ ঢাকাকে পরিকল্পিতভাবে গড়তে ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। এর জন্য ১০ হাজার কোটি ডলার (৭ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা) প্রয়োজন হবে। বিপুল এ অর্থের সংস্থানের জন্য বিদেশি ঋণের সংস্থান করতে হবে। পাশাপাশি অর্থায়নের নিশ্চয়তায় নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ প্রয়োজন পরিবহন খাতে। এ খাতের জন্য সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন। এর বাইরে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করতে বড় অঙ্কের অর্থ দরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এর আগে নগর দারিদ্র্য নিয়ে কোনো গবেষণা কিংবা পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে নগর দারিদ্র্য প্রকট হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের ঢাকা দারিদ্র্যদের নিয়ে গড়ে তোলা হবে না তাদের বাদ দেওয়া হবে তা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) কুড়িল বস্তিবাসীর জন্য কোনো কিছু নেই। এজন্য নগর দারিদ্র্য নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সেক্টর ম্যানেজার মিং জাং বলেন, রাজনীতিকদের মানুষের চাহিদা সঠিকভাবে নিরূপণ করে নীতি গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমে সাধারণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, তথ্য ঘাটতি এবং সমন্বয়হীনতার কারণে নগর দারিদ্র্য বিমোচনের শতভাগ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। নগর থেকে দারিদ্র্য দূর করতে পরিবহন, স্বাস্থ্য এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর জোর দিতে হবে। এ অধিবেশনে অন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা, বিবিএসের ভারপ্রাপ্ত সচিব বিকাশ কুমার দাশ, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদনান মোরশেদ, ইউএনডিপির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর নিক বারেস ফোর্ড ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি মাইক রবসন। অন্যান্য অধিবেশন :গতকাল পাঁচটি অধিবেশনে নগর দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং নীতি সমস্যা। এ অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী এবং অর্থনীতিবিদ ড. সাজ্জাদ জহির। নগর দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায় শীর্ষক দ্বিতীয় অধিবেশনে দুটি কেস স্টাডি তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সামাজিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ আন্না ও' ডনেল, ইউএনডিপির নগর কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ আশেকুর রহমান। তৃতীয় অধিবেশনে নগর দারিদ্র্য দূরীকরণে সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক করেন বিশ্বব্যাংকের সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ উগো জেনটিলিনি প্যানেল। চতুর্থ অধিবেশনে নগর স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালেক। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।


পিপিআরসির কর্মশালায় বক্তারা ৪০ বছরে ১০ গুণ বেড়েছে রাজধানী ঢাকার জনসংখ্যা। এ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আরো জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে নগর দারিদ্র্যের চেহারা। এ দারিদ্র্য দূর করার জন্য প্রয়োজন জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি। একই সঙ্গে প্রয়োজন জনগণের জোরালো দাবি উত্থাপনের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চাপ প্রয়োগ, জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত নীতিমালা এবং শাসনপদ্ধতি ও প্রাতিষ্ঠানিকতার বিকেন্দ্রীকরণ। ‘আরবান পোভার্টি— চ্যালেঞ্জেস অব পারস্পেকটিভ অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক এক কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনের আলোচনায় বক্তারা গতকাল এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সঙ্গে অংশীদারিত্বে এবং বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) সহযোগিতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এলজিইডি ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কর্মশালার গতকালই ছিল শেষদিন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মশালাটি শেষ হয়। ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনের কিনোট স্পিচ উপস্থাপন করেন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা, ওয়াশিংটনের ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব ইউএসএর স্কুল অব আর্কিটেকচার অ্যান্ড প্ল্যানিংয়ের শিক্ষক আদনান মোরশেদ ও বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হুইয়ং ওয়াং। মার্টিন রামা বলেন, নগরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জনগণের ভোগের পরিমাণও বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে নগরায়ণ বিকাশের ধারাবাহিকতায় কমতে থাকে দারিদ্র্যের মাত্রা। এ কারণে নগরে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও তুলনামূলক বেশি। আদনান মোরশেদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যত্ নগরকেন্দ্রিক। কিন্তু আমরা এখনো দ্রুত নগরায়ণের জন্য প্রস্তুত নই। আমাদের চিন্তাধারায় এখনো গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রভাব স্পষ্ট। তিনি বলেন, সবখানেই শিল্পায়ন ও নগরায়ণের কুপ্রভাবগুলোয় দরিদ্রদেরই ভুগতে হয়। শিল্পবর্জ্য ও আবর্জনা ফেলার স্থানের কাছাকাছি অবস্থিত নগরীর বেশকিছু বস্তির বাড়িঘর। ফলে দূষণের কুপ্রভাব সামলাতে হয় দরিদ্রদেরই। ভূপালের কার্বাইড দুর্ঘটনার শিকারদেরও অধিকাংশই ছিলেন দরিদ্র। এ সময় এক ভিন্নধর্মী উপস্থাপনায় তিনি নগরে ঐশ্বর্য ও দারিদ্র্যের বিপরীতমুখী কিন্তু সহাবস্থানের চিত্র তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হুইয়ং ওয়াং বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে নগর দারিদ্র্যের চেহারা। একই সঙ্গে অন্য শহরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকার আবাসন সমস্যা। এখানকার আবাসন ব্যবস্থা বিপুল জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটানোর পক্ষে খুবই অপ্রতুল। এ সময় ঢাকার হালনাগাদ মাস্টারপ্ল্যানকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এতে ১ হাজার ৫৮৩ বর্গকি.মি. এলাকায় ২ কোটি ৬০ লাখ লোকের আবাসনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেখানে আরো কম জনসংখ্যা অধ্যুষিত মুম্বাই ও সিউলের মতো মহানগরীর পরিকল্পনা করা হয়েছে ৪ হাজার বর্গ কি.মি.তে। এছাড়া রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায়ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টি দৃশ্যমান। অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা শেষে একটি নীতিনির্ধারণী প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে আলোচনা করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য উপস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বিকাশ কিশোর দাশ, ইউএনডিপির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর নিক বেরেসফোর্ড, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক রবসন, ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এডওয়াড বেইবেদার, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বিশ্বব্যাংকের আরবান সেক্টর ম্যানেজার মিং ঝ্যাং ও ব্র্যাকের আরবান ইনোভেশন ফোরামের প্রধান ও সিনিয়র পরিচালক আসিফ সালেহ। বিকাশ কিশোর দাশ বলেন, নগর দারিদ্র্য বিমোচন অনেক চ্যালেঞ্জিং একটি ইস্যু। এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সরবরাহের মাধ্যমে পরিসংখ্যান ব্যুরো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এ ভূমিকা বজায় রাখার জন্য যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে সংস্থাটি। প্যানেল আলোচনায় বক্তারা নগর দারিদ্র্য বিমোচনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। এ সময় নগর দারিদ্র্য বিমোচনের সম্ভাব্য উপায় হিসেবে মিং ঝ্যাং তিনটি প্রস্তাবনা রাখেন। প্রস্তাবনাগুলো হলো— প্রথমত. জনসাধারণের দাবি-দাওয়া উত্থাপনের জায়গাকে আরো শক্তিশালী করে তোলা। দ্বিতীয়ত. জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত নীতিমালা এবং তৃতীয়ত. শাসনপদ্ধতি ও প্রাতিষ্ঠানিকতার বিকেন্দ্রীকরণ। আসিফ সালেহ বলেন, আর্থসামাজিক পরিস্থিতির বহুমাত্রিকতায় নগর দারিদ্র্যের বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে। এ কারণে এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাও বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ এ সমস্যা নিরসনে নগরের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কর্তাব্যক্তিদের হাতে সম্পদ রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।


Housing estates and mass transport systems can solve much of the residential and traffic congestion in the capital, an urban planner and architect said yesterday. Such measures can also ensure community living and lower violence and crimes, said Adnan Morshed, associate professor at the Catholic University of America's architecture and planning department. “Plots are killing the cities,” he said referring to the Rajdhani Unnayan Kartripakkho's projects of making plots and selling those to individuals. Such a method of housing is a rural concept and is not ideal for urban settings, where a lot of people live together, Morshed said at the concluding panel of the two-day international conference on urban poverty. “As the individuals build houses on plots, a lot of space between the plots is wasted. If you build housing estates, that space together can make an open space like park.” Such open space can be used for community engagement, he said at the programme organised by the Power and Participation Research Centre and the Bangladesh Bureau of Statistics at the city's LGED Auditorium. Experts from home and abroad discussed urban poverty, housing, water, sanitation, education and health. The urban poor, around eight million in Bangladesh, are often deprived of such facilities. The researchers said urban poverty is rising and the quality of life of the urban poor is worse than those of the rural poor, as they can get help from the community in times of economic and social shocks. Urban governance came up as a major issue at the conference, where experts said transport and housing of the poor in cities like Dhaka and Chittagong are riddled with corruption linked to powerful quarters. As a result, it is difficult to address the problems, they said, adding that things will take a turn for the worse unless the urban issues are not urgently looked at seriously. Morshed, who researches on urban designs of cities around the world, said in plot systems some individuals can build palace-like buildings, while the others can have a poor and shabby lodging. “This creates isolation -- the poor feel deprived. Thus, a harmonious and community living is not ensured,” he said, citing examples of US cities like Bogotá that have major housing estates. When a mixed economic group of people live together, there is empathy for each other, a situation that helps lower crimes and enhance social cohesion and justice, he said. Some 30 percent of the population in Dhaka live in slums that often lack basic amenities. Referring to the mostly privatised and misgoverned transport system of Dhaka, Morshed said much of the solution to the city's traffic congestion lies in introducing mass public transport. Traffic congestion in the capital eats up about Tk 20,000 crore a year, according to the Revised Strategic Transport Plan of 2016. Traffic congestion, pollution and road accidents are some of the major urban problems in Bangladesh, said UNICEF Country Representative Edouard Beigbeder, while calling for ensuring accountability of the city administrators. Often, the urban poor remain deprived of education and health services that need to be addressed on an urgent basis, he added. Ming Zhang, the World Bank's sector manager (urban) for South Asia, suggested formulating a national strategy on urban poverty and involving city corporations and relevant ministries in addressing the issues of concern. PPRC Executive Director Hossain Zillur Rahman said they would vigorously work in cooperation with the government and other stakeholders to bring down urban poverty and help build sustainable cities. The WB South Asia Region's Chief Economist Martin Rama, WB Senior Economist Hyoung Wang and BRAC Senior Director Asif Saleh also spoke.


নগর দারিদ্র্য নিয়ে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে বলা হয়েছে, নগর দারিদ্র্য দৃষ্টির আড়ালে থাকে। নগর দারিদ্র্যের চরিত্র জটিল। সনাতন নগর প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠান এই দারিদ্র্য দূর করতে পারছে না। এ জন্য দরকার পৃথক কৌশল। পাশাপাশি এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে। নগর দারিদ্র্য নিয়ে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল রোববার সমাপনী অধিবেশনে প্যানেল আলোচকেরা এসব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে ‘আরবান পভার্টি: এ রিসার্চ অ্যান্ড সলিউশান কনফারেন্স’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আয়োজন করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। সম্মেলন আয়োজনে সহায়তা করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিল (ইউএনডিপি) ও ওয়াটার এইড, বাংলাদেশ। সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনের চেয়ার ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠী গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চেয়েও বেশি প্রান্তিক। নগরে এই দারিদ্র্য দৃশ্যমান নয়। পরিসংখ্যানে, সরকারি নীতিতে ও সামাজিকভাবে নগর দারিদ্র্য তুলনামূলকভাবে অনুপস্থিত। তিনি বলেন, সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে নগর পরিবহন, আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে করা সুপারিশ নিয়ে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিকল্পনামন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা হবে। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা বলেন, নগর দারিদ্র্য সঠিকভাবে পরিমাপ করা হয় না। নগরের ব্যক্তির উপার্জন সার্বিকভাবে ভালো থাকার যে ইঙ্গিত দেয়, তা সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্কিটেকচার অ্যান্ড প্লানিংয়ের গবেষক আদনান মোর্শেদ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বস্তির অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ‘নগরের দরিদ্ররা সারা নগরে ছড়িয়ে থাকে। এক জায়গায় থাকে না বলে চোখে পড়ে না।’ গুলিস্তানের সবজিবাজার ও গ্রামের একটি হাটের ছবি পাশাপাশি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। গ্রামের মানসিকতা রয়ে গেছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।’ এই নগর পরিকল্পনাবিদ রাজউকের প্লট বরাদ্দের সমালোচনা করে বলেন, হাজার হাজার প্লটের উদ্যোগ মহানগরের পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে, কোনো কমিউনিটি তৈরি হচ্ছে না। প্যানেল আলোচনায় ব্র্যাকের আরবান ইনোভেশন ফোরামের প্রধান আসিফ সালেহ বলেন, নগর দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্যে উদ্ভাবনী পন্থা বের করার চেষ্টা করছে ব্র্যাক। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, নগরে আসা দরিদ্র মানুষের পরিচিতির চেষ্টা চলছে। পরিবহন, স্বাস্থ্য ও অসংগঠিত খাতের কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসূচি আগামী মাসে শুরু করবে ব্র্যাক। দুই দিনের সম্মেলনে উদ্বোধনী ও সমাপনী অধিবেশন ছাড়াও বিষয়ভিত্তিক সাতটি পৃথক অধিবেশন হয়। বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি, ইউনিসেফ, ফাও-এর প্রতিনিধিরা ছাড়াও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিডিডিআরবিসহ অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসব অধিবেশনে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।


Kamal tells an international conference Staff Correspondent: The government Is putting emphasis on rural development to ease pressure on urban areas. Planning Minister AHM Mustafa Kam at said on Saturday “We’ve started development work at rural level to release pressure on urban areas. As part of this, we’ve taken initiatives to set up 100 economic zones across the country If it is completed, the people don’t have to come to cities for seeking jobs,” he commented. The planning minister said this while he inaugurating a two-day international conference on urban poverty at LGED auditorium through a video conference. From now on. the people of the country’s rural areas won’t have to come to cities for taking higher education as the government has taken an Initiative so that people can take education up to masters level at upazila levels, he hoped. “We’ve created health and job opportunities at union level, which will help lower pressure on urban areas,” he said. The minister repented that the cities are losing its capacity to accommodate huge population as the people increasingly tend to migrate to urban settings seeking their fortunes. He added that 66 percent of global population now lives in urban areas, while the rate was 36 percent In 1950 and only 10 percent 500 years ago. State Minister for Finance and Planning MA Mannan. former adviser to the past care taker government and executive director of Power and Participation Research Centre (PPRC) Dr Hossain Zillur kahman, renowned economist Wahiduddin Mahmud, among others, spoke on the occasion.


পিপিআরসির সম্মেলনে বক্তারা অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে না। গ্রামভিত্তিক ভালো পদক্ষেপ নিতে দেখা গেলেও নগর দারিদ্র্য নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণের অভাব রয়েছে। একে মোকাবিলা করতে হলে সরকার এবং বেসরকারি উভয় পর্যায়ে আরো কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁও এলজিইডি ভবনে ‘নগর দারিদ্র্য : চ্যালেঞ্জ এবং প্রেক্ষিত পদক্ষেপ’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বিবিএসের মহাপরিচালক আব্দুল ওয়াজেদ, পিপিআরসির সিনিয়র ফেলো লিয়াকত আলী চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এতে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নগর বিষয়ক সেক্টর ব্যবস্থাপক মিং জাং, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডেভিড হলমি, পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান পৃথক তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে নগর দারিদ্র্যের ওপর পিপিআরসি ও বিবিএস যৌথভাবে গবেষণা পরিচালিত ‘বাংলাদেশ : দ্যা আরবান স্প্যাকট্রাম, মেট্রোপলিটন টু মফস্বল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল ভিডিও বার্তায় বলেন, সরকার নগর দারিদ্র্য নিরসনে গ্রামাঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান তৈরি, অবকাঠামো নির্মাণসহ আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করেছে। এতে শহরে আসার প্রতিযোগিতা কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, যারা উন্নয়ন কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদের মোকাবিলা করা দারিদ্র্য মোকাবিলার চাইতে কঠিন। তারা বিজ্ঞান, মানবতা, গণতন্ত্র ও শান্তির বিরোধী। এদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, দারিদ্র্য নিরসনে গ্রামভিত্তিক শক্ত পদক্ষেপ নিতে দেখা গেলেও নগর দারিদ্র্য নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণের অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে জোর করে গ্রামে পাঠানো সম্ভব নয়। অকৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হলে শহরে অভিবাসী দরিদ্র জনগোষ্ঠী এমনিতেই গ্রামে ফিরে যাবে। অনুষ্ঠানে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ঢাকা শহরের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী এই নগরীর মোট আয়ের ৪০ শতাংশ ভোগ করে থাকে। আবার ৩৪ শতাংশ মানুষ মোট আয়ের মাত্র ২০ শতাংশ ভোগ করে। টেকসই উন্নয়ন অর্জন এবং মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে হলে এই আয় বৈষম্য কমাতে হবে। পিপিআরসি ও বিবিএসের গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগরীতে দারিদ্র্যের সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ, যাদের পরিবার প্রতি গড় আয় ১০ হাজার টাকা। তবে কেবল আয় বিবেচনায় দারিদ্র্য নির্ণয় করা যাবে না। বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিদ্যুত্ সেবা পরিস্থিতির উন্নয়ন দারিদ্র্য নিরসনের বড় হাতিয়ার। তিনি আরো বলেন, নগর দারিদ্র্যের গতি-প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে নগর দারিদ্র্যের ব্যাপ্তি নির্ধারণ এবং এর সমাধানের উপায় বের করতে হবে। কেননা গুলশান থেকে সাতক্ষীরার একটি পৌরসভা সবই নগর, তবে এর মধ্যে ব্যবধান অনেক। এর সমস্যা আলাদাভাবে চিহ্নিত করে, সেভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।


পিপিআরসির গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে ঘর ছেড়ে শহরমুখী হচ্ছে মানুষ। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো নগরীতে বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ, যার ধারাবাহিকতায় প্রকট হচ্ছে নগর দারিদ্র্য। রাজধানীসহ দেশের প্রধান দুটি শহরকে কেন্দ্র করে হচ্ছে নানামুখী উন্নয়ন। কিন্তু আয়সহ নানাবিধ বৈষম্যের কারণে এসব উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে না নগর দরিদ্ররা। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সঙ্গে অংশীদারিত্বে ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও পৌরসভায় দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালায় পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। এরই ভিত্তিতে প্রকাশ হয়েছে ‘দি আরবান স্পেকট্রাম: মেট্রোপলিটন টু মফস্বল’ শীর্ষক একটি গবেষণা গ্রন্থ। এতে নগর দারিদ্র্যের পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে আয়সহ নানাবিধ ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র। গবেষণায় দেখা যায়, নগরবাসীর মোট আয়ের সিংহভাগই উপার্জন করছে অল্পসংখ্যক মানুষ। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, রাজধানীবাসীর মধ্যে মাত্র ৬ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যক্তি উপার্জন করছে মোট আয়ের ৪০ দশমিক ১৩ শতাংশ। এদের মাসিক গড় আয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭২৭ টাকা। অন্যদিকে মাসিক ৭ হাজার ২৫৬ টাকা উপার্জনের মাধ্যমে ১০ দশমিক ১ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে একেবারে নিম্নবিত্ত শ্রেণীতে। মোট আয়ে তাদের অংশীদারিত্ব একেবারেই সামান্য; মাত্র ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সংখ্যার দিক থেকে নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীভুক্তরাই সবচেয়ে বেশি। রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ৩৩ শতাংশ ব্যক্তি। যদিও ঢাকাবাসীর মোট আয়ে এদের অংশীদারিত্ব ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। আয়বৈষম্যের চিত্র দেখা যায় চট্টগ্রাম মহানগরীতেও। এখানে মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ উপার্জন করছে মোট আয়ের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। এখানকার উচ্চবিত্ত শ্রেণীভুক্তদের মাথাপিছু মাসিক আয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৮ টাকা। একেবারে হতদরিদ্র শ্রেণীভুক্ত রয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যারা উপার্জন করছে নগরবাসীর মোট আয়ের ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এ শ্রেণীভুক্তদের মাসিক গড় আয়ের পরিমাণ ৮ হাজার ২৭ টাকায়। বৈষম্যের চিত্র প্রকট মহানগরী দুটির সড়ক ব্যবস্থাপনায়ও। রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। দেখা যায়, প্রতিদিনই ট্রাফিক সমস্যায় জর্জরিত ঢাকার সড়কগুলোর ৩০-৩৭ শতাংশ দখল করে থাকে প্রাইভেট কার। এর সঙ্গে জিপগুলোকে যোগ করা হলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০-৪৪ শতাংশে। অথচ এ ধরনের যানবাহন তুলনামূলক কম যাত্রী বহনে সক্ষম। অন্যদিকে নগরীর মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তদের চলাচলের মাধ্যম গণপরিবহন কাঠামোর অবস্থাও দুর্দশাগ্রস্ত। গণপরিবহন ব্যবস্থার সিংহভাগই বেসরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন। যাত্রীসাধারণের চাহিদা সেখানে মূল্য পায় কম। গবেষণায় আরো বলা হয়, রাজধানীতে সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বিভিন্ন মেগাপ্রজেক্ট হাতে নেয়া হলেও তাতে জনগণের প্রয়োজন মেটানো যাবে না। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে দেখা যায়, নগরীর প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলোর অবস্থা মোটামুটি ভালো হলেও এলাকাগুলোর ভেতরের রাস্তাগুলোর প্রায় ৭২ শতাংশই ভাঙাচোরা। এসব রাস্তা দিয়ে কোনোমতে চলাচল করছে নগরবাসী। চলাচলের একেবারে অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি রাস্তা। প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজধানীর মাত্র ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাসিন্দার পিতৃপুরুষের শিকড় ঢাকায়। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে এ ধরনের বাসিন্দাদের হার ৫ দশমিক ৭। বাকিরা সবাই বিভিন্ন জেলা শহর কিংবা গ্রাম থেকে আসা। রাজধানীমুখী মানুষের ঢল বাড়ছে প্রতিদিনই, যার বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে রাজধানীর গৃহায়ণ ও আবাসন খাতে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের প্রায় ৮০ শতাংশের নগর দুটিতে বসবাসের অন্যতম কারণ হলো চাকরি বা উপার্জনের তাগিদ। নানা ধরনের পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করতে সক্ষম হলেও নিরাপদ ও যথাযথ বাসস্থানের সুবিধা নিশ্চিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। নগর দুটির বসতবাড়িগুলোকে ঝুপড়ি, কাঁচা, সেমিপাকা ও পাকা দালান বা অ্যাপার্টমেন্টে ভাগ করে দেখা যায়, ঢাকার মাত্র ২০ দশমিক ৫ শতাংশ নগরবাসী বাস করে নিজস্ব বসতবাড়িতে, চট্টগ্রামে এ হার ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ। বাকিরা বাস করছে ভাড়া, সাবলেট, সরকারি বা চাকরিসূত্রে পাওয়া বাসস্থান ও আত্মীয়স্বজনের আশ্রিত হিসেবে। কিন্তু বসবাসের জায়গা পেলেও বাসস্থানের সুষ্ঠু পরিবেশের ক্ষেত্রেও পড়েছে বৈষম্যের ছাপ। অ্যাপার্টমেন্ট ও পাকা দালান ছাড়া অন্য সব ধরনের বাসস্থানে বাসিন্দারা থাকছে গাদাগাদি করে। বাসস্থানের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে গৃহে প্রতিটি মানুষের অন্তত ১০০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ঢাকায় এ সুবিধা ভোগ করছে শুধু অ্যাপার্টমেন্ট ও পাকা দালানের বাসিন্দারা। অ্যাপার্টমেন্টগুলোর বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে বাসস্থানে মাথাপিছু জায়গার পরিমাণ ২৪২ দশমিক ৮ বর্গফুট ও পাকা দালানে ১২৩ দশমিক ৭২ বর্গফুট। অন্যদিকে সেমিপাকা বা টিনশেড বাড়িগুলোর বাসিন্দারা থাকছে মাথাপিছু ৫৮ দশমিক ৬১ বর্গফুট জায়গায়। সংখ্যার দিক থেকে এরাই সবচেয়ে বেশি। রাজধানীর ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাসিন্দা বাস করছে এ ধরনের বাড়িতে। এছাড়া কাঁচা ঘর ও ঝুপড়ির ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের বসবাসের জন্য মাথাপিছু জায়গার পরিমাণ যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ১৮ ও ২৪ দশমিক ২১ বর্গফুট। প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম শহরের পরিসংখ্যান ঘেঁটেও দেখা গেছে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে নগরবাসীর বাসস্থানের ঠাঁই মিললেও নানা কারণে তা হয়ে পড়ে সাময়িক। দেখা গেছে, বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি, পানি-ইলেকট্রিসিটি-গ্যাস সংকট, নিরাপত্তার অভাবসহ নানা সমস্যার কারণে প্রতিবেদন তৈরির আগে তিন বছর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাসা বদলেছে ঢাকার ৪৩ ও চট্টগ্রামের প্রায় ২৫ শতাংশ বাসিন্দা। জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর প্রায় সব বাড়িতেই বিদ্যুত্ সরবরাহ থাকলেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না পাওয়ায় একে সবচেয়ে বড় নাগরিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে নগরবাসী। নাগরিক সমস্যা হিসেবে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আবাসন সমস্যা। তালিকার এর পরে রয়েছে নিরাপদ পানি সরবরাহ, সুয়ারেজ ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও উপযুক্ত বিনোদনের অভাব। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সম্পাদনায়। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এলজিইডি ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘আরবান পোভার্টি— চ্যালেঞ্জেস অব পারস্পেকটিভ অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পিপিআরসি ও বিবিএসের যৌথ আয়োজনে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের আয়োজন ও গবেষণাকাজে অংশীদার হিসেবে রয়েছে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্প (ইউএনডিপি)। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্মেলনে ভিডিও মেসেজিংয়ের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, জীবিকার তাগিদে শহরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ নগরমুখী হয়ে উঠছে। শহরের বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এর প্রতিকার করা সম্ভব। সরকারও এ উদ্দেশ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনসহ নানামুখী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। সকালে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পিপিআরসির সিনিয়র ফেলো অ্যাম্বাসেডর লিয়াকত আলী চৌধুরী ও বিবিএসের মহাপরিচালক মো. আবদুল ওয়াজেদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়। উদ্বোধনী সেশনের কি-নোট বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সেক্টর ম্যানেজার (আরবান) মিং ঝ্যাং, ইউএনডিপির ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার জন উইলিয়াম টেলর, ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডেভিড হিউম ও ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এ সময় ডক্টর হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সাধারণত নগরায়ণ পরিকল্পনাগুলোয় অভিজাতদের স্বার্থই প্রাধান্য পায় বেশি। এর বিপরীতে গণপরিবহন, সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক গণস্বাস্থ্য ও স্বল্পমূল্যে আবাসনের মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে কম। এছাড়া নগর দারিদ্র্য মোকাবেলা করতে গেলেও তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি এবং কার্যগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সম্মেলনের ‘আরবান পোভার্টি’ কনসেপ্টস অ্যান্ড ইন্ডিকেটরস’ শীর্ষক পরবর্তী সেশনে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউট অব ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরি। ‘আরবান পোভার্টি: অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস’ শীর্ষক সেশনে সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ফোরাম ফর প্ল্যানড চিটাগংয়ের সভাপতি অধ্যাপক সেকান্দার খান। সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্লাম রিয়ালিটিজ’ শীর্ষক দিনের সর্বশেষ সেশন।


বিবিএস-পিপিআরসি’র দু’দিনব্যাপী সম্মেলন শুরু স্টাফ রিপোর্টার: শহর দারিদ্র মোকাবিলায় প্রধান চ্যালেঞ্জ স্যানিটেশন, গণঅভিবাসন ও ভূমি ব্যবহারে রাজনৈতিক প্রভাব। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী ও পৌরসভায় ভিন্ন রকমের সমস্যা। শহর ও পৌরসভার সেবার মানে অনেক পার্থক্য রয়েছে। শহর দারিদ্রদের মাসিক গড় আয় ৮ হাজার টাকার নিচে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁও এলজিইডি মিলনায়তনে ‘শহর দারিদ্র’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে এ সংক্রান্ত গবেষণা গ্রন্থের উপর আলোকপাত করতে গিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সম্মেলনের সমন্বয়কারী ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এ কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন্স রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এতে সার্বিক সহায়তা করে। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলনের প্রধান অতিথি পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এছাড়া দুটো প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সেক্টর ম্যানেজার (আরবান) মিং জং এবং ইউএনডিপি’র ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রফেসর জন উইলিয়াম টেইলর। গবেষণা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের আগে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পৌরসভায় ভিন্ন রকমের সমস্যা। আর এই সমস্যা সমাধানের পথ এগিয়ে নিয়ে যাবে এই সম্মেলন। তিনি বলেন, শহর ও পৌরসভার সেবার মানে অনেক পার্থক্য রয়েছে। কিভাবে এই পার্থক্য কমিয়ে আনা যায় আজকের সম্মেলন থেকে তা বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে পারলে ‘ভিশন ২০২১’ বাস্তবায়ন সহজ হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি অর্জনে শহর দারিদ্র একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, শহরের ওপর চাপ কমাতে আমরা গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন শুরু করেছি। এরই অংশ হিসেবে একশ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছি। এটা করতে পারলে চাকরির জন্য আর শহরে আসতে হবে না। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিটি উপজেলায় মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করতে পারে সেই ব্যবস্থা করছি। এখন আর উচ্চ শিক্ষা বা চাকরির জন্য শহরে আসতে হবে না। স্বাস্থ্য সেবা থেকে কর্মসংস্থান ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌছে দিয়েছি। এর ফলে শহরের ওপর চাপ অনেকাংশ কমে যাবে। তিনি বলেন, শহরে জনগোষ্ঠী এতো বেড়েছে যে এখন শহরের ধারণ করাই কঠিন। সারা বিশ্বে ৫শ’ বছর আগে মাত্র ১০ শতাংশ লোক শহরে বাস করতো। ১৯৫০ সালে সেটি দাঁড়ায় ৩৬ শতাংশে, ২০১৫ তে এসে ৬৬ শতাংশে দাঁড়ায়। দিন দিন শহর তার ধারণ ক্ষমতা হারাচ্ছে। মানুষ শহরে আসতো চাকরি পাওয়ার আশায়। আমরা এখন সেই সুযোগ সুবিধা গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছি। প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, যারা উন্নয়ন কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদের মোকাবিলা করা দারিদ্র মোকাবিলার চাইতে কঠিন। তারা বিজ্ঞান, মানবতা, গণতন্ত্র ও শান্তির বিরোধী। এদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরো শুধু আয়ের বিবেচনায় নগর দারিদ্র নিরূপন করে। কিন্তু আয়-বহির্ভূত অনেক সূচকেও শহরে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বাড়ছে। তিনি বলেন, নগর দারিদ্র্যের প্রধান শিকার কর্মজীবী নারী। শহরায়ন বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে শহর দারিদ্র মোকাবিলা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।


Bangladesh Bureau of Statistics organises a seminar at LGED auditorium at Agargaon in the capital on Saturday. — New Age photo The average income of the people living in Dhaka is still much higher than that of the people living in other cities and municipalities, a World Bank-supported new study revealed on Saturday. The study compared the latest average income of the population living in nine cities and 14 municipalities with the average income of the people living in Dhaka city as was found in a study of 2012. The study shows that the average income of the people living in the municipality areas was 45 per cent lower than that of the people living in the capital city. Even, the study shows, the average income of the people living in the port city of Chittagong is 30 per cent lower than that of the people living in Dhaka. But in Dhaka, the study says, 5.4 per cent households of top income class earning above taka one lakh per month enjoy 39.9 per cent of the total income of the Dhaka’s population. Extreme poor households in Dhaka city constitute 10.1 per cent and they have an average monthly income of Tk 7,204 while the poor constitute 23.9 per cent population with an average monthly income of Tk 11,294, it says. Power and Participation Research Centre, a research organisation, in partnership with the Bangladesh Bureau of Statistics, conducted the study on the emerging urban spectrum. The report of the 2016 study was launched on Saturday, the first day of the two-day international conference on ‘Urban Poverty: Challenges of Perspective and Action’ jointly organised by the PPRC and BBS at the LGED auditorium in capital’s Agargaon. The study was conducted on 5,600 households of the Dhaka, Chittagong and eight other city corporations and 14 municipalities. The study findings show that lower middle-class, whose monthly income is between Tk 10, 000 and Tk 25,000, constitutes the majority of the population in all urban centres. Of the total population in Dhaka, 47 per cent is lower middle-class while they are 56 percent in Chittagong and 49 per cent in municipality areas, the study also reveals. It says that urbanisation and population growth in the urban areas have occurred at a dizzying speed in Bangladesh. Fifty-five years ago, the study says, urban population was barely 2.64 million when today Dhaka alone is a home to nearly 15 million people but overcrowding, unplanned growth and slums have become hallmarks of the urbanization process. The study says that the rapid growth of Dhaka’s population is mainly driven by rural-urban migration, of which 70 percent migrate from villages, 17 per cent from upazila towns and 7 per cent from district towns. On the first day of the international conference, PPRC executive chairman Hossain Zillur Rahman, sector manager for urban of South Asia Region of World Bank Ming Zhang and executive director of Global Development Institute at University of Manchester David Hulme, among others, presented the keynote speeches.


Urban population in Bangladesh will rise to between 91m and 102m by 2050, which will be 44% of total population. Poverty in urban areas is a big challenge for Bangladesh towards achieving middle-income nation status and meeting the Sustainable Development Goals (SDGs), say economists and researchers at an international conference yesterday. “Urban poverty is a big challenge in the way of achieving the status of middle income country as 34% of urban people are poor,” said Hossain Zillur Rahman, executive chairman of Power and Participation Research Centre (PPRC) at the “International Conference on Urban Poverty: Challenges of Perspectives and Action” held at LGED auditorium in Dhaka yesterday. He said: “Bangladesh is witnessing rapid urbanisation with big challenges with different characteristics. If we can mainstreaming the challenges with cooperation from all corner, it would help to attain middle income country status.” Prof Wahiduddin Mahmud, a noted economist, said poverty is spilling over from rural to urban areas due to migration, natural disasters and river erosion. He said in some of the non-income aspects, there are extreme and worst forms of human deprivation in terms of education, health and sanitation in urban areas needed to be addressed. Prof Mahmud said if Bangladesh wants to achieve the SDGs, it will have to look into the urban poverty. He suggested social safety for the rural people, so that they can enjoy the facilities of urbanization. Planning Minister A H M Mustafa Kamal attended the event through a video conference. “The city cannot bear the flow of so many migrant people. That is why we are working to provide facilities to the rural areas,” he said. “We have have to ensure better education, health and job opportunity so the people do not need to come to the cities.” The conference will conclude today. A book “The Urban Spectrum: Metropolitan to Mofussil”, edited by Hossain Zillur Rahman, was launched on the opening day. The book states that the urbanization is a compelling and growing reality, and predicted that urban population in Bangladesh will rise to between 91m and 102m by 2050, which will be 44% of total population. According to the research findings, the average monthly income for the lowest income class across the urban spectrum is below Tk8,000. The lower middle class’s monthly income – between Tk10,000 and 25,000 – constitutes the majority of the population in all urban centers: 47% in Dhaka, 56% in Chittagong and 49% in pourashavas. The findings showed that monthly income of 7.8% of Chittagong City Corporation area people is below Tk10,000. The below Tk10,000 income group is 28% in pourashavas and 11.3% in Dhaka. The lowest monthly average income is Tk7,444 in Dhaka, Tk8,027 in Chittagong and Tk7,717 in pourashavas. The research was conducted at six city corporation areas including Dhaka and Chittagong and 14 pourashavas in 2016. The information on Dhaka City corporation is based on 2012.


Speakers at an international conference on Sunday identified migration of the poor rural people to urban areas as a major obstacle to bring them under the government's social protection programmes. They also suggested that the government agencies should take necessary steps for improving the socioeconomic condition of rural people to help curb the rising trend of migration. The views were expressed at the concluding session of a two-day international conference on 'urban poverty' held in the capital. It was organised jointly by Power and Participation Research Centre (PPRC) and Bangladesh Bureau of Statistics (BBS) and supported by the World Bank and the UNDP. Nearly 80 national and international experts and policymakers, mayors, councillors, academics, NGO representatives, civil society members and development partners attended the conference. The session was chaired by former Bangladesh Bank governor Dr Salehuddin Ahmed. Deputy Chief of General Economics Division (GED) Dr Faizul Islam and Senior Urban Specialist at the World Bank Zahed H. Khan also spoke on the occasion. In his speech, Dr Salehuddin said the poverty scenario in urban areas is different from rural areas. "It is a major challenge for the agencies concerned to include the urban poor in the social protection programmes," said the former central bank governor. The rate of urban poverty is rising in line with the rapid growth in urbanization globally, he said, and suggested finding out the reasons behind the coverage gap in urban areas. He also said a gap exists between targeted people and development agencies including both government and non-governmental organisations (NGOs). "Local government agencies should play a vital role in bridging the communication gap," he suggested. Dr Faizul Islam said according to statistics of 2012, some 60 per cent of urban people live in the country's four cities - Dhaka, Chittagong, Khulna and Rajshahi. Stressing the need for measures to reduce urban poverty in the country, he said if the present trend continues, Dhaka city will be the sixth largest mega city in the world in 2030. "Unfortunately, the urban poor are not well covered by social protection programmes across the globe," he said. Ugo Gentilini, senior economist with Social Protection and Labour Global Practice at the World Bank, said the people's higher rate of mobility including seasonal migration to urban areas is a major challenge for devising a social protection for them. He mentioned that there is a huge gap between the rural and urban poor in covering them under the social protection strategy. "In South Asia, only 2 per cent of urban population are included in social protection measure while 31 per cent of rural poor receive the same," he said.


দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশে নগরায়ণের হার সবচেয়ে বেশি। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে প্রতিবছর নগরে বসবাসকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৬ শতাংশ হারে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নগরে বেড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি মিলনায়তনে গতকাল শনিবার নগর দারিদ্র্য বিষয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী দিনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী সেমিনারটির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। সেমিনারে বক্তারা বলেন, উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অবধারিত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নগরায়ণ। নগর ও গ্রামের আয়বৈষম্যের কারণে শহরে অভিবাসন বেশি হচ্ছে। বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকার নিকৃষ্টতম স্থান থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে ঢাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিকল্প নেই। গতকাল সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন পিপিআরসির নির্বাহী পরিচালক হোসেন জিল্লুর রহমান। এই পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সেক্টর ম্যানেজার মিং ঝ্যাং। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট জিডিপির ৬০ শতাংশ আসে নগর থেকে। জিডিপিতে শুধু ঢাকার অবদান ৩৬ শতাংশ। ১৯৯১ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের নগরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে ২০ লাখ। একই সময়ে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমেছে ৯০ লাখ। এই পর্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আন্তর্জাতিক প্রকল্প ব্যবস্থাপক জন উইলিয়াম টেইলর, ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের অধ্যাপক ডেভিড হিউম ও হোসেন জিল্লুর রহমান। সেমিনারে পিপিআরসি ও বিবিএসের ‘আরবান স্পেকট্রাম: মেট্রোপলিটন টু মফস্বল’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভিডিও বার্তায় বলেন, শহর এত মানুষ ধারণ করতে পারবে না। জনগণ শহরে যে সুবিধা পাবে সরকার সেই সুবিধা গ্রামাঞ্চলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব ব্যবস্থা করা হলে শহরে আসার যে প্রতিযোগিতা, তা কমবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শহর এলাকায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনো তীব্র দারিদ্র্য রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে নগর দারিদ্র্য অবশ্যই নির্মূল করতে হবে। এই পর্বে আরও বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান। দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এম কে মুজেরি। এ পর্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ মনিকা ইয়ানেজ পাগানস, বিবিএসের প্রকল্প পরিচালক দীপঙ্কর রায় প্রমুখ। ‘নগর দারিদ্র্য: সেবা পাওয়ার সুযোগ’ শীর্ষক পর্বে সভাপতিত্ব করেন ফোরাম ফর প্ল্যানড চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক সেকান্দার খান। পিপিআরসির জ্যেষ্ঠ রিসার্চ ফেলো লিয়াকত আলী চৌধুরী তাঁর প্রবন্ধে বলেন, ঢাকা শহরের ৭০ শতাংশ বাসিন্দা ভাড়া বাড়িতে থাকেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক আকতার মাহমুদ তাঁর প্রবন্ধে বলেন, আবদুল্লাহপুর থেকে রামপুরা হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত পথের দূরত্ব ২১ কিলোমিটার। এই পথে যানবাহনের গড় গতি ৭ কিলোমিটার। অর্থাৎ এই দূরত্ব পেরোতে তিন ঘণ্টা লাগছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টসের সাবেক সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, রাজধানীতে বস্তির বাসিন্দারা অন্য বাসিন্দাদের চেয়ে বেশি বাসা ভাড়া দেন। বর্তমানে শহরের যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো সমাধানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার। আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক আবুল কালাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল্লাহ। ‘বস্তির বাস্তবতা’ শীর্ষক দিনের শেষ পর্বে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান তাঁর প্রবন্ধে বলেন, দেশের মোট বস্তির ৫৫ শতাংশই ঢাকায়। বস্তির বাসিন্দারা শহরের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পায় না, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার সংকটে থাকে এবং তাদের কর্মসংস্থানের অভাব থাকে। এই পর্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি কর্মকর্তা আফরিন আকতার, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কানেতা জিল্লুর ও ফারহানা রাজ্জাক। সমাপনী বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, ৪০ বছর ধরে নগর দারিদ্র্য নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। কিন্তু তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। নগরের দরিদ্র ব্যক্তিদের স্বল্পমূল্যে গৃহায়ণের ব্যবস্থা করতে হবে। দারিদ্র্যবান্ধব নগরায়ণ নীতি নিতে হবে।


পিপিআরসির সম্মেলনে বক্তারা কাজের সন্ধানে প্রতিনিয়ত গ্রাম থেকে শহরে আসছে মানুষ। কিন্তু সে অনুপাতে বাড়ছে না তাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। আর উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে এসব মানুষ। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন নীতি ও গবেষণায় বিষয়টি অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক সম্মেলনের প্রথম দিনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পিপিআরসি ও বিবিএসের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, নগর এলাকায় বসবাস করা ৩৪ শতাংশ মানুষই গরিব। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এম মান্নান বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়ার পথে অনেক প্রতিক্রিয়াশীল মানুষ তাতে বাধা দিচ্ছে। তাই যারা আমাদের উন্নতির পথে বাধা দিচ্ছে, প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, দারিদ্র্য দূরীকরণের চেয়ে আমাদের এখন বেশি জরুরি তাদের প্রতিরোধ করা, প্রতিহত করা। অশান্তি সৃষ্টিকারীদের সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সম্মেলনের সমন্বয়ক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান তাঁর ‘বাংলাদেশ : দ্য আরবান স্পেকট্রাম, মেট্রোপলিটন টু মফস্বল’ শীর্ষক উপস্থাপনায় বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক দারিদ্র্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দারিদ্র্যের কারণে শহরের শিশুরা স্কুলে যাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ ছাড়া কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে যারা রিকশা চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে, তারা খুবই নিম্ন জীবন যাপন করছে। এসব মানুষ বিভিন্ন বস্তিতে বসবাস করছে। এসব বস্তির জমি নিয়ে এক ধরনের রাজনৈতিক অর্থনীতি কাজ করে, যা নগর-দরিদ্রদের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দেয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, গ্রামাঞ্চলে কাজের সুযোগ কমে গেলে মানুষ শহরমুখী হয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলানোর ক্ষমতা শহরের নেই। আর শহরের ব্যাপ্তি বাড়বে, এটাও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার ওপর চাপ কমাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ওই সব স্থানে কাজের সুযোগ বাড়বে। ফলে সেখান থেকে মানুষ আর ঢাকা বা অন্য বড় শহরে যাবে না।


প্রতিদিনই গ্রাম থেকে কাজের মানুষ শহরে আসছে। এতে প্রতিদিনই শহরে চাপ বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে তাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে না। একই সঙ্গে যে আয় হচ্ছে, তা দিয়ে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন এসব মানুষ। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন নীতি ও গবেষণায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরে্যার (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মিলনায়তনে দুদিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ইউনিভার্সিটি অব মানচেস্টারের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডেভিড হিউম বলেন, নগরে যে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে সেটা অনেক ক্ষেত্রেই অগোচরে থেকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন নীতিতে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তেমন গবেষণাও হচ্ছে না। ফলে এ ধরনের দরিদ্র মানুষ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সম্মেলনের সমন্বয়ক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান তার ‘বাংলাদেশ: দ্য আরবান স্পেকট্রাম, মেট্রোপলিটান টু মফস্বল’ শীর্ষক উপস্থাপনায় বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক দারিদ্র্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের কারণে শহরের শিশুরা স্কুলে যাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ ছাড়া কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে যারা রিকশা চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন, তারা খুবই নিম্ন জীবনযাপন করছেন। এসব মানুষ ভালো পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বসবাস করেন বিভিন্ন বস্তিতে। আর এসব বস্তির জমি নিয়েও এক ধরনের রাজনৈতিক অর্থনীতি কাজ করে। যা নগর দরিদ্রদের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দেয়। তিনি জানান, বিভিন্ন শহরের দারিদ্র্য চিত্রের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। ঢাকা শহরে দারিদ্যের যে চিত্র, অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকার চিত্র তার থেকে আলাদা। আর শহর ভেদে বিভিন্ন ধরনের কাজে নিয়োজিত হওয়ার ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে। বিশেষ করে বড় শহর ও মফস্বল শহরের মধ্যে একটি বিরাট পার্থক্য রয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, গ্রামাঞ্চলে কাজের সুযোগ কমে গেলে মানুষ শহরমুখী হয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলানোর ক্ষমতা শহরের নেই। এ কারণে ঢাকার ওপর চাপ কমাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক কর্মকা- বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক এলাকা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এগুলো বাস্তবায়ন হলে ওইসব স্থানে কাজের সুযোগ বাড়বে। ফলে সেখান থেকে মানুষ আর ঢাকা বা অন্য বড় শহরের দিকে ধাবিত হবে না। সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নগর জনসংখ্যা বাড়ছে খুবই দ্রুতগতিতে। এর ধারাবাহিকতায় বাড়ছে নগর দরিদ্র্যের সংখ্যা। এ ক্ষেত্রে কেবল আয়ের দারিদ্র্যকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আয়ের বাইরেও দারিদ্রের আরও অনেক নির্ধারক রয়েছে।


কাজের সন্ধানে প্রতিনিয়ত গ্রাম থেকে মানুষ আসছে শহরে। বাড়ছে মানুষের চাপ। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না তাদের নাগরিক সুবিধা। আর উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন এসব মানুষ। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন নীতি ও গবেষণায় বিষয়টি অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুর্যোর (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ কথা বলেন বক্তারা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) মিলনায়তনে দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডেভিড হিউম বলেন, নগরে যে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে সেটা অনেক ক্ষেত্রেই অগোচরে থেকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন নীতিতে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তেমন গবেষণাও হচ্ছে না। ফলে এ ধরনের দরিদ্র মানুষ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সম্মেলনের সমন্বয়ক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান তার ‘বাংলাদেশ : দ্য আরবান স্পেকট্রাম, মেট্রোপলিটান টু মফস্বল’ শীর্ষক উপস্থাপনায় বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক দারিদ্র্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দারিদ্র্যের কারণে শহরের শিশুরা স্কুলে যাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে যারা রিকশা চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন, তারা খুবই নিম্ন জীবনযাপন করছেন। এসব মানুষ ভালো পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এসব মানুষ বিভিন্ন বস্তিতে বসবাস করে। এসব বস্তির জমি নিয়ে এক ধরনের রাজনৈতিক অর্থনীতি কাজ করে। যা নরগ দরিদ্রদের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দেয়। তিনি জানান, বিভিন্ন শহরের দারিদ্র্য চিত্রের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। ঢাকা শহরে দারিদ্র্যের যে চিত্র অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকার চিত্র তার থেকে আলাদা। আর শহর ভেদে বিভিন্ন ধরনের কাজে নিয়োজিত হওয়ার ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে। বিশেষ করে বড় শহর ও মফস্বল শহরের মধ্যে একটি বিরাট পার্থক্য রয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, গ্রামাঞ্চলে কাজের সুযোগ কমে গেলে মানুষ শহরমুখী হয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলানোর ক্ষমতা শহরের নেই। আর শহরের ব্যাপ্তি বাড়বে এটাও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ফলে বিষয়টিকে আটকে রাখার সুযোগ নেই। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার ওপর চাপ কমাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক এলাকা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এগুলো বাস্তবায়ন হলে ওইসব স্থানে কাজের সুযোগ বাড়বে। ফলে সেখান থেকে মানুষ আর ঢাকা বা অন্য বড় শহরের দিকে ধাবিত হবে না। সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নগর জনসংখ্যা বাড়ছে খুবই দ্রুতগতিতে। এর ধারাবাহিকতায় বাড়ছে নগর দারিদ্র্যের সংখ্যা। এক্ষেত্রে কেবল আয় দারিদ্র্যকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আয়ের বাইরেও দারিদ্র্যেও আরও অনেক নির্ধারক রয়েছে। সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে ওইসব জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণ করতে হবে। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, সরকার সব পর্যায়ের দারিদ্র্য নিরসনে কাজ করছে। সেই মোতাবেক সহায়ক নীতিও প্রণয়ন করা হচ্ছে। তবে এখন দারিদ্র্যের চেয়েও ভয়াবহ আকার হিসেবে দেখা দিচ্ছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার মতো বিভিন্ন ধরনের নিয়ামক। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যারা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করতে চায়, তাদেরকে প্রতিরোধ করা।


Fourth from right, State Minister for Finance and Planning MA Mannan attends the launch f The Urban Spectrum, a publication of the Power and Participation Research Centre, at the opening of a two-day international conference on urban poverty at the LGED auditorium in Dhaka yesterday. Photo: Star The number of urban poor in Bangladesh rose about 33 percent to eight million between 1992 and 2010, the World Bank said yesterday. However, the number of rural poor decreased from 55 million to 46 million during the period, said Ming Zhang, sector manager for urban South Asia at the WB. The quality of life of the urban poor is also worse than that of the rural poor, he said in his presentation at the inaugural of a two-day international conference on urban poverty. The Power and Participation Research Centre (PPRC) and Bangladesh Bureau of Statistics (BBS) jointly organised the programme in the city's LGED auditorium in partnership with the WB and United Nations Development Programme. “Typically, they [urban poor] live in slums located on marginal lands. These are overcrowded, lack infrastructure, and have poor quality housing, limited access to services and insecure land tenure,” he said. “In urban area, you need cash to buy anything,” Ming Zhang said, suggesting a contradiction of the rural areas where they have community life and interconnectedness that come in aid in any social and economic shocks. The urban poor often face deprivation of education and health services, he said. This is happening despite the fact that urbanisation is occurring rapidly in the country, and that over 60 percent of the national GDP comes from cities. According to BBS, urban population in the country will rise to nearly 102 million by 2050, which will be 44 percent of the total population. Economists and urban experts said policymakers have been focusing on rural poverty over the decades, while urban poverty remained neglected. PPRC Executive Director Hossain Zillur Rahman said the urban poor are the lucrative market for unscrupulous land-grabbers and corrupt politicians and officials who often establish informal housing settlements on disputed public land. He said there is a political economy, because of which many policy initiatives on public transportation, low-cost housing, urban health and slum improvements see poor progress. Bringing the social and human face of urban poverty into focus is important because the urban poor, unlike the rural poor, enjoy less residential fixity and often suffer from a reality of being illegal citizens with greater burdens of insecurity and social discrimination, Rahman wrote in an article on the challenges of scaling up the urban focus. The urban poor, therefore, remain invisible in the statistical systems that tend to favor the formal and residential identity as the basis for statistical inclusion, he said. The factors that differentiate the urban poor from the rural one also include frequent shift in residence, environmental hazards, social fragmentation, exposure to crimes and violence and accidents, the economist said. There is also huge income disparity in the cities. For example, households with monthly income below Tk 25,000 constitute 58.4 percent of households in Dhaka but they enjoy an income share of only 21 percent, Rahman said. In contrast, the top-ranked class with monthly household income above Tk 1 lakh constitutes 5.4 percent of all Dhaka households, but enjoys an income share of 39.9 percent, he added. Professor Wahiduddin Mahmud demanded the authorities urgently focus on urban poverty, arguing that extreme urban poverty is the worst form of human deprivation in some parts of urban population, which is increasing rapidly. “In rural areas you have informal insurance and support from community. In urban setting that kind of support is absent,” he said. Policymakers neglected urban poverty because they thought it is a spillover effect of rural-urban migration, he said. However, Mahmud said there is a lot of forced migration to urban areas because of natural calamities like river erosion. But, on arrival in urban slums, they find their socio-economic status going down, he added. Also, in recent times many women workers are moving to the cities, and there is gender discrimination in wages, he said. Planning Minister AHM Mustafa Kamal in a video message said the government initiated a move to establish 100 economic zones, which will create jobs in rural areas. Besides, it will upgrade educational and health institutions in rural areas to check massive rural-urban migration. State Minister for Finance and Planning MA Mannan; Professor David Hulme of the Global Development Institute, University of Manchester; UNDP's International Project Manager John William Tailor and PPRC Senior Fellow Liaquat Ali Choudhury also spoke.


Experts tell int'l conference Experts at an international conference Saturday urged Bangladesh to address urban poverty, which can help the nation achieve sustainable development goal (SDG) of improving the lives of extreme poor in cities. They also suggested that the whole urbanization process should take into consideration the needs and demands of the poor to make the development process inclusive and pro-poor. "Urbanization should be decentralized to reduce mounting pressure on one or two cities only," they noted. The experts' observations came at the inaugural session of a two-day international conference on 'Urban Poverty' on September 24-25 at the LGED Auditorium in the capital. Organised jointly by Power and Participation Research Centre (PPRC) and Bangladesh Bureau of Statistics (BBS) and supported by the World Bank and the UNDP, the conference was attended by nearly 80 national and international experts and policy-makers, mayors, councilors, academics, representatives of NGOs, civil society members, development partners and government agencies. The inaugural session was chaired by Hossain Zillur Rahman, Executive Chairman of PPRC. Ming Zhang, Practice Manager of South Asia Region Urban Unit of the World Bank made the keynote presentation on 'Issues and Realities of Urban Poverty: Global Perspectives'. Experts said urban poverty does not necessarily indicate any failure. "Rather it should be looked at in broad context of urbanization". Restricting internal migration is not a solution to urban poverty and it is not a good policy measure as urbanisation is important for getting out of poverty, they pointed out. Noted economist Professor Wahid Uddin Mahmud said the BBS estimation of urban poverty is in terms of income poverty. In terms of non-income aspects and well being like health and education outcomes, some of the urban populations suffer more from extreme and worst forms of deprivation than their rural counterparts. In rural areas, enrolment in primary education is almost 100 per cent, which is much lower in urban areas, he said. "If the government wants to achieve the SDG goal of eradication of extreme poverty, it must address urban poverty," he said. Referring to studies, he said most of the rural-urban migration represents upward economic mobility. That's why the process should be encouraged. There is migration of many female workers to urban areas for joining the labour force. But they are paid less due to the prevailing gender discrimination everywhere for which they live in the twilight of poverty and non-poverty. In his presentation, Ming Zhang said the urban poor have lower skills, get low wages, suffer from unemployment, under-employment and have no social insurance. They work mostly in the informal sector. Youth unemployment is a major problem. The urban poor typically live in slums located on marginal lands amid overcrowding, lack of infrastructure, poor quality housing, limited access to services and insecure land tenure. Urban poverty is particularly different from that of rural poverty as everything one needs has to be bought with cash for which a job is required. Income relies on cash and it is insecure as it depends on skills, Mr Ming Zhang pointed out. Density is much higher in urban centres than in rural areas with pollution, hazards and health issues, the keynote said. There are risks like health (overcrowding, inadequate water and sanitation, indoor air pollution and HIV/AIDS), climate change, disasters (locations, poor infrastructure) and other environmental hazards. A majority of the poor live in undesirable locations, trade-offs between inner city and peri-urban areas where transport costs are high, inequality is stark and they have links to crime and violence. Ming Zhang said Bangladesh's is already an urbanised economy which has experienced the most rapid increase in urbanisation in South Asia with 5.0 per cent annual urban population growth between 1960 and 2010. Over 60 per cent of its national GDP comes from cities. Export-oriented garment industries are concentrated in large cities like Dhaka, contributing 36 per cent of GDP (9 per cent of population) and Chittagong 11 per cent of GDP (3 per cent of population). Hossain Zillur Rahman made a presentation on the study findings on 'Urban Poverty In Bangladesh: Challenges of Perspectives and Action'. The noted economist said average pourashava income (2016) is 45 per cent lower than average Dhaka income (2012), while average Chittagong income (2016) is 30 percent lower than average Dhaka income (2012). The top income class (above 1,00,000 per month) in Dhaka (2012) constitutes only 5.4 per cent of households but enjoy 39.9 per cent of total Dhaka's income, while average monthly income for the lowest income class across the urban spectrum is below Tk 8,000. He further said monthly income of the lower middle class between Tk 10,000 and Tk 25,000 is for the majority of the population in all urban centres -- 47 per cent in Dhaka, 56 per cent in Chittagong and 49 per cent in pourashavas. Hossain Zillur Rahman criticised the elitist bias in setting urban priorities with low priority to public transportation, urban social protection, urban health, low-cost housing, WASH, low-cost housing, skill education etc. He also referred to policy propensity for slum eviction as an easy option, inefficient land-use put out of focus and potential of land pooling approach, not yet on agenda. Institute for Inclusive Finance and Development (InM) executive director Mustafa K Mujeri said once urban poverty was residual as the number of urban poor was very small. But policymakers should have explicit targeting of urban poverty due to the dynamic characteristics of urban poverty. The urbanisation process must be pro-poor, manageable and decentralised, because it promotes growth and it should be balanced, he added.


অন্যান্যবারের মতো এবারের বাজেটেরও অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল আমলাতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বাজেটগুলোয় আমলাতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার এ মৌলিক বাস্তবতা অনেকাংশে ঢাকা পড়েছে প্রারম্ভিক বক্তব্যের বাগ্মিতায়। বাজেট বক্তব্যের প্রথমার্ধে অনেক ভালো ভালো লক্ষ্যমাত্রার কথা আছে। যেমন— এসডিজি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি। নিঃসন্দেহে এসবই কাঙ্ক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ। এবারের বাজেটেও নতুন আকাঙ্ক্ষার জায়গাটা মূলত কিছু মেগা প্রজেক্টকেন্দ্রিক। এ বাজেটে অর্থায়নের মতো দৃশ্যমান কিছু ঘাটতি রয়েছে, যা আলোচনায় এরই মধ্যে এসেছে। ঘাটতি বাজেট ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। ২০১৩ অর্থবছর থেকে আসলে বাস্তবিক রাজস্ব আহরণ ও টার্গেট ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে। এখন অর্থায়ন ঘাটতিটা আরো তীব্রতর হচ্ছে। কারণ রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। বরং অর্জিত না হওয়ার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এজন্য ঋণের ওপর অধিক নির্ভরশীলতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ঋণ পরিশোধের সুদ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি চাপের কারণ হবে। তবে বাজেট ঘাটতি এখনো ৫ শতাংশ। এটিই আসলে প্রান্তসীমা হওয়া উচিত। এর চেয়ে বেশি ঘাটতি বাড়তে দেয়া ঠিক হবে না। এর উপরে যাওয়া মানে তথাকথিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও হুমকিতে পড়া। আইএমএফও বলেছে, ৫ শতাংশ বাজেট ঘাটতি গ্রহণযোগ্য, এর বেশি নয়। এখন আমরা এ প্রান্তসীমায় আছি; সেটাও থাকছি অনেক কিছু কাটছাঁট করেই। অর্থায়নের মতো দৃশ্যমান ঘাটতি নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু যে ঘাটতি অত দৃশ্যমান নয় এবং আলোচনায় আসছে না সেটা হলো, কৌশলগত ঘাটতি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে কৌশলের প্রয়োজনটা আরো দুটি কারণে বেশি। এক. এসডিজির সময়কাল শুরু। কাজেই এসডিজি অর্জন কৌশলের একটি ব্যাপার আছে। দুই. আমরা গড়াতে গড়াতে নিম্নমধ্যম আয়ের পর্যায় অতিক্রম করেছি; এখন অর্থবহ মধ্যম আয়ে যাওয়ার বিষয় রয়েছে। মূলত এ দুই কারণে কৌশলের প্রয়োজনটা অত্যধিক। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, অর্থমন্ত্রীর উদ্ভাবনী চিন্তা পিপিপি ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি এটি ২০০৯ সালে শুরু করেছিলেন। কিন্তু এর খুব একটা কার্যকারিতা দৃশ্যমান নয়। ভবিষ্যতেও অর্থায়নের ক্ষেত্রে এটি হয়ে যাবে অন্যতম সমস্যা। সরকারের দিকনির্দেশনাগুলোও পরিষ্কার নয়। ভ্যাটের বিষয়ে এক ধরনের নির্দেশনা আছে। সন্দেহ নেই, ভ্যাটের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ পড়বে। যদিও ১৫ শতাংশের পূর্ণাঙ্গ ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না, কিন্তু প্যাকেজ মূসক বাড়ানো হয়েছে। এটি বাস্তবে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এর ফলে জনজীবনে একটি প্রভাব পড়বে; জীবনমানের ব্যয় বেড়ে যাবে। অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হলে কর আহরণ তো নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু সরকার করের টেকসই সমাধান করতে পারছে না। ফলে নানাভাবে চাপ পড়ছে বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের ওপর। তার পরও কর আহরণ বাড়ছে বটে, কিন্তু ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ছে না। এর অনেক উদাহরণ আছে। যেমন দেখা যায়, এডিপি প্রথম ১০ মাসে ৫০ শতাংশের কম ব্যয় হয়। শেষে হুট করে সব শেষ করার চেষ্টা চলে। এটি আমাদের বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজেই ব্যয়ের দক্ষতার এটি একটা দিক। আরেকটি বিষয়, অযৌক্তিক প্রকল্প খরচ। এটি জোরালোভাবে আলোচনায় আনতেই হবে। ব্যয়ের দক্ষতা মানে হলো প্রকল্পের ব্যয় সুষ্ঠুভাবে সাজানো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অযৌক্তিক প্রকল্প খরচ বাংলাদেশে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বৃহত্ প্রকল্পগুলোয়। ব্যয়ের দক্ষতার দুটো বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এক. যথাসময়ে প্রকল্প শেষ না করা এবং দুই. অযৌক্তিক ব্যয়ের মাধ্যমে বোঝা বাড়ানো। বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নের বিরাট চ্যালেঞ্জে দিশাহারা হয়ে সরকার মূসক দ্বিগুণ করার মাধ্যমে ছোটখাটো অনেকের ওপর চাপ দিচ্ছে। এগুলো করেও যে ব্যয়টা সুষ্ঠুভাবে করবে, তার নিশ্চয়তা নেই। ব্যয়ের দক্ষতার ঘাটতি সময়ের ব্যবধানে দিন দিন বড় হচ্ছে। প্রকল্প হয়নি অথচ গাড়ি বিলাস বাড়ছে। তবে এর চেয়ে বড় বিষয় হলো, এখন অযৌক্তিক প্রকল্প ব্যয়ের গল্পের মধ্যে আরেকটি গল্প লুক্কায়িত আছে। সেটি হলো, বৈধ দুর্নীতি। দুর্নীতিটা এখন বৈধ হয়ে যাচ্ছে। ১০০ টাকার খরচ ১ হাজার টাকা করলে অবধারিতভাবেই এটি একটি দুর্নীতির বিষয়। ব্যয়ের গল্পের মধ্যে ‘বৈধ দুর্নীতি’র বিস্তার ঘটছে। নিম্নমধ্যম আয় থেকে অর্থবহ উচ্চমধ্যম আয়ে যাওয়াটা তত আলোচনায় নেই। নিম্নমধ্যম আয় থেকে উচ্চমধ্যম আয়ে যেতে অনেক দেশেরই অনেক বছর লেগেছে। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে যেতে তো পারবই না, ৩০ সালের মধ্যেও যে সম্ভাবনার জায়গাটা, সেখানে কৌশলটা আসলে কোথায়? এ মুহূর্তে সরকার প্রবৃদ্ধিও ত্বরান্বিত করতে চায়, সমতাও ত্বরান্বিত করতে চায়। এগুলো নিয়ে সরকার অনেক কথা বলছে, কিন্তু কৌশল অংশে তেমন কথাবার্তা দৃশ্যমান নয়। আটটি মেগা প্রকল্প দিয়ে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টানোর চেষ্টা কতটুকু বাস্তবসম্মত? এটি তো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনমাত্র, কালকে সম্পন্ন হচ্ছে না। এবারের বাজেটে পায়রা বন্দর, সোনাদিয়া বন্দর নিয়ে বলা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বরাদ্দ নেই। অস্বীকারের উপায় নেই, প্রবৃদ্ধি আমাদের মোটামুটি বেড়েছে। এটি কয়েক বছর ধরে ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে আছে। কিন্তু কর্মসংস্থান সেভাবে বাড়েনি। বর্তমানে দেশে কর্মসংস্থান একটি অত্যন্ত দুর্বল জায়গা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এক্ষেত্রে অনেকগুলো ফ্যাক্টর দেখা যায়। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান ৭৬ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তার মানে কর্মসংস্থান হচ্ছে। তবে তা রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে। পিয়ন, গার্ড প্রভৃতি ছোটখাটো ক্ষেত্রে। অর্থাত্ বাংলাদেশে এখন ভয়ঙ্কর রকম ছদ্ম বেকারত্বের সমস্যা আবির্ভূত হয়েছে। ছদ্ম বেকারত্বের আরো কয়েকটি দিক আছে। রেমিট্যান্স কমে আসছে। গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বাইরে গিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল। কিন্তু আজ সেটি হুমকির মুখে। এ মুহূর্তের আরেকটি আলোচিত বিষয় হচ্ছে, প্রায় পাঁচ লাখ তথাকথিত অবৈধ অভিবাসীকে ইউরোপ-আমেরিকা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টা বলবত্। এর একটি চাপও রয়েছে। এটি সমাধানের কৌশল কোথায়? বলা যায়, একেবারেই অনুপস্থিত। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের অনেকগুলো সূচক দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে ছদ্ম বেকারত্ব একটি। এটি একটি সাংঘাতিক সমস্যা। তার মানে এমএ পাস পিয়ন। এক প্রতিবেদনে জানা গেল, ইজিবাইক চালকদের বেশির ভাগই গ্র্যাজুয়েট। কাজ না পেয়ে এটি করা নিঃসন্দেহে ভালো। তবে এটি ছদ্ম বেকারত্বেরই একটি দিক। আর কর্মসংস্থান নেই বলে তাদের এটি করতে হচ্ছে। কাজেই কর্মসংস্থান একটি গভীরতম সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। আগামীতে আমরা মধ্যম আয়ে পৌঁছব কিনা, তার অন্যতম সমাধান খুঁজতে হবে কীভাবে অর্থবহ কর্মসংস্থান বাড়াতে পারছি তার মধ্যে। এখানে এটিও বলা দরকার যে, কর্মসংস্থানের এ বিরাট সংকট সত্ত্বেও আমাদের দেশ থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের মতো রেমিট্যান্স পায় ভারত। অর্থাত্ আমাদের এখানকার কিছু ভালো ভালো চাকরি বিদেশী লোকের কাছে। এটি কিন্তু একটি সূচক, যা নিয়ে আলোচনা থাকা দরকার। সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি পরিসংখ্যান বেরিয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অনেক লোক কর্মরত আছে বটে, কিন্তু দরিদ্র অবস্থায় রয়ে গেছে। কৌশলের দিক থেকে এখানে বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। কর্মসংস্থানের কৌশল দেখতে হলে খাতওয়ারি কৌশলটা দেখা দরকার। খাতওয়ারি কৌশলে আমরা কী দেখতে পাচ্ছি। যেমন— চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা। সেখানে সরকারের মনোযোগ নেই। এবার দেখা যাক, কৃষির প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন। কৃষিতে ভর্তুকির বিষয়টি একেবারেই আমলাতান্ত্রিক গতানুগতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কৃষিকে আমার দেখছি শুধু খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি ক্ষেত্র হিসেবে। কিন্তু এটিকে একটি প্রবৃদ্ধির চালক হিসেবে দেখার কোনো মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে তেমন কোনো বক্তব্যও নেই। কেবল রেফারেন্স হিসেবে আমাদের মত্স্য খাতের বিষয়টি আছে, কিন্তু কৌশলগত বিগ পুশের কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। নিঃসন্দেহে এখানেও কর্মসংস্থান বাড়ানো অসম্ভব নয়, যদি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নেয়া যায়। শিল্প খাতেও যুগান্তকারী পরিবর্তনের কোনো প্রচেষ্টা সরকারের আছে বলে মনে হচ্ছে না। নিশ্চয়ই এখানেও কর্মসংস্থান বাড়তে পারে। তবে শিল্পায়নে বড় প্রয়োজন হলো, কেবল বৃহত্ প্রকল্পে নয়, মাঝারি আকারের প্রকল্পেও গুরুত্ব দেয়া। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পবান্ধব অবকাঠামোগুলোয় আমাদের বেশি মনোযোগ দিতে হবে। যেমন— এগ্রিমার্কেটিং অবকাঠামো। এক্ষেত্রে বরাদ্দ কোথায়? আমরা এ খাতে বরাদ্দ দেখতে পাই না। এটি আসলে একটি বড় ধরনের সমস্যা। অবকাঠামো বরাদ্দের পুরোটাই হচ্ছে মেগা প্রজেক্টকেন্দ্রিক। মেগা প্রজেক্টের এ প্রবণতা সুষম উন্নয়নের ধারণা থেকে সরে এসে কিছুটা একনায়কতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হচ্ছে। সে হিসেবে মেগা প্রজেক্টের সঙ্গে একনায়কতন্ত্রের একটা সম্পর্ক দেখানো যায়। যেখানে শাসন ব্যবস্থা একনায়কতান্ত্রিক হয়ে যায়, সেখানে মেগা প্রজেক্ট করার প্রবণতাটা আরো বেড়ে যায়। ফলে সুষম প্রকল্প ধারণাটা কমে যায়। এজন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো কথা বলা হচ্ছে না, কিন্তু আরো ২০-৩০ বছর পর যেগুলো হবে, সেগুলোর ওপর বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। কিংবা গ্রামীণ অবকাঠামোর মধ্যে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো ক্ষুদ্র ও মাঝারি অবকাঠামো জোরদারে কোনো নজর নেই। শিল্প-কৃষিতেও আমাদের বিরাট কৌশলগত ঘাটতি আছে। আমাদের জাতীয় আয়ে সেবা খাতের অবদান প্রায় ৫৬ শতাংশ। সে সেবা খাত আসলে কী? সেটি হলো, রাস্তার পাশের চায়ের দোকান, ছোট্ট মুদি দোকান, ছোট্ট ওয়ার্কশপ ইত্যাদি। এগুলো দিয়েই ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। আরেকটি বিষয় বলা দরকার সেটি হলো, প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান এখন বিশ্বাসযোগ্যতা ঘাটতির সংকটে পড়ছে। চলতি বছর ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান হিসেবে রেফারেন্সে হয়তো আসবে বটে, কিন্তু এর কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা কম করা উচিত। বরং আমাদের নজর দেয়া উচিত কর্মসংস্থান হচ্ছে কিনা, শিল্পায়নের খাতগুলো কী, আমাদের কৃষির প্রবৃদ্ধির জায়গাগুলো কোথায় এবং প্রকল্প ব্যয়ের যৌক্তিকতা আছে কিনা এসব বিষয়ে। আলোচনাটা এখানেই থাকা উচিত। কেননা প্রবৃদ্ধি হারের বিষয়টি এখন আর বিশ্বাসযোগ্য সূচক হিসেবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমে যাচ্ছে। সরকারিভাবে একটি পরিসংখ্যান তৈরির ধাক্কা দেয়া হচ্ছে, কিন্তু অর্থনীতির অন্য সূচকের আলোচনা থেকে তা বের করে আনা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলো, মানবসম্পদ। প্রস্তাবিত বাজেটে এক ধরনের দেখিয়ে দেয়া হয়েছে এ খাতে অনেক দেয়া হয়েছে। কিন্তু মানবসম্পদ উন্নয়নে সবচেয়ে বড় সমস্যা কি? কিছুদিন আগে মিডিয়ায় এমএ পাস করা তরুণদের কী অবস্থা তা দেখানো হয়েছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে শিক্ষার মান অন্যতম একটি সমস্যার জায়গা। এ সমস্যা সমাধানে বাজেটে কৌশল কোথায়? আমাদের অবশ্যই এ প্রশ্ন করতে হবে। এ বাজেটে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যায়ে ঘাটতি সমাধানে কৌশল গ্রহণের সুযোগ ছিল। এখনো আলোচনা হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষায় কী কী হবে। অথচ আলোচনায় আসেনি মাধ্যমিক শিক্ষায় কী কী হওয়া দরকার। এটি সরাসরি বরাদ্দ প্রদানের জায়গা ছিল। সন্দেহ নেই, মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়ন করতে হলে এক্ষেত্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। কারণ সরকারি ব্যয়ে অনেক স্কুল নির্মাণ করা দরকার। মাধ্যমিক শিক্ষার কোনো অর্থবহ কৌশল দেখা যাচ্ছে না। এখানে দায়টা অর্থ মন্ত্রণালয়ের চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেশি। অর্থমন্ত্রী দক্ষতা উন্নয়নে একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলেছেন। অথচ ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল এবং তার একটি সচিবালয় ১০ বছর ধরেই আছে। এটি থাকা সত্ত্বেও একই বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এটি কিছুটা কাজে দেবে। কিন্তু সার্বিক কৌশলে ধাক্কা দেয়ার যে বিষয়, সেখানে কোনো নজর নেই। ভবিষ্যতে প্রবাসে শ্রমিক পাঠানো আসলে দক্ষতা ছাড়া হবে না। কাজেই কৌশলে নজর দেয়ার বিকল্প নেই। এবার আসা যাক, স্বাস্থ্য খাতে। এসডিজির র্যাংকিংয়ে স্বাস্থ্যটা উপরের দিকে চলে এসেছে। এ বাজেটে স্বাস্থ্য খাতেও কৌশলগত দুর্বলতা লক্ষ করা গেছে। স্বাস্থ্য এখন এসডিজির তৃতীয় প্রাধিকার। বর্তমানে ইউনিভার্সল হেলথ কাভারেজের কথা উঠছে। স্বাস্থ্য খাতে আগের মতোই বরাদ্দ আছে। এখানে মূল চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার উপায় কোথায়? যেমন— নগর স্বাস্থ্য অন্যতম উদীয়মান একটি ইস্যু। এক্ষেত্রে আলোচনা নেই, বরাদ্দ নেই, কিছুই নেই। বলা যায়, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের মূল চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় বরাদ্দ নেই এবং কৌশলও নেই। এখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েরও কিছুটা দায় আছে। এখন এমটিবিএফের ফলে মন্ত্রণালয়গুলো একাধারে বাস্তবায়নকারী এবং কর্মসূচি নির্ধারক। বাজেটে যে স্বাস্থ্য খাতের কৌশলগত দুর্বলতা আছে, তার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় এককভাবে দায়ী নয়। বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়েরই কৌশলগত বিষয়গুলো সামনে আনা দরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দৃশ্যত এ কাজ করেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল নগর স্বাস্থ্য, বিভিন্ন প্রকল্প এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসা। আরেকটি ইস্যু হলো সামাজিক নিরাপত্তা। এক্ষেত্রে আমাদের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসংস্থানের বিকল্প হলে চলবে না। এখানে বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অন্যতম সফল স্তম্ভ হচ্ছে স্থানীয় সরকার। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ। যতগুলো প্রকল্প আছে, শেষ বিচারে তাদের সম্পৃক্ত করেই কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হয়। এর সূত্র ধরে বৃহত্তর আরেকটি প্রসঙ্গ তোলা জরুরি। সামাজিক নিরাপত্তার পথ ধরে রয়েছে অর্থনৈতিক সুশাসনের বিষয়টি। অর্থনৈতিক সুশাসন শুধু অর্থমন্ত্রীর নয়; এটি সার্বিক সরকারের আওতাধীন। একদিকে সামাজিক নিরাপত্তার কথা আমরা বলছি, অন্যদিকে যে স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে বরাদ্দগুলো কার্যকর করা হবে, সেগুলোয় তথা স্থানীয় সরকারে তেমন কোনো নজর নেই। এখানে সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখা প্রয়োজন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্বে যারা আসছে, তাদের তৃণমূলের প্রতি দায়বদ্ধতা কমে যাচ্ছে। কারণ তারা একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেতৃত্বে আসছে। মাঠে আমরা এরই মধ্যে আভাস পাচ্ছি, লিকেজ সমস্যাটা আবারো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। কিছু প্রকল্প আছে ভালো, সেগুলোয় কিছু সেফগার্ড তৈরি করা হয়েছে। অনেক প্রকল্প আছে, যেখানে সেফগার্ড নেই। তার পরও যতই সেফগার্ড তৈরি করা হোক না কেন, স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিতদের মান, মানসিকতা এবং তৃণমূলের প্রতি দায়বদ্ধতা অন্যতম সূচক যে এই বরাদ্দগুলো কাজে দেবে নাকি এগুলো সেই লিকেজটাকে আরো ত্বরান্বিত করবে। কাজেই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিতে একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সুশাসন অর্থমন্ত্রীর একার আওতার মধ্যে নেই, এটি সার্বিকভাবে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। অযৌক্তিক প্রকল্প ব্যয়, ‘বৈধ দুর্নীতি’, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, সেগুলো নিরসনে কোনো দিশা নেই। ব্যাংকিং খাতের জন্য আলাদা কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল। সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পরও সেটি গঠন করা হলো না। এক ধরনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সত্ত্বেও ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ার পেছনেও অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক সুশাসনের ঘাটতি। অর্থনৈতিক সুশাসনের ঘাটতি দুভাবে কাজ করছে। এক. ব্যাংকিং খাতে বিপর্যয় ঘটাচ্ছে এবং দুই. বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সমন্বয়হীনতা ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটাচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পুঁজিবাদের পরিবর্তে স্বজনতোষী পুঁজিবাদের আবির্ভাব দেখা যাচ্ছে। এতে ব্যক্তিবিনিয়োগ বাড়ছে না। অর্থনৈতিক সুশাসনের আরেকটি দিক আছে, সেটি হলো প্রতিটি সরকারেরই এক ধরনের পলিটিক্যাল ক্যাপিটাল থাকে। এর অর্থ হলো, সরকার একটা কিছু করতে চায়; কিন্তু তা করার জন্য সমাজের ভেতর থেকে সমর্থন আছে কিনা কিংবা তার সামর্থ্য আছে কিনা। সরকারের কিন্তু পলিটিক্যাল ক্যাপিটাল ছিল। যেমন- ১৫৩ জন সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিতর্কিত নির্বাচনে সরকারের এক ধরনের ব্যাখ্যা ছিল। ব্যাখ্যাটি এমন, আলোচ্য নির্বাচনে বিরোধীরা অংশগ্রহণ করেনি, ব্যাপক নাশকতা করেছে। সেজন্যই এ অবস্থা। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের প্রথম দিকে সেই বিরোধী শক্তির আবার নাশকতার একটি বিষয় ছিল। এখন তা নেই। কিন্তু এবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আরেকটি বার্তা দিচ্ছে। এখানে বোঝা যাচ্ছে, সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিপরীতে সরে যাচ্ছে। সরকারের পলিটিক্যাল ক্যাপিটাল ব্যবহার হওয়া উচিত বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারে; কিন্তু সেটি একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কাজেই মূলত ব্যবহার হচ্ছে। এর প্রতিফলন বরাদ্দেও দেখা যাচ্ছে। যেমন— জনপ্রশাসনের বরাদ্দ ৫৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এসডিজিকে মাথায় রেখে অথবা নিম্নমধ্যম আয় থেকে মধ্যমধ্যম আয়ে যাওয়ার কৌশল প্রণয়ন করতে হবে। বলা যায়, বরাদ্দ আছে, কৌশল নেই। ব্যয়ের দক্ষতার আলোচনা নেই; অর্থনৈতিক সুশাসনের প্রসঙ্গ অনুপস্থিত। কাজেই ব্যক্তিবিনিয়োগ বাড়ানোসহ সার্বিক অর্থনীতি চাঙ্গা করতে দুর্নীতি (বৈধ ও অবৈধ), অবকাঠামো ঘাটতি, অর্থনৈতিক সুশাসনের অভাব এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে। লেখক, অর্থনীতিবিদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, নির্বাহী চেয়ারম্যান, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)


Photo: Power and Participation Research Centre (PPRC) Power and Participation Research Centre (PPRC) Executive Chairman Hossain Zillur Rahman Thursday addressing a pre-conference press briefing held on Thursday in the city ahead of a two-day International Conference on Urban Poverty. Ambassador Liaquat Ali Choudhury, Dipankar Roy, Joint Director, BBS and Ashekur Rahman, Urban Development Specialist of UNDP, also seen.


The Power and Participation Research Centre or PPRC and Bangladesh Bureau of Statistics will start a two-day international conference on urban poverty in Dhaka tomorrow. Bangladesh as a whole made significant progress in rural poverty reduction, but unfortunately there are huge inequalities in urban areas, Hossain Zillur Rahman, executive chairman of the research centre, said at a media briefing at its office in Dhaka yesterday. PPRC and the statistical agency jointly started working on a study on urban poverty in 2012, and the findings of the study will be placed in the conference. About 70 national and international experts will take part in different sessions of the conference, on the premises of the Local Government Engineering Department in Sher-e-Bangla Nagar. The organisers will try to get some recommendations from the conference on how to reduce urban poverty, which will later be discussed with the government in an effort to cut inequality between the urban poor and rich people, said Rahman. The World Bank and the United Nations Development Programme are the partners of the event, for which WaterAid Bangladesh is a session partner, organisers said.


স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানী ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে নগর দারিদ্র্য বিষয়ক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন। আগামী ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে প্রায় ৮০ জন বিদেশী নগর বিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন। সম্মেলনে নগর দরিদ্রতা বিষয়ক সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত ও ফলাফল তুলে ধরা হবে। সুষম নগরায়ন ও নগরকেন্দ্রিক দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য থাকবে প্রয়োজনীয় দিকনিদের্শনাও। বিশ্বব্যাংক ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় পাওয়ার এ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ (পিপিআরসি) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ধানম-িতে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পিআিরসির নির্বাহী সভাপতি হোসেন জিল্লুর রহমান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ব্যুরোর যুগ্ম পরিচালক দীপঙ্কর রায়, বিবিএসের উপ-পরিচালক আলমগীর হোসেন, ইউএনডিপির আশেকুর রহমান। এ সময় হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অনেক সফলতা এসেছে গ্রামীণ দরিদ্রতা নিয়ে। তবে নগর দরিদ্রতার বিষয়টি ভিন্ন। এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৪৯ হাজার জন। মানুষ দ্রুত শহরের দিকে ধেয়ে আসছে। তবে নগর দরিদ্রতার অবস্থা নিয়ে তথ্যের অভাব রয়েছে। নগর নিয়ে যেসব চিন্তা হচ্ছে, তা এক ধরনের এলিট (সুশীল) কেন্দ্রিক; এখানে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজনীয় যা সবার জন্য কার্যকর। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে পিপিআরসির নতুন গবেষণালব্ধ গ্রন্থ ‘দ্য আরবান স্পেকট্রাম : মেট্রোপলিটন টু মফুসিল’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনটি মোট ৯টি সেশনে অনুষ্ঠিত হবে, এর মধ্যে প্রথম দিন ৪টি ও শেষদিন ৫টি। এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, নগরআইনজীবী, নগর ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি, এনজিও ও উন্নয়ন প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।

Interviews



অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দারিদ্র্য, সুশাসন, স্থানীয় সরকার, মানসম্মত শিক্ষা, টেকসই উন্নয়ন, নগরায়ণ ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নের কাজ করছেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপিআরসির প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে এর নির্বাহী চেয়ারম্যান। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের পরামর্শক, বাংলাদেশ ব্যাংক বোর্ডের সদস্য ও সার্ক পভার্টি কমিশনের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালে হোসেন জিল্লুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে তৈরি করা প্রথম দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রের খসড়ার প্রধান প্রণেতা ছিলেন। বাংলাদেশের নগরায়ণ, নগর ও গ্রামীণ দারিদ্র্য, দারিদ্র্য নির্ণয়ের সূচক, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এমএম মুসা ‘দি আরবান স্পেক্ট্রাম: মেট্রোপলিটন টু মফস্বল’ নামে আপনারা (পিপিআরসি) একটি বড় কাজ করেছেন। এর পেছনে কোন বিষয়টি কাজ করেছে? এর পেছনে দুটো বড় কারণ আছে। এক. আসলে নগরায়ণের প্রকৃতিটা এখনো বাংলাদেশে সেভাবে বড় করে অনুধাবন করা হয়নি, বিশেষ করে নীতিনির্ধারক মহলে। আমরা গ্রাম না শহর— এভাবে একটি বিভাজন টেনে আসছি। গবেষণা করতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি, এই যে শহর কিংবা নগরায়ণ বলছি; তাতেও বিভিন্ন স্তর রয়েছে। গ্রাম-শহরের বিভাজনটা আর বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। এটিকে আমরা বলছি গ্রাম-শহর কন্টিনিউয়াম। মানে হলো, গ্রামের মধ্যেও এখন নাগরিক ফ্যাশন। গ্রামের খাবার থেকে শুরু করে পোশাকের চাহিদায় নাগরিক চাহিদার ছাপ পড়েছে। তার পর আছে পৌরসভা। সেটি আবার অর্ধেক নগর, অর্ধেক গ্রাম। এর পর আছে আরেকটু বড় উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্র এবং জেলা পর্যায়ে ছোট শহর। তার পর জেলা পর্যায়ের বড় শহর। তার পর চট্টগ্রাম। সবশেষে ঢাকা। দেখা যাচ্ছে, গ্রাম-শহর বিভাজন আর নেই। নগরায়ণের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন নগর বাস্তবতা দাঁড়াচ্ছে, যেখানে ঢাকা হচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যাকে আমরা বলছি মেট্রোপলিটন। উল্লিখিত কাজের পেছনে নগরায়ণ কী ধরনের হচ্ছে, তার বাস্তবতাটা জোরালোভাবে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে আলোচ্য গবেষণায়। এটি শুধু নীতিনির্ধারকদের জন্য নয়, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক সবার জন্য। বাংলাদেশে অত্যন্ত দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। কিন্তু নগরায়ণের আসল চিত্র মানুষের জানা নেই। এবং নগর নিয়ে যেসব গবেষণা হয়েছে, তাতে এ বিষয়গুলো অতটা উঠে আসেনি। আবার নগর অর্থনীতির ধারণাগুলোও গবেষণায় আসেনি। নগর নিয়ে পরিকল্পনাবিদরা (প্ল্যানার) ও ভূগোলবিদরা কিছু কাজ করেছেন। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা তেমন কাজ করেননি। সেখানেও আমরা গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করেছি। যেমন— ঢাকার আয় কেমন। সেটি সাতক্ষীরার আয়ের মতো কিনা। এক্ষেত্রে বিভাজন আছে কিনা। এগুলো জানার একটি বিষয় ছিল। কাজেই নগরায়ণের ধরনটা কোন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে— এখানে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন ছিল। কারণ ঢাকার চিন্তাটা সাতক্ষীরায় প্রয়োগ করলে হবে না। অথবা সাতক্ষীরার বিষয়টি ঢাকায় করতে চাইলে ভুল হবে। এজন্য যে, দুটি একেবারেই ভিন্ন ধরনের বাস্তবতা। আমরা এটি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করেছি। এটি শুধু বলার বিষয় নয়, গবেষণারও বিষয়। এ কারণে আমরা গবেষণা করতে উদ্যোগী হয়েছি। সেজন্য আমরা চারটি স্তর— ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিটি করপোরেশনগুলো ও পৌরসভাগুলো বেছে নিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা কাজটা করেছি পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সঙ্গে পার্টনারশিপে। এক্ষেত্রে বিবিএসকে প্রভাবিত করতে চেয়েছি। কারণ এখনো বিবিএস তথ্যগুলো উপস্থাপন করছে রুরাল- আরবান ডিভাইডের পরিপ্রেক্ষিতে। তাদের বোঝাতে চেয়েছি, আসলে আরবান স্পেক্ট্রাম তাদেরও সার্ভের বিষয় হওয়া দরকার। দুই. নগরের বাস্তবতাটা বোঝার জন্য আমরা পরিবার পর্যায়ে যে ফোকাস দিয়েছি, সেটি বহুমাত্রিক। বিবিএস যে আদমশুমারি করে, সেখানে কিছু সামাজিক তথ্য পাওয়া যায়। আবার দারিদ্র্য নিয়ে হায়েস (ঐওঊঝ) যা করে, সেখান থেকে কিছু অর্থনৈতিক তথ্য পাওয়া যায়। তার মানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক তথ্য ভিন্ন ভিন্ন জরিপ থেকে আসে। কিন্তু তা একই পরিবারের ইন্টিগ্রেটেড তথ্য নয়। সামাজিক তথ্য আসছে এক পরিবার থেকে আর অর্থনৈতিক তথ্য আসছে আরেক পরিবার থেকে। ওই পরিবারের সামাজিক বা অর্থনৈতিক তথ্য যুক্ত (লিংক) করার আসলে কোনো সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে আলোচ্য গবেষণায় আমরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো একই প্রশ্নমালার অধীনে এনে দেখার চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি, যারা নগরে বসবাস করছেন তাদের একটি বহুমাত্রিক প্রশ্নমালার মাধ্যমে সার্বিক অবস্থা তুলে ধরার। এটি একটি সামগ্রিক (হলিস্টিক) অ্যাপ্রোচ। তিন. সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতি দারিদ্র্য কিছুটা কমেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় এটি কমেছে এবং সেটি প্রত্যাশিত। যদিও বাংলাদেশের ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ এখনো অতি দরিদ্র। কাজেই এখনো দারিদ্র্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। লক্ষণীয়, আসলে গ্রামীণ দারিদ্র্য কমছে। তবে দরিদ্র লোকজন এখন শহরে অবস্থান নিচ্ছে। এটি সত্য, নগরায়ণ দারিদ্র্য বিমোচনে একটি ভালো ভূমিকা পালন করে। তাই দেখা যায়, নগর দারিদ্র্যের হার গ্রামীণ দারিদ্র্যের তুলনায় কম। এখন প্রশ্ন করা যাক, মোট দরিদ্রের মধ্যে কতজন গ্রামে আর কতজন শহরে আছে? ১৯৯১-৯২ সালের এক জরিপে দেখা যায়, মোট দরিদ্রের মাত্র ১০ শতাংশ শহরে বাস করে। বাকি ৯০ শতাংশ গ্রামে বাস করে। কিন্তু ২০১০ সালের জরিপ বলছে, শহরে ৮০ শতাংশ দরিদ্রের বাস। তার মানে দারিদ্র্যের স্থানান্তর হচ্ছে। গ্রামে ছিল, এখন শহরমুখী হচ্ছে দরিদ্ররা। মজার বিষয়, শহরে বস্তিবাসীর বৃদ্ধির হার আরবান গ্রোথের চেয়ে বেশি। আরবান গ্রোথ ৩ শতাংশ হলে বস্তিবাসীর গ্রোথ তার চেয়ে ১-২ শতাংশ বেশি। তার মানে দারিদ্র্যের যে স্থানান্তরের সমস্যা, সেটি একটি বড় ধরনের ইস্যু। এবং তা নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরা জরুরি। এ ধরনের গবেষণা কি চালিয়ে যাবেন? হ্যাঁ, চালিয়ে যাব। ঢাকা নিয়ে ২০১২ সালেও একটি গবেষণা করেছি। আবার চলতি বছর (২০১৬) করেছি উল্লিখিত গবেষণা। ঢাকা নিয়ে ২০১২ এবং ২০১৬ সালে দুটো গবেষণাই করেছি আমরা। তিন বা পাঁচ বছরের মাথায় এসব জায়গায় আবার দৃষ্টি দেব, গবেষণা করব। দেখব যে, এই তিন বা পাঁচ বছরে ঢাকা কিংবা মফস্বলে কী পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনায় কি ভুল আছে? ভুল নয়, ঘাটতি আছে। নগর দারিদ্র্য নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই আমাদের নেই। মূলত পরিকল্পনা আছে গ্রামীণ দারিদ্র্য নিয়ে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো গ্রামকেন্দ্রিক। প্রাথমিক উপবৃত্তি গ্রামেই দেয়া হয়, ভিজিএফ দেয়া হয় গ্রামে। শহরে আছে শুধু ওএমএস। অনেক প্রোগাম গ্রামে আছে। শহরে নেই। শহরের প্রোগ্রাম যেমন— স্যানিটেশন। এর সমাধান গ্রামে একভাবে সম্ভব। কারণ সেখানে স্থানের সীমাবদ্ধতা (স্পেস কনস্ট্রেইন্ট) নেই। নগরে কিন্তু তার সমাধান ভিন্নভাবে করতে হবে। কাজেই চিন্তার মধ্যে একটি হলো ঘাটতি। আরেকটি হলো ভুল। ঢাকার সমস্যা দিয়ে মফস্বল শহরগুলোর সমস্যা সমাধান করা যাবে না। ঢাকায় নগর দারিদ্র্য বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, নগর ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। একটি সেগমেন্টের সঙ্গে আরেকটি সেগমেন্টের কোনো মিল নেই। এটিই নগর দারিদ্র্য বাড়ার কারণ। যেমন— এখানে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ভালো হলে অনেক স্যাটেলাইট শহর গড়ে উঠত। আমাদের নীতি-চিন্তার মধ্যে একটি বড় ধরনের ভ্রান্ত ধারণা আছে— বস্তিগুলো অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে, নগর দরিদ্ররা শুধু বসবাস করে না, তারা কাজও করে। তাদের অন্যতম চাহিদা হলো, তাদের কাজের জায়গা আর বসবাসের জায়গা কাছাকাছি থাকতে হবে অথবা সহজে পৌঁছানো যায় এমন অবস্থায় থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের এখানে ভালো গণপরিবহন ব্যবস্থা নেই। যেমন— কড়াইল বস্তি। গুলশান-বনানী এলাকার চালকের কাজ, আয়ার কাজসহ সব ছোট ছোট কাজের জন্য লোক ওখান থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন যদি বলা হয়, ওখান থেকে টঙ্গীতে তাদের সুন্দর আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তাহলে কালকেই আবার চলে আসবে তারা ওই এলাকায়। কারণ টঙ্গী থেকে ঢাকায় আসার ভালো ট্রান্সপোর্ট নেই। এ সুবিধা থাকলে তারা ঢাকায় বসবাস করতে চাইত না। এখানে নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রাখতে হবে, নগর দারিদ্র্যের সমস্যার সমাধান করতে হলে কাজ আর আবাসন হয় পাশাপাশি থাকতে হবে অথবা সহজেই পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো মেট্রোপলিটন সিটির জন্য একভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। আবার পৌরসভা ও মফস্বলগুলোর জন্য আলাদাভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। মফস্বল নিয়ে চিন্তার ঘাটতি আসলে ব্যাপক। ওখানে ভুল নয়, ঘাটতিটাই প্রধান। বহু বছর আগে এলজিইডি গ্রোথ সেন্টার স্ট্র্যাটেজি নামে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছিল। সেটি করা হয়েছিল মূলত অবকাঠামো দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এটি কোনো কাজেই দেয়নি। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে না করে অন্যখানে অবকাঠামো তৈরি করে দেয়া হয়েছে। সেটি চাহিদা চালিত ছিল না। ফলে সেটি হয়তো আর ব্যবহার হয়নি। এখন মফস্বল নিয়ে আমাদের খুব জোরালো পরিকল্পনা নিতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আসলে আমরা গ্রামীণ দারিদ্র্য কমাতে পেরেছি এক ধরনের টার্গেটেড প্রোগ্রাম দিয়ে। তবে নগর দারিদ্র্য মোকাবেলা করার ক্ষেত্রেও অবশ্যই টার্গেটেড প্রোগ্রামের ভূমিকা আছে। কিন্তু সেটি সীমিত। নগর দারিদ্র্য বাড়ার অন্যতম কারণ, নগরগুলো দরিদ্রবান্ধব নয়। আমাদের নগরনীতি ব্যাপকভাবে অভিজাতদের কথা মাথায় রেখে প্রণীত হয়। তাদের প্রয়োজনে নগর অবকাঠামোগুলো তৈরি হচ্ছে। এখানে ইতি টানা দরকার এবং এটি চূড়ান্ত অর্থে আত্মঘাতী। কারণ বিএমডব্লিউ নিয়ে যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থেকে তারাই ভোগান্তির শিকার হয়। এখন তারা পারলে উড়ে যাবে। আসলে এটি কোনো সমাধান নয়। গবেষণায় কেন নগর দারিদ্র্যকে গুরুত্ব দিলেন বেশি? নগর দারিদ্র্যের বিষয়টি সামনে আনার বড় কারণ, তাদের দৃশ্যমানতার অভাব। তাদের বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তথ্যে নেই। নীতিতেও নেই। নগরে যেসব প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, সবই অভিজাতকেন্দ্রিক। কাজেই নগর দারিদ্র্যের বিষয়টি দৃশ্যমান করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আরেকটি ইস্যু হলো, নাগরিক অধিকার। রাষ্ট্রীয় সংস্থার সামনে নগর দরিদ্ররা এক ধরনের বিপন্নতার জগতে বসবাস করে। প্রতিদিন খুন, জখম এটি বলছি না। তবে এক ধরনের অনিরাপত্তাবোধ সবসময় তাদের মধ্যে কাজ করে। হঠাত্ করে পুলিশ বলল, এখান থেকে সরে পড়ো। অথবা কিছু একটির মধ্যে পড়ে গেল। পুরো আলোচনার মধ্যে নাগরিক অধিকারের দিক থেকে কিছু বিষয় এনেছি। সেটি আবার টার্গেটেড প্রোগ্রামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত হবে না। এটি সার্বিক নগরায়ণের দিক থেকে দেখতে হবে। শুধু দরিদ্রদের নাগরিক অধিকার নয়, নগর বাসিন্দা সবার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। লক্ষণীয়, নগর অর্থনীতির বড় ক্ষেত্র হচ্ছে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে অনেকেই অবৈধ বলে ফেলে। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি সম্পূর্ণ বৈধ অর্থনীতি। কিন্তু অনানুষ্ঠানিকতাকে দোষ হিসেবে ধরা হয়। সব দেশেই এভাবে এগিয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় আমলাতান্ত্রিক চিন্তার মধ্যে অটোম্যাটিকলি ফেভার করা হয় এলিট, ফরমাল স্ট্রাকচারকে। ফলে তারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা অনেক কিছু পায়। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে অবৈধ চিন্তার করার যে নীতিপ্রবণতা, সেটিও দরিদ্রদের অনিশ্চয়তা তৈরির অন্যতম কারণ। এ বিষয়টি আমাদের ভিন্নভাবে দেখতে হবে। গ্রামীণ দারিদ্র্য কমার ক্ষেত্রে মাইক্রো ক্রেডিট বা সরকারি অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরে এটিকে কীভাবে দেখেন? এখানে অর্থায়ন কীভাবে হবে, সেটি নিয়ে চিন্তা একেবারেই হয়নি। এখানে করের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। ভালো সেবা পেলে মানুষ কর দিতে অবশ্যই আগ্রহী হয়। দেশে সেবা না দিয়ে কর নেয়ার একটি প্রবণতা আছে। এটি রোধ করতে হবে। আয়ে কেমন তফাত দেখলেন? আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা। মফস্বলে গড় আয় ঢাকার অর্ধেকেরও কম। ঢাকা, চট্টগ্রাম, মফস্বল এবং গ্রামভেদে আয়ের চারটি স্তর দেখি। ঢাকার আয় সবচেয়ে বেশি। মফস্বলের অন্তত দ্বিগুণ। মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে চট্টগ্রামের আয়। এটি হয়তো মফস্বলের গড় আয়ের চেয়ে একটু বেশি, অত বেশি নয়। যেমন— ঢাকার গড় আয় ৩৬ হাজার। এটি ২০১২ সালের হিসাব। আবার বৈষম্য সব জায়গায় আছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ঢাকায়। দেখা গেছে, উচ্চবিত্তের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ লোক ঢাকার প্রায় ৪৫ শতাংশ আয় ভোগ করে। নিম্নবিত্তের ৪০ শতাংশ লোক হয়তো আয় ভোগ করে ১৮ শতাংশ। মানে বৈষম্যের বিষয়টিও এখানে অনেক বেশি। এটি মূলত আয়ের দিক থেকে বৈষম্য। আবার বৈষম্যের অন্যান্য ধরনও আমরা দেখতে পাই। দারিদ্র্য নির্ণয়ের সূচকগুলো যুগোপযোগী আছে কি? দারিদ্র্য নির্ণয়ের সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। দারিদ্র্য নির্ণয়ের সূচকগুলো যুগোপযোগী নেই। আসলে দারিদ্র্যের সূচকগুলো এখন নতুন করে চিন্তা করতে হবে। উদাহরণ দেয়া যাক। যেমন— স্যানিটেশন। আমাদের একটি সূচক হলো, স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন আছে কিনা। এ সূচকে আমাদের অনেক অগ্রগতি ঘটেছে। তবে ঢাকায় এ বিষয় একটু ভিন্নতর। দেখা যায়, ঢাকায় বিশেষ করে বস্তি এলাকায় কয়েকটি পরিবারকে একটি ল্যাট্রিন শেয়ার করতে হয়। এমনকি ১০টি পরিবারও শেয়ার করছে একটি ল্যাট্রিন। স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা প্রশ্ন করা হলে উত্তর পাওয়া যাবে— হ্যাঁ। কিন্তু পরের ধাপে উত্তর পাওয়া যাবে, না। আরেকটি বিষয়, আবাসন/গৃহায়ণ। আবাসনের ক্ষেত্রে পাকা না ঝুপড়ি ধরনটা নিয়ে এখন পর্যন্ত সূচকটা ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু নগর বাস্তবতায় জিজ্ঞাসা করতে হবে, মাথাপিছু স্পেস। একজন কতটুকু আয়তনে বাস করছে। সেখানে দেখা যাবে যে, অনেক অপ্রশস্ত জায়গায় মানুষ বাস করছে। কাজেই সূচকগুলো বদলাচ্ছে। এর ধরনগুলো পাল্টাচ্ছে নিয়ত। বাস্তবতাটা এগিয়ে গেছে, সূচকগুলো রয়ে গেছে পেছনে। এটিকে আমরা বলছি, আউটডেটেড আরবান স্ট্যাটিসটিকস। আমরা বিবিএসের সঙ্গে পার্টনারশিপ করছি। এতে উভয় পক্ষই লাভবান হচ্ছি। তারা আমাদের নমুনা নির্বাচনে সহায়তা করছে, আমরা প্রশ্নমালা আরো হালনাগাদকরণে সহায়তা করছি। ধারণাগুলো পরস্ফুিট করছি। যেমন— স্পেক্ট্রামের ধারণা নিয়ে এসেছি। কাজেই এ ধরনের পার্টনারশিপ একটি বিশ্বাসযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য সহায়ক এবং কার্যকর নীতি প্রণয়ন করতে হলে এ তথ্যভাণ্ডার অত্যন্ত জরুরি। আশা করছি, এ জায়গায় পিপিআরসি এবং বিবিএসের পার্টনারশিপটা ভূমিকা রাখবে। সুযোগ-সুবিধা ভোগের ক্ষেত্রে কি অবস্থা? সেবার সূচকগুলোয় ঢাকার চেয়ে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে মফস্বল। জ্বালানি বিশেষ করে গ্যাসের সংযোগ নেই মফস্বলে। পিছিয়ে আছে বিদ্যুতে। বিদ্যুত্ সংযোগ আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে বলে, হ্যাঁ আছে। কয় ঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকে না? এর উত্তর যা এসেছে, তার তালিকা অনেক দীর্ঘ এবং হতাশাজনক। ঢাকায়ও এটি বড় ইস্যু। জ্বালানি, বিদ্যুত্, পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রতিটি সেবার সুযোগে সার্বিকভাবে মফস্বল অনেক পিছিয়ে। কিন্তু ঢাকায় ধনী-গরিব নির্বিশেষে জ্বালানির ক্ষেত্রে গ্যাস পায়, যা মফস্বলের চেয়ে ভালো বলা যায়। মফস্বলের আরেকটি ইস্যু কর্মসংস্থান। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে তথ্য ঘাটতি অনেক বেশি। আমাদের পরবর্তী গবেষণাকাজ হবে নগর অর্থনীতি নিয়ে। আমরা নগরের সেবামূলক অবস্থা কী, আয়ের একটি সাধারণ চিত্র তৈরি করেছি। তবে জোরালো তথ্যভাণ্ডার একেবারেই অনুপস্থিত। এমনকি অর্থনৈতিক শুমারিও। এগুলো সামগ্রিকভাবে আছে। কিন্তু সেখান থেকে নগর অংশ আলাদা করার যে গবেষণাকাজ, সেটি হয়নি। এটি আমরা বিবিএসকে প্রস্তাব করেছি। এখানেই বিবিএসের সঙ্গে আমাদের পরবর্তী পার্টনারশিপ হবে। তখন বাংলাদেশের নগর অর্থনীতির একটি চিত্রও ভালোভাবে তুলে আনতে পারব। নগরে যে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে, তা কীভাবে কমানো যায়? এ প্রশ্নের দু্ই ধরনের ব্যঞ্জনা আছে। ঢাকা শহরে নগর দারিদ্র্যের হার কত? আরেকটি হলো, মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঢাকা শহরে কতজন বাস করে? শেষোক্তটির নিরিখে বিবেচনা করলে দেখা যাবে, নিঃসন্দেহে নগর দারিদ্র্য বাড়ছে। এটি কীভাবে মোকাবেলা করব? গ্রামে যেভাবে মোকাবেলা করেছি, এখানে সেভাবে হবে না। নগরে তার সমাধান করতে হলে মফস্বল শহরে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। কীভাবে সেখানে কর্মসংস্থান করা যায়, তা চিন্তা করতে হবে। ঢাকার মতো বড় শহরগুলোয় মৌলিক সেবার অভিগম্যতা নিশ্চিত খুব গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামে পরিবহন অত গুরুত্বপূর্ণ নয়। শহরে এটি একদম লাইফলাইন। কারণ কাজে যেতে হবে। কীভাবে যাব— এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় সবাইকে। কাজেই নগর দারিদ্র্যের জন্য শুধু টার্গেটেড অ্যাপ্রোচ হলে হবে না, দরিদ্রবান্ধব নগরায়ণের চিন্তা করতে হবে। শুধু দরিদ্রবান্ধবও বলব না সাধারণবান্ধব পরিকল্পনা নিতে হবে। আমাদের বিভাজনে কয়েকটি ক্যাটাগরি রেখেছি। একটি হলো দরিদ্র। আরেকটি নিম্নমধ্যবিত্ত। ঢাকার মতো বড় শহরে দরিদ্রের সঙ্গে নিম্নমধ্যবিত্ত যোগ করলে তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়। নানা ঝুঁকির মধ্যেই এ নিম্নমধ্যবিত্তদের জীবনযাপন। নগরায়ণ গ্রামীণ দরিদ্রদের এক ধরনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ করে দিচ্ছে। কিন্তু আবার অনেক ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। উন্নতি বটে, তবে এতে জীবন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ দিক থেকে যে, হঠাত্ উচ্ছেদ। আবার স্বাস্থ্য-শিক্ষার সুযোগগুলো অত সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। উচ্ছেদ হলে কর্মসংস্থানটাও উচ্ছেদ হয়ে যায়। লক্ষণীয়, আবাসনজনিত গমনাগমের এক ভয়াবহ প্রবণতা রয়েছে। কত শতাংশ ঘর বদলিয়েছে— এ তথ্যগুলো আমাদের কাছে আছে। এটি একটি বাস্তবতা। এর কারণগুলোর মধ্যে কতগুলো সামাজিক বিষয়ও আছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বাড়িওয়ালার দুর্ব্যবহার। এমনিতেই আবাসনকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা আছে, তার ওপর রয়েছে ভাড়াজনিত অনিরাপত্তা। এটিও বড় ধরনের ইস্যু। গ্রামে ওনার অকুপেশন। থাকছে নিজেরা। মফস্বলেও ওনার হাউজিং আছে এখনো। মেগাসিটিগুলোয় যতই যাওয়া হবে, ততই ভাড়াজনিত অনিশ্চয়তা বাড়বে। এটি কমানোর জন্য শুধু টার্গেটেড প্রোগ্রাম নিলে হবে না, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। দেখা যাবে, আজকে একটি বস্তি উচ্ছেদ করলে কালকে আরেকটি গড়ে উঠবে। এটি নগরের ভূমির অব্যবস্থাপনারই ফল। নগর ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। এই সূত্র ধরে সমাধানের উপায় হিসেবে বলা হয়, সক্ষমতা বা সামর্থ্য বাড়ানো। আমাদের অনেক পৌরসভা আছে ১০০ বছরের পুরনো। তখন ছিল গুটিকয়েক মানুষ। এখন লক্ষ-কোটি মানুষ। ঢাকায় মানুষ কোটিরও বেশি হয়ে গেছে। শহরে একটি অংশ আরেকটি অংশের ওপর নির্ভরতা এত বেশি যে, একটিতে সমস্যা হলে অন্য অংশেও এর প্রভাব পড়ে। শহরগুলো হলো সমন্বিত বাস্তবতা (ইন্টিগ্রেটেড রিয়েলিটি)। উত্তরায় রাস্তা বন্ধ হলে এর প্রভাব শাহবাগেও পড়ে। শহরের সমন্বিত প্রকৃতি মাথায় রেখে স্থানীয় সরকারগুলো গড়ে ওঠেনি। যারা নীতি নির্ধারণ করে বা অ্যাডভোকেসিও করে, তারা কিন্তু শহরের সমন্বিত প্রকৃতি বোঝেননি। শহরগুলো সামলানোর জন্য ভিন্ন ধরনের সক্ষমতা-দক্ষতা দরকার। বিশেষ করে সমন্বিত প্রকৃতিটা বোঝা দরকার। নগর দারিদ্র্য বাড়ার অন্যতম কারণ হলো, এখানে বিশৃঙ্খলভাবে উন্নতির ধারণাগুলো আসছে। আরেকটি বিষয়, আমাদের শহরগুলোর জন্য বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। এখানে সেটি হয়নি। বরং আমরা উল্টো পথে হাঁটছি। আমি মনে করি, মফস্বলগুলো ঢাকার মতো বিশৃঙ্খল নগরায়ণের ধারায় পড়ার আগে এখানে একটি মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। আগে থেকে বিবেচনায় থাকতে হবে শহর কতখানি বাড়বে। এমন তো না যে, বিরামহীনভাবে বাড়বে। এক্ষেত্রে আগাম পরিকল্পনা নিতে হবে। আগাম পরিকল্পনার সুফলগুলো বিশ্বের অন্য দেশগুলো পাচ্ছে। অচিরেই মফস্বল নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা নেয়া দরকার। কিন্তু সেখানে তথ্যের ঘাটতি, চিন্তার ঘাটতি ব্যাপক। এসবের জন্যই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের মাধ্যমে আমরা (পিপিআরসি) একটি ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করেছি। শ্রুতিলিখন: হুমায়ুন কবির আলোকচিত্রী: রিচার্ড রোজারিও


সাক্ষাৎকার - হোসেন জিল্লুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়াবে শিক্ষিত বেকার। বুধবার তার নিজ কার্যালয় পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারে (পিপিআরসি) একান্ত সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, একই সঙ্গে গণতন্ত্র আর সুশাসনকে ছুটি দিলে চলবে না। সুষম উন্নয়ন চাইলে সুশাসনের বিকল্প নেই। দীর্ঘ এই সাক্ষাত্কারে তিনি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, বাজেট বাস্তবায়ন, উন্নয়ন, রাজনৈতিক পরিবেশসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক মানিক মুনতাসির। বাংলাদেশ প্রতিদিন : বিদায়ী বছরে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন ছিল। আর নতুন বছরের অর্থনীতি কেমন যাবে বলে আপনি মনে করেন? হোসেন জিল্লুর রহমান : বিদায়ী ২০১৫ বছরের পুরোটা সময় দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল ছিল। ফলে সরকার কোনো ধরনের চাপে পড়েনি। এ জন্য সরকারের মধ্যে বছর জুড়েই স্বস্তি ছিল। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় মানুষের জীবন ধারণের ব্যয় বেড়েছে অনেক গুণ। সে হারে মানুষের আয় বাড়েনি। শুধু তা-ই নয়, আয়ের চেয়ে ব্যয়ের গতি অনেক দ্রুত হারে বেড়েছে। ফলে সরকার স্বস্তিতে থাকলেও সাধারণ মানুষ সারা বছরই অস্বস্তিতে ভুগেছে। আসছে বছরও এর কোনো পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। আর নতুন বছরে অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। বা. প্র. : দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির বিষয়ে কিছু বলুন। হোসেন জিল্লুর : বিনিয়োগ পরিস্থিতি সারা বছরই ছিল স্থবির। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার বলছে পাবলিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। বলা হচ্ছে, পাবলিক খাতের বিনিয়োগ এখন মোট জিডিপির প্রায় ২৯ শতাংশ। কিন্তু সে অনুপাতে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার বাড়ছে না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। এটি অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যখন ১০০ টাকার প্রকল্প এক হাজার টাকার প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। খোদ পরিকল্পনা কমিশনও এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অযৌক্তিক প্রকল্পব্যয় কমিয়ে আনতে হবে। কেননা এর মাধ্যমে বৈধভাবে দুর্নীতি হচ্ছে। এটি বন্ধ করতে হবে। বা. প্র. : অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন এবং দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন। হোসেন জিল্লুর : সুষম উন্নয়ন চাইলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমান সরকার তো গণতন্ত্র ও সুশাসনকে একই সঙ্গে ছুটি দিয়েছে। এভাবে চললে কিন্তু অদূরভবিষ্যতে বাংলাদেশ বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে। গণতন্ত্র ও সুশাসনকে একই সঙ্গে ছুটি দিলে চলবে না। অনেক দেশই গণতন্ত্রকে ছুটি দিয়ে উন্নতি করেছে, করছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তারা সুশাসন আঁকড়ে ধরে কাজ করেছে, যেটি আমাদের দেশে হচ্ছে না। বলা হচ্ছে দেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর সুফল পেতে হলে এবং উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। বা. প্র. : সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি মূল্যায়ন করবেন কীভাবে? হোসেন জিল্লুর : বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল্যায়ন করতে হলে তা কমপক্ষে তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, যারা অর্থনীতির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বা আছেন তারা কতটা স্বস্তিতে ছিলেন। আরেকটি হচ্ছে, জনমানুষ কতটা স্বস্তির মধ্যে ছিল সে বিষয়। তিন নম্বর হচ্ছে, যেটি বলতে পারি, বাংলাদেশের যে মধ্যমেয়াদি আকাঙ্ক্ষা রয়েছে সেগুলো অর্জনে আমরা কত দূর এগিয়েছি। বিদায়ী বছরটা সরকার এক ধরনের স্বস্তিতে ছিল। কেননা এ সময় বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। এ ছাড়া আমাদের কৃষি খাতের বাম্পার উত্পাদন অব্যাহত ছিল এবং এখনো আছে। এ জন্য অর্থনীতিতে ওই ধরনের কোনো নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি হয়নি। অনেক দেশেই অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশে এর কোনো প্রভাব সেভাবে পড়েনি। বিদায়ী বছর অনেকগুলো বড় প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে সরকার। এটি একটি ভালো দিক। তবে এর চেয়েও বেশি, এর প্রচারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বা. প্র. : নিম্ন মধ্যম আয়ের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? হোসেন জিল্লুর : দেখুন, বর্তমানে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে। এখন শুধু পেটেভাতে খেয়ে-পরে বাঁচবে, মানুষ এমনটা আর ভাবছে না। মানুষের চাহিদার ধরন পাল্টে গেছে। এটি প্রমাণ করে যে আমরা উন্নতি করছি। কিন্তু সেসব চাহিদা পূরণ করতে না পারায় অস্বস্তি বাড়ছে। এর মাধ্যমে ধনী-গরিবের বৈষম্যটাও আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। মধ্যবিত্তদের মধ্যেই এখন আবার শ্রেণিবিন্যাস তৈরি হচ্ছে। মানুষের আয়ের গতিটা অক্ষুণ্ন রয়েছে। কিন্তু মানুষের আকাঙ্ক্ষা আর ব্যয় অনেক গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের অবস্থা খুবই খারাপ। তারা ধান-চালের দাম পাচ্ছেন না। সরকারও কিন্তু এ ক্ষেত্রে কার্যকর বা ব্যতিক্রমী কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের আয় খুব একটা বাড়েনি। আয়ের চেয়ে ব্যয়ের গতি বাড়ছে দ্রুত। শুধু গ্রামে নয়, শহরের মানুষের ব্যয় আরও বেশি বেড়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, খাদ্য, বাড়িভাড়াসহ অন্য সবগুলো খাতেই ব্যয় বাড়ছে হু হু করে। এখন বস্তির ছেলে-মেয়েরাও কোচিং সেন্টারে ভর্তি হচ্ছে। এটিও একটি উন্নতির লক্ষণ। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে নিম্ন মধ্যম আয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে এটি ভালো খবর। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, সুশাসন, মানব উন্নয়ন, সুশাসনসহ অন্য সূচকগুলোতে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। এসব নিশ্চিত করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কতটা সফলতা আসবে সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বা. প্র. : অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে সরকারের নেওয়া কৌশলগুলো কতটা সময়োপযোগী বলে আপনার মনে হয়। জিল্লুর রহমান : এখানে মধ্য মেয়াদে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের জন্য সরকারের কৌশলগত ব্যাপার কতটা কার্যকর সেটি দেখতে হবে। বাংলাদেশের মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করাটা বেশ কঠিন। বাংলাদেশ এক দশক ধরে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এটি একদিকে অর্জন। অন্যদিকে আমরা এখান থেকে আর ওপরেও উঠতে পারছি না। এর জন্য সব বড় বাধা হচ্ছে বিনিয়োগে স্থবিরতা। কেননা প্রায় এক দশক ধরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ওঠানামা করছে। আর সরকারি-বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ২৯ শতাংশ। এটিকে ৩৪ শতাংশে নিতে হবে। বিনিয়োগের কার্যকারিতা দেখাতে হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। সেটি হচ্ছে না। বা. প্র. : বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ভবিষ্যতে সবচেয়ে সমস্যা কী বলে আপনি মনে করেন? হোসেন জিল্লুর : বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘ মেয়াদে তিনটি বড় সমস্যা প্রতীয়মান হচ্ছে। এর একটি বিনিয়োগে স্থবিরতা। আরেকটি ২০১৬ সালের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হচ্ছে শিক্ষিত বেকার। অন্যটি হচ্ছে, অবাসযোগ্য শহর। বাংলাদেশের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠী না-খেয়ে থাকবে, এটি আজকের অর্থনৈতিক সংকটের চেহারা নয়। কারণ ওই জায়গায় আমরা অনেক শক্ত অবস্থানে চলে এসেছি। আজ সংকটটা অন্য রকম। যেমন এমএ পাস করে পিয়নের চাকরি করছে। এর মানে কী। আমরা শিক্ষার মূল্যায়ন করছি না। আবার কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে পারছি না। এতে প্রতিবছর যে ২০ লাখ শিক্ষিত যুবক-যুবতী শ্রম ও কর্মবাজারে ঢুকছে, এর একটা অংশ পাঁচ বা সাত লাখ বাইরে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাত। সেটিও কিন্তু সংকুচিত হচ্ছে। এই যে আন্দামান হয়ে যারা বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, তাদের বেশির ভাগই কিন্তু শিক্ষিত। এদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতও রয়েছে। তারা দেশে কাজ পাচ্ছে না। ফলে বিদেশে গিয়ে নিম্নমানের কাজ করতেও প্রস্তুত। শুধু তা-ই নয়, জীবন বাজি রেখে তারা কাজের সন্ধানে বিদেশে যাচ্ছিল। তাদের বেশির ভাগই কিন্তু কাজ পাচ্ছে না। এখানে একটি বিষয় খুব উদ্বেগজনক, ভারত বিশ্বের যে দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স আয় করে থাকে, এর মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে চতুর্থ। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে তারা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আয় করে থাকে, যা বাংলাদেশ ভারত থেকে আয় করতে পারে না। ভারতের লোকজন কোথায় কোথায় গিয়ে কাজ করছে। আয় করছে। আবার সেটি দেশে পাঠাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের অর্থকড়ি কর্মসংস্থানের একটা বড় অংশ বাংলাদেশিরা পাচ্ছে না। এটি ভারতসহ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এর মানে আমরা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারছি না। আবার শিক&#